মকর সংক্রান্তি মানেই নতুন ফসলের আনন্দ, পিঠে-পায়েসের গন্ধ আর উৎসবের আমেজ। বাঙালির ঘরে এই দিনে রান্নাঘরই হয়ে ওঠে উৎসবের কেন্দ্রবিন্দু। তাই শুধু সুস্বাদু পদ রান্না করলেই চলবে না, সেই রান্নাঘরকেও সাজাতে হবে বিশেষ নিয়ম মেনে—এমনটাই বলছে লোকবিশ্বাস ও সংস্কার।
সংক্রান্তির আগেই শুরু হোক শুদ্ধিকরণ
মকর সংক্রান্তির আগের দিন অবশ্যই বাড়ির সঙ্গে সঙ্গে রান্নাঘর ভালোভাবে পরিষ্কার করা জরুরি। এঁটো বাসন, উচ্ছিষ্ট খাবার বা নোংরা কিছু যেন রাতে পড়ে না থাকে—এই বিষয়ে বিশেষ সতর্ক থাকতে বলেন বয়স্করা। পরিষ্কার রান্নাঘরকে শুভ শক্তির প্রবেশদ্বার বলেই মনে করা হয়।
হলুদ ফুল ও আলপনায় ভরুক রান্নাঘর
সংক্রান্তিতে হলুদ রঙের বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। তাই রান্নাঘর সাজাতে ব্যবহার করুন গাঁদা বা অন্য হলুদ ফুল। পাশাপাশি চালের গুঁড়ো বা রঙিন আলপনা দিয়ে রান্নাঘরের প্রবেশপথ বা চুলোর পাশে নকশা আঁকলে উৎসবের আবহ আরও বাড়ে।
ঘুড়ির সাজে যোগ করুন উৎসবের রং
মকর সংক্রান্তি মানেই ঘুড়ি ওড়ানোর আনন্দ। এই উৎসবের প্রতীক হিসেবেই অনেক বাড়িতে কাগজের রঙিন ঘুড়ি দিয়ে সাজানো হয় ঘর। চাইলে রান্নাঘরের এক কোণেও ছোট ঘুড়ি বা ঘুড়ির মোটিফ ব্যবহার করে সাজাতে পারেন।
পিতল-তামার বাসনে রান্নার রীতি
লোকাচার অনুযায়ী সংক্রান্তির দিনে পিতল বা তামার বাসনে পিঠে-পায়েস রান্না করা শুভ বলে মনে করা হয়। এই ধরনের বাসন শুধু ঐতিহ্য নয়, স্বাস্থ্যগত দিক থেকেও উপকারী বলে মনে করেন অনেকে। তাই বিশেষ দিনে এই বাসন ব্যবহার করলে উৎসবের তাৎপর্য আরও বাড়ে।
প্রদীপ জ্বালিয়ে সম্পূর্ণ করুন আচার
সংক্রান্তির দিনে রান্নাঘরসহ বাড়ির বিভিন্ন কোণায় এবং অবশ্যই ঠাকুরঘরে প্রদীপ জ্বালানো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রদীপের আলোকে অশুভ শক্তির নাশ ও শুভ শক্তির আহ্বান হিসেবে দেখা হয়।
মকর সংক্রান্তিতে পিঠে-পায়েস যেমন বাঙালির ঘরে অপরিহার্য, তেমনই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে রান্নাঘরের সাজ ও শুদ্ধতা। শাস্ত্র ও লোকাচার মেনে রান্নাঘর সাজালে বিশ্বাস করা হয়, ঘরে আসে শুভ শক্তি ও সমৃদ্ধি। জেনে নিন সংক্রান্তির দিনে রান্নাঘর সাজানোর সঠিক নিয়ম।













