দিল্লির বুকে দাঁড়িয়ে কার্যত ভোটের দামামা বাজিয়ে দিলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সাংবাদিক বৈঠকে বিজেপিকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ জানিয়ে তাঁর স্পষ্ট বার্তা—গণতন্ত্রে বিশ্বাস থাকলে নির্বাচন কমিশন নয়, ভোটের ময়দানেই লড়াই হোক। একইসঙ্গে তিনি দাবি করেন, এসআইআর পর্ব বাংলার ভোটে কোনও প্রভাব ফেলতে পারবে না।
এসআইআর নিয়েই শুরু আক্রমণ
মমতার অভিযোগ, এসআইআর প্রক্রিয়ায় খসড়া ভোটার তালিকা থেকে লক্ষ লক্ষ নাম বাদ পড়েছে। তবে তা সত্ত্বেও বাংলার রাজনৈতিক বাস্তবতায় এর কোনও প্রভাব পড়বে না বলেই দাবি তৃণমূল নেত্রীর। তাঁর কথায়, ‘‘এইসব কৌশল বাংলার মানুষ ভালই বোঝেন।’’
বিজেপিকে সোজাসুজি বার্তা
বিরোধী শিবিরকে নিশানা করে মমতা বলেন,
“ক্ষমতা থাকলে গণতান্ত্রিক ভাবে লড়াই করুন। নির্বাচন কমিশনকে ব্যবহার করবেন না।”
তিনি স্পষ্ট জানান, দলের রণনীতি প্রকাশ্যে জানাবেন না, তবে তৃণমূলের অবস্থান একেবারেই পরিষ্কার—বাংলায় বিজেপির জায়গা নেই।
‘একলা চলব, জিতেই ফিরব’—মমতার আত্মবিশ্বাস
সাংবাদিক বৈঠক শেষে মমতার গলায় ছিল প্রবল আত্মবিশ্বাস। তিনি বলেন, ভোটে জিতে আবার দিল্লিতে ফিরবেন। তখন সাংবাদিকদের মিষ্টিও খাওয়াবেন—তবে রসিকতার সুরে যোগ করেন, “দিল্লির লাড্ডু নয়।”এই মন্তব্যেই স্পষ্ট, রাজনৈতিক লড়াইয়ের পাশাপাশি বার্তায় আস্থা রাখছেন নিজের দলের শক্তির উপর।
নির্বাচন কমিশন বৈঠক নিয়ে ক্ষোভ
প্রসঙ্গত, এসআইআর-এ ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে সম্প্রতি দিল্লি সফরে যান মমতা। মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে বৈঠকে অপমানের অভিযোগ তুলে সেই বৈঠক বয়কট করেন তিনি। এরপরই দিল্লিতে সাংবাদিক সম্মেলন করে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেন তৃণমূল নেত্রী।
বিধানসভা ভোটে তৃণমূলের রণনীতি কী?
আসন্ন বিধানসভা নির্বাচন নিয়ে প্রশ্ন উঠলে মমতা জানান, তৃণমূল একটি গণতান্ত্রিক দল। সাংসদ, বিধায়ক, ব্লক ও বুথ স্তরের নেতৃত্ব—সবাই মিলেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তবে শেষ কথা একটাই,“বাংলায় আমরা এক ইঞ্চি জমিও ছাড়ব না।”
দিল্লিতে সাংবাদিক বৈঠক থেকে বিজেপি ও নির্বাচন কমিশনকে কড়া বার্তা দিলেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এসআইআর প্রসঙ্গ থেকে শুরু করে আসন্ন বিধানসভা ভোট—সবকিছুতেই আত্মবিশ্বাসী মমতা স্পষ্ট জানালেন, বাংলায় তৃণমূল একাই লড়বে এবং এক ইঞ্চি জমিও ছাড়বে না।












