লখনউয়ে ৪০ টাকার বান খেয়ে নিজেকে আইপিএস কর্মকর্তা দাবি করা যুবককে হেফাজতে নিল পুলিশ

লখনউয়ে একটি দোকানে প্রায় ৪০ টাকার বান খাওয়ার পর মূল্য পরিশোধে অস্বীকৃতি জানিয়ে নিজেকে আইপিএস কর্মকর্তা দাবি করা এক যুবককে পুলিশ হেফাজতে নিয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে তাঁর আইপিএস পরিচয়ের কোনো প্রমাণ মেলেনি এবং পুলিশ ঘটনার আরও তদন্ত করছে।
লখনউয়ে ৪০ টাকার বান খেয়ে নিজেকে আইপিএস কর্মকর্তা দাবি করা যুবককে হেফাজতে নিল পুলিশ
Photo Credit / Attribution: Google

লখনউয়ে নিজেকে আইপিএস কর্মকর্তা পরিচয় দেওয়া এক যুবককে পুলিশ হেফাজতে নিয়েছে। পুলিশের দাবি, ওই যুবক একটি দোকান থেকে প্রায় ৪০ টাকার বান খাওয়ার পর মূল্য পরিশোধ করতে অস্বীকার করেন এবং নিজেকে আইপিএস কর্মকর্তা বলে পরিচয় দেন।

জানা গেছে, দোকানদার ও যুবকের মধ্যে প্রথমে বাগ্‌বিতণ্ডা হয়। দোকানদার বারবার টাকা চাইলে যুবক দাবি করেন যে তিনি একজন বড় কর্মকর্তা এবং তাঁকে টাকা দিতে হবে না। অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি আশপাশে উপস্থিত লোকজনের সামনেও নিজেকে আইপিএস কর্মকর্তা বলে পরিচয় দেন এবং তাঁকে স্যালুট করার কথা বলেন।

ঘটনা বাড়তে থাকলে দোকানদার স্থানীয় পুলিশকে খবর দেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে যুবককে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে। জিজ্ঞাসাবাদের সময়ও তিনি নিজেকে আইপিএস কর্মকর্তা বলে দাবি করেন। তবে পরিচয়পত্র এবং কর্মস্থল-সংক্রান্ত নথি চাওয়া হলে তিনি কোনো সন্তোষজনক উত্তর দিতে পারেননি।

পুলিশ কর্মকর্তাদের মতে, প্রাথমিক তদন্তে যুবকের আইপিএস কর্মকর্তা হওয়ার কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। এরপর তাঁকে থানায় নিয়ে গিয়ে বিস্তারিত জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। পুলিশ এখন খতিয়ে দেখছে, তিনি আগে কখনও একই ধরনের পরিচয় দিয়ে মানুষকে প্রতারণা করে কোনো সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন কি না।

ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর এলাকায় লোকজন জড়ো হয়। অনেকেই জানতে আগ্রহ প্রকাশ করেন, কীভাবে একজন ব্যক্তি প্রকাশ্যে নিজেকে আইপিএস কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে মানুষের ওপর প্রভাব বিস্তার করার চেষ্টা করছিলেন। স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, দোকানদার পুলিশকে খবর না দিলে বিষয়টির সত্যতা হয়তো সামনে আসত না।

উত্তর প্রদেশ পুলিশ জানিয়েছে, যুবকের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি, তিনি অন্য কোনো স্থানে ভুয়া পরিচয় ব্যবহার করেছিলেন কি না, তাও তদন্ত করা হচ্ছে।

বর্তমানে যুবকের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। পুলিশের বক্তব্য, তদন্ত সম্পূর্ণ হওয়ার পরই স্পষ্ট হবে তিনি শুধুমাত্র প্রভাব বিস্তারের উদ্দেশ্যে নিজেকে আইপিএস কর্মকর্তা বলে পরিচয় দিচ্ছিলেন, নাকি এর পেছনে অন্য কোনো উদ্দেশ্য ছিল। ঘটনাটি নিয়ে এলাকাজুড়ে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।

এই ঘটনায় যুবকের ভুয়া আইপিএস পরিচয়ের দাবি পুলিশের প্রাথমিক তদন্ত ও অভিযোগের ভিত্তিতে করা হয়েছে। মামলার চূড়ান্ত অবস্থান তদন্ত ও আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পরই স্পষ্ট হবে।

Leave a comment