পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন ২০২৬-এ তৃণমূল কংগ্রেস (টিএমসি)-র বড় পরাজয়ের পর দলীয় প্রধান ও প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী Mamata Banerjee ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানিয়েছেন। নির্বাচনের ফল প্রকাশের কয়েক দিন পর অনুষ্ঠিত এক দলীয় বৈঠকে তিনি দাবি করেন, ভবিষ্যতে বিজেপিকে কেন্দ্রের ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দেওয়া হবে।
কলকাতার কালীঘাটে অবস্থিত বাসভবনে দলীয় বিধায়ক ও শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে বৈঠকের সময় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, তৃণমূল কংগ্রেস রাজনৈতিক লড়াই চালিয়ে যাবে এবং বিজেপির বিরুদ্ধে বিরোধী শক্তিগুলিকে ঐক্যবদ্ধ করবে।
এবার পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে ভারতীয় জনতা পার্টি ২০৭টি আসনে জয়লাভ করে। এর ফলে রাজ্যে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রায় ১৫ বছরের শাসনের অবসান ঘটে। অন্যদিকে, অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস ৮০টি আসনে সীমাবদ্ধ থাকে। বিশ্লেষকদের মতে, এই ফল পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে একটি বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
বৈঠকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, নির্বাচনী পরাজয়ের পরও তাঁর দল রাজনৈতিক লড়াই চালিয়ে যাবে। তিনি বিজেপির বিরুদ্ধে গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানের অপব্যবহার এবং রাজনৈতিক চাপ সৃষ্টির অভিযোগ তোলেন। তিনি আরও বলেন, ভবিষ্যতে দেশের রাজনীতিতে বড় পরিবর্তন দেখা যাবে এবং বিজেপিকে দিল্লির ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দেওয়া হবে।
![]()
তবে তিনি কোনও নির্দিষ্ট কৌশল বা বিরোধী জোটের রূপরেখা প্রকাশ করেননি। তাঁর এই মন্তব্যকে ২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচনের রাজনৈতিক প্রস্তুতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বৈঠকে তৃণমূল কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক Abhishek Banerjee-ও বিজেপির বিরুদ্ধে কড়া অবস্থান নেন। তিনি বলেন, রাজনৈতিক চাপ, তদন্তকারী সংস্থার পদক্ষেপ বা আইনি নোটিশে তাঁরা পিছিয়ে আসবেন না। বিজেপির বিরুদ্ধে তাঁদের রাজনৈতিক লড়াই পরিস্থিতি যাই হোক না কেন, অব্যাহত থাকবে বলেও তিনি জানান।
টিএমসি নেতারা পশ্চিমবঙ্গের বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী Suvendu Adhikari-কেও লক্ষ্য করে সমালোচনা করেন। দলীয় সূত্রের দাবি অনুযায়ী, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেন যে, দুর্নীতির অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও এমন নেতাদের ক্ষমতায় আনা হয়েছে। তবে বিজেপি এই অভিযোগকে রাজনৈতিক বক্তব্য হিসেবে বর্ণনা করেছে।
পশ্চিমবঙ্গ নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর রাজ্যের একাধিক এলাকায় রাজনৈতিক হিংসা ও সংঘর্ষের খবর সামনে এসেছে। কলকাতা, হাওড়া এবং অন্যান্য জেলায় দুই দলের কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের অভিযোগ উঠেছে। তৃণমূল কংগ্রেস দাবি করেছে, তাদের একাধিক কর্মী এবং দলীয় কার্যালয়কে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।












