নয়াদিল্লির সুপ্রিম কোর্টে এক অভূতপূর্ব দৃশ্য। আইনজীবীর মাধ্যমে নয়, নিজেই বিচারপতিদের সামনে দাঁড়িয়ে নিজের রাজ্যের অভিযোগ তুলে ধরলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। SIR সংক্রান্ত মামলায় তাঁর বক্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে তীব্র আলোড়ন তৈরি হয়েছে।
সুপ্রিম কোর্টে স্বশরীরে সওয়াল মুখ্যমন্ত্রীর
প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচি ও বিচারপতি বিপুল পাঞ্চোলির বেঞ্চে ৩৭ নম্বর মামলার শুনানিতে অংশ নেন মুখ্যমন্ত্রী। আদালতের অনুমতি নিয়ে বক্তব্য শুরু করে মমতা বলেন, “আমাদের আইনজীবীরা লড়াই করছেন, কিন্তু আমরা কোথাও বিচার পাচ্ছি না। আমি ছ’টি চিঠি লিখেছি, একটারও উত্তর পাইনি।”
ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়ার অভিযোগ
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আদালতে জানান, SIR প্রক্রিয়াকে কার্যত ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়ার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। বিশেষ করে—
বিবাহের পর পদবি পরিবর্তন করা মহিলারা
বাড়ি পরিবর্তন করা পরিবার
দরিদ্র মানুষজন যাঁরা ছোট ফ্ল্যাট কিনেছেন
তাঁদের নাম যথাযথ যাচাই ছাড়াই বাদ দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
‘লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি’-র অপব্যবহারের অভিযোগ
মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, আদালতের নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও ‘লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি’ সংক্রান্ত নিয়ম ভাঙা হচ্ছে। আধারকে বৈধ নথি হিসেবে গ্রহণ করার নির্দেশ থাকলেও বাংলায় তা মানা হচ্ছে না। একাধিক প্রয়োজনীয় নথিও গ্রহণ করা হচ্ছে না বলে অভিযোগ ওঠে।
‘বাংলাকে টার্গেট করা হচ্ছে’— তীব্র প্রশ্ন মমতার
মমতা সরাসরি প্রশ্ন তোলেন, “নির্বাচনের আগে এত তাড়াহুড়ো করে SIR কেন? শুধুমাত্র বাংলাতেই কেন এই প্রক্রিয়া? অসমে কেন নয়?”
নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন
মুখ্যমন্ত্রী অভিযোগ করেন, নির্বাচন কমিশন রাজ্যের উপর ‘বুলডোজার’ চালাচ্ছে। বলেন, “অন্য রাজ্যের জন্য এক নিয়ম, বাংলার জন্য আরেক নিয়ম কেন? এটা কি গণতন্ত্র রক্ষা?”
আদালতের পর্যবেক্ষণ
শুনানিতে সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট জানায়, কোনও জীবিত ভোটার যেন মৃত বলে বাদ না যান এবং কোনও বৈধ ভোটারের নাম যেন তালিকা থেকে বাদ না পড়ে—এটাই আদালতের অবস্থান। বেঞ্চ জানায়, সমস্যার সমাধানের পথ খোঁজাই তাদের লক্ষ্য।
SIR (Special Intensive Revision) মামলায় সুপ্রিম কোর্টে স্বশরীরে সওয়াল করলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আধার গ্রহণ না করা, বাংলাকে টার্গেট করা এবং ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়ার অভিযোগ তুলে নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি। মামলার পরবর্তী শুনানি সোমবার।











