লখনউতে ভবন নির্মাণ মানদণ্ড ও অগ্নি-নিরাপত্তা বিধি মেনে চলা নিশ্চিত করতে প্রশাসন ব্যাপক অভিযান শুরু করেছে। শহরের রেনেসাঁ হোটেলে অনুমোদিত ছাদ (রুফ) এলাকার কথিতভাবে বার হিসেবে ব্যবহারের ঘটনা সামনে আসার পর প্রশাসন ১২২টি হোটেল, ব্যাংকুয়েট হল এবং গেস্ট হাউসের বিরুদ্ধে বিস্তৃত তদন্ত শুরু করেছে। নিয়ম লঙ্ঘনের প্রমাণ মিললে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো সিল করার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি নির্মাণ বা পরিচালনার সময় কথিত অনিয়ম উপেক্ষা করেছেন এমন কর্মকর্তাদের ভূমিকাও তদন্ত করা হবে।
লখনউতে সাম্প্রতিক পরিদর্শনের সময় কর্মকর্তারা জানতে পারেন যে কয়েকটি প্রতিষ্ঠানে অনুমোদিত ভবন নকশা এবং বাস্তব নির্মাণ বা ব্যবহারের মধ্যে অমিল রয়েছে। রেনেসাঁ হোটেলের ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রশাসন অন্যান্য বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানও তদন্তের আওতায় আনে। এরপর সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোর যৌথ দল শহরের বিভিন্ন এলাকার হোটেল, ব্যাংকুয়েট হল এবং গেস্ট হাউসের নথিপত্র যাচাই শুরু করে।
তদন্তে ভবন নির্মাণের অনুমোদন, ব্যবহার পরিবর্তনের অনুমতি, অগ্নিনির্বাপণ বিভাগের অনাপত্তি সনদ (এনওসি), পার্কিং ব্যবস্থা, জরুরি বহির্গমন পথ, কাঠামোগত নিরাপত্তা এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় নথি পরীক্ষা করা হচ্ছে। যেসব প্রতিষ্ঠানে গুরুতর অনিয়ম ধরা পড়বে, তাদের বিরুদ্ধে সিলিংসহ আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রশাসনের দাবি, পুরো প্রক্রিয়া বিধি অনুযায়ী এবং নিরপেক্ষভাবে পরিচালিত হবে।
সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, তদন্ত শুধু হোটেল পরিচালকদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। যদি প্রমাণিত হয় যে কোনো কর্মকর্তা বিধিবহির্ভূতভাবে নির্মাণ বা পরিচালনার অনুমতি দিয়েছেন অথবা অনিয়ম উপেক্ষা করেছেন, তাহলে তাঁদের বিরুদ্ধেও বিভাগীয় ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। এ কারণে কয়েকজন কর্মকর্তার ভূমিকাও তদন্তের আওতায় আনা হয়েছে।
প্রশাসনের বক্তব্য, এই অভিযানের উদ্দেশ্য কোনো নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে লক্ষ্য করা নয়; বরং শহরে ভবন নিরাপত্তা মানদণ্ড এবং অগ্নি-নিরাপত্তা বিধির কঠোর বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা। দেশের বিভিন্ন স্থানে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে হোটেল ও বাণিজ্যিক ভবনে অগ্নিকাণ্ড এবং অন্যান্য দুর্ঘটনার ঘটনাকে বিবেচনায় রেখে নিরাপত্তা মানদণ্ডে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে।
হোটেল ও ব্যাংকুয়েট হল পরিচালকদের তাঁদের সব লাইসেন্স, এনওসি এবং ভবন-সংক্রান্ত নথি হালনাগাদ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। যেসব প্রতিষ্ঠানে ছোটখাটো ত্রুটি পাওয়া যাবে, তাদের নিয়ম অনুযায়ী সংশোধনের সুযোগ দেওয়া হতে পারে। তবে গুরুতর লঙ্ঘন ধরা পড়লে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
প্রশাসনিক কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, শহরে বিধিবহির্ভূতভাবে পরিচালিত কোনো বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানকে ছাড় দেওয়া হবে না। যৌথ তদন্ত অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং প্রয়োজন হলে আরও প্রতিষ্ঠানেরও তদন্ত করা হবে। নাগরিকদের নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। বর্তমানে রেনেসাঁ হোটেলকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া এই ঘটনা লখনউজুড়ে ভবন ও অগ্নি-নিরাপত্তা মানদণ্ডের পর্যালোচনার কারণ হয়েছে। ১২২টি হোটেল, ব্যাংকুয়েট হল ও গেস্ট হাউস তদন্তের আওতায় রয়েছে এবং তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে পরবর্তী ব্যবস্থা নির্ধারণ করা হবে। পাশাপাশি কর্মকর্তাদের ভূমিকার তদন্তের মাধ্যমে কোথাও বিধি লঙ্ঘন হয়ে থাকলে তার জন্য দায়ী ব্যক্তিদেরও চিহ্নিত করা হবে।













