একসময় বাংলা ছবির পর্দায় তাঁর উপস্থিতিই ছিল দর্শকদের কাছে আলাদা আকর্ষণ। অভিনয়ের কেরিয়ার তখন মধ্যগগনে। জনপ্রিয়তার শিখরে থাকা সেই অভিনেত্রীকে মাত্র ২৭ বছর বয়সেই চলে যেতে হয়েছিল। তিনি মহুয়া রায়চৌধুরী। তাঁর অকালমৃত্যু বাংলা বিনোদন জগতের অন্যতম আলোচিত ঘটনাগুলির মধ্যে পড়ে। অগ্নিদগ্ধ অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর টানা ১০ দিন লড়াই করেছিলেন অভিনেত্রী। কিন্তু শেষ পর্যন্ত আর বাঁচানো যায়নি তাঁকে। তাঁর মৃত্যুকে ঘিরে আজও রয়ে গিয়েছে একাধিক প্রশ্ন।
‘দাদার কীর্তি’, ‘শ্রীমান পৃথ্বীরাজ’-এর নায়িকা
মহুয়া রায়চৌধুরী বাংলা সিনেমায় নিজের অভিনয়ের জোরে তৈরি করেছিলেন আলাদা পরিচয়। তাপস পালের সঙ্গে ‘দাদার কীর্তি’ ছাড়াও ‘শ্রীমান পৃথ্বীরাজ’-এর মতো জনপ্রিয় ছবিতে অভিনয় করে দর্শকদের মন জয় করেছিলেন তিনি।কেরিয়ারের অল্প সময়ের মধ্যেই নিজের অভিনয় প্রতিভার ছাপ রেখে গিয়েছিলেন মহুয়া। ফলে তাঁর অকালমৃত্যু বাংলা চলচ্চিত্র জগতে বড় শূন্যতা তৈরি করেছিল।
মাত্র ১৮ বছর বয়সে বিয়ে
অভিনয় জীবনের মাঝেই প্রেমিক তিলক চক্রবর্তীর সঙ্গে পালিয়ে বিয়ে করেছিলেন মহুয়া। তখন তাঁর বয়স মাত্র ১৮ বছর।১৯৭৬ সালে তাঁদের বিয়ে হয়। পরের বছর, ২৪ সেপ্টেম্বর মা হন অভিনেত্রী। ছেলের নাম রাখা হয় গোলা, ভালো নাম তমাল। ঘনিষ্ঠদের কথায়, ছেলের প্রতি মহুয়ার গভীর টানছিল। কাজের ব্যস্ততার মধ্যেও নাকি প্রায়ই ছেলের কথা বলতেন তিনি।
১৯৮৫ সালের সেই ভয়ঙ্কর রাত
১৯৮৫ সালে ঘটে যায় সেই মর্মান্তিক ঘটনা। অগ্নিদগ্ধ অবস্থায় মহুয়াকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। টানা ১০ দিন চিকিৎসার পরেও শেষরক্ষা হয়নি।প্রচলিত বর্ণনা অনুযায়ী, মৃত্যুর আগে মহুয়া জানিয়েছিলেন যে অসাবধানতাবশত তাঁর গায়ে আগুন লেগেছিল। কিন্তু পরবর্তী সময়ে এই ঘটনা নিয়ে নানা প্রশ্ন ওঠে।
স্টোভ ফাটার দাবি ঘিরেও প্রশ্ন
পরিবারের তরফে বলা হয়েছিল, ছেলের জন্য দুধ গরম করতে স্টোভের কাছে গিয়েছিলেন মহুয়া। সেখানেই স্টোভ ফেটে দুর্ঘটনা ঘটে বলে দাবি করা হয়।কিন্তু পরবর্তী তদন্ত ঘিরে কিছু অসঙ্গতির কথা সামনে আসে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। দাবি করা হয়, স্টোভে কেরোসিন ছিল না। অন্যদিকে মহুয়ার শরীরে কেরোসিনের গন্ধ পাওয়া গিয়েছিল বলেও বলা হয়। তাঁর শরীরে আঘাতের চিহ্ন ছিল বলে দাবি করা হয়। এমনকী তাঁর স্বামীর শরীরেও আঘাতের চিহ্ন থাকার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।এই তথ্যগুলিই পরবর্তীকালে তাঁর মৃত্যুকে ঘিরে রহস্য আরও বাড়িয়ে দেয়।
দাম্পত্য জীবন নিয়েও ছিল নানা কথা
মহুয়ার ব্যক্তিগত জীবন নিয়েও সেই সময় নানা আলোচনা ছিল। ঘনিষ্ঠদের দাবি, মৃত্যুর রাতেও স্বামীর সঙ্গে তাঁর বিবাদ হয়েছিল।তাঁদের দাম্পত্য সম্পর্ক দীর্ঘদিন ধরেই টানাপোড়েনের মধ্যে ছিল বলে দাবি করা হয়। পাশাপাশি অভিনেত্রীর জীবনে একাধিক ঘনিষ্ঠ পুরুষ বন্ধুত্ব নিয়েও টলিপাড়ায় আলোচনাছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।তবে এসব বক্তব্যের অনেকটাই সূত্র ও ঘনিষ্ঠ মহলের দাবি—তাই এগুলিকে নিশ্চিত তথ্য হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।
শেষ সময়ে ছেলের কথাই ভাবছিলেন?
মহুয়ার মৃত্যুর পর তাঁর ঘনিষ্ঠদের বক্তব্যে বারবার উঠে এসেছে ছেলে তমালের কথা। মৃত্যুশয্যাতেও নাকি ছেলের ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তিত ছিলেন অভিনেত্রী।তাঁর অকালপ্রয়াণের পর ছোট্ট ছেলেকে রেখে যেতে হয়েছিল তাঁকে। এই ঘটনাই তাঁর জীবনের শেষ অধ্যায়কে আরও মর্মস্পর্শী করে তোলে।
বাংলা সিনেমার জনপ্রিয় অভিনেত্রী মহুয়া রায়চৌধুরী মাত্র ২৭ বছর বয়সেই প্রয়াত হন। ১৯৮৫ সালের সেই অগ্নিদগ্ধ হওয়ার ঘটনা আজও নানা প্রশ্নের জন্ম দেয়। পরিবারের তরফে ঘটনাটিকে স্টোভ ফেটে দুর্ঘটনা বলা হলেও পরবর্তী তদন্ত ঘিরে উঠে এসেছিল একাধিক প্রশ্ন। ঘনিষ্ঠদের দাবি, মৃত্যুর আগে তাঁর দাম্পত্য জীবনেও টানাপোড়েন চলছিল। তবে ঘটনাটির প্রকৃত কারণ নিয়ে আজও নানা জল্পনা রয়েছে।










