উচ্চশিক্ষা, কর্মজীবন এবং আর্থিক স্থিতিশীলতার কারণে এখন অনেকেই দেরিতে বিয়ে ও সন্তান নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন। কিন্তু সন্তান ধারণের ক্ষেত্রে শুধু নারীর বয়স নয়, পুরুষের বয়সও সমান গুরুত্বপূর্ণ। চিকিৎসকদের মতে, বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শুক্রাণুর মান ও সংখ্যা ধীরে ধীরে কমতে পারে, যা প্রজনন ক্ষমতার উপর প্রভাব ফেলতে পারে।
২০ থেকে ২৯ বছর: প্রজনন ক্ষমতার সেরা সময়
বিশেষজ্ঞদের মতে, ২০ থেকে ২৯ বছর বয়সের মধ্যে পুরুষদের শুক্রাণুর গুণমান, সংখ্যা এবং গতিশীলতা সাধারণত সবচেয়ে ভালো থাকে। এই সময়ে স্বাভাবিকভাবে সন্তান ধারণের সম্ভাবনাও তুলনামূলকভাবে বেশি থাকে।
৩০-এর পর শুরু হতে পারে ধীর পরিবর্তন
৩০ থেকে ৩৪ বছর পর্যন্ত অধিকাংশ পুরুষের প্রজনন ক্ষমতা ভালো থাকলেও কিছু ক্ষেত্রে শুক্রাণুর গুণমানে সূক্ষ্ম পরিবর্তন দেখা দিতে পারে। যদিও এই পরিবর্তন সাধারণত খুব বেশি চোখে পড়ে না, তবুও বয়সের প্রভাব ধীরে ধীরে শুরু হয় বলে মনে করেন চিকিৎসকরা।
৩৫ থেকে ৪৯ বছর: কমতে পারে শুক্রাণুর কার্যক্ষমতা
৩৫ বছর পার হওয়ার পর ধীরে ধীরে শুক্রাণুর গতিশীলতা (Motility) এবং টেস্টোস্টেরনের মাত্রায় পরিবর্তন দেখা দিতে পারে। ৪০ থেকে ৪৯ বছর বয়সে প্রজনন ক্ষমতায় আরও স্পষ্ট প্রভাব পড়তে পারে। কিছু গবেষণায় ইঙ্গিত মিলেছে যে, এই বয়সে জেনেটিক পরিবর্তনের ঝুঁকিও কিছুটা বাড়তে পারে।
৫০ বছরের পর কী হয়?
৫০ বছর অতিক্রম করার পর অনেকের ক্ষেত্রে শুক্রাণুর গুণমান ও কার্যকারিতা আরও কমে যেতে পারে। ফলে স্বাভাবিকভাবে সন্তান ধারণের সম্ভাবনা কমতে পারে। এছাড়া কিছু বৈজ্ঞানিক গবেষণায় বেশি বয়সে পিতৃত্বের সঙ্গে সন্তানের কিছু স্নায়বিক বা বিকাশজনিত সমস্যার ঝুঁকি বৃদ্ধির সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এই ঝুঁকি সব ক্ষেত্রে সমান নয় এবং অধিকাংশ ক্ষেত্রেই সুস্থ সন্তান জন্ম নিতে পারে।
জীবনযাত্রাও বড় ভূমিকা রাখে
শুধু বয়স নয়, জীবনযাত্রার ধরনও পুরুষদের প্রজনন স্বাস্থ্যের উপর গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলে। ধূমপান, অতিরিক্ত মদ্যপান, স্থূলতা, অতিরিক্ত জাঙ্ক ফুড, দীর্ঘস্থায়ী মানসিক চাপ, পর্যাপ্ত ঘুমের অভাব এবং কিছু ওষুধের প্রভাব শুক্রাণুর মান কমিয়ে দিতে পারে। নিয়মিত ব্যায়াম, সুষম খাদ্য এবং স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন প্রজনন ক্ষমতা ভালো রাখতে সাহায্য করতে পারে।
পরিবার পরিকল্পনার আগে কী করবেন?
যাঁরা তুলনামূলক বেশি বয়সে বাবা হওয়ার পরিকল্পনা করছেন, তাঁদের ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ। প্রয়োজনে সিমেন অ্যানালাইসিসসহ প্রজনন সংক্রান্ত কিছু পরীক্ষা করিয়ে নেওয়া যেতে পারে। এতে সম্ভাব্য সমস্যা আগেভাগে চিহ্নিত করা সম্ভব হয় এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা বা পরামর্শ নেওয়া সহজ হয়।
বর্তমানে অনেক দম্পতিই দেরিতে সন্তান নেওয়ার পরিকল্পনা করেন। তবে শুধু নারীদের নয়, পুরুষদের বয়সও প্রজনন ক্ষমতার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। চিকিৎসকদের মতে, নির্দিষ্ট বয়সের পর শুক্রাণুর গুণমান, গতিশীলতা এবং প্রজনন ক্ষমতায় পরিবর্তন আসতে শুরু করে। কী বলছেন বিশেষজ্ঞ, জেনে নিন বিস্তারিত।













