অনলাইন গেমিং আর ভার্চুয়াল প্রেম—এই দুইয়ের মিশেলে তৈরি ‘কোরিয়ান লাভ গেম’ কি শিশুদের জন্য নীরব ঘাতক হয়ে উঠছে? গাজিয়াবাদের এক আবাসনে তিন বোনের একসঙ্গে মৃত্যুর ঘটনার পর সেই প্রশ্নই এখন সমাজজুড়ে। পুলিশের হাতে পাওয়া সুইসাইড নোটে উঠে এসেছে এই গেমের নাম, যা নতুন করে আতঙ্ক ছড়িয়েছে অভিভাবকমহলে।
কী ঘটেছিল গাজিয়াবাদে
রাত গভীর হলে গাজিয়াবাদের এক বহুতলের নবম তলায় ঘটে যায় ভয়াবহ ঘটনা। ১২, ১৪ ও ১৬ বছর বয়সি তিন বোন একসঙ্গে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যা করেছে বলে অভিযোগ। পরদিন পুলিশি তদন্তে ঘর থেকে উদ্ধার হয় একটি সুইসাইড নোট, যেখানে স্পষ্টভাবে ‘কোরিয়ান লাভ গেম’-এর উল্লেখ ছিল।
‘কোরিয়ান লাভ গেম’ আসলে কী
এই গেম কোনও সাধারণ মোবাইল গেম নয়। এটি মূলত অনলাইন রোম্যান্টিক, টাস্ক-ভিত্তিক একটি ভার্চুয়াল গেমিং অভিজ্ঞতা। ব্যবহারকারী এখানে একজন কল্পিত কোরিয়ান প্রেমিক বা সঙ্গী বেছে নেয়, যে নিয়মিত চ্যাট, আবেগঘন বার্তা ও নানা কাজের নির্দেশ দেয়। শুরুতে কাজগুলি সহজ হলেও ধীরে ধীরে তা মানসিকভাবে চাপ সৃষ্টি করে।
কেন শিশুদের জন্য বিপজ্জনক
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের গেম শিশুদের বাস্তব জীবন থেকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলে। ভার্চুয়াল চরিত্রের সঙ্গে তৈরি হয় গভীর মানসিক বন্ধন। অনেক ক্ষেত্রে গোপনীয়তা, আত্মবিচ্ছিন্নতা ও নিয়ন্ত্রণ হারানোর প্রবণতা দেখা যায়। কিছু রিপোর্টে দাবি, শেষ পর্যায়ের ‘টাস্ক’ বিপজ্জনক সিদ্ধান্তের দিকে ঠেলে দিতে পারে।
কোভিডের পর বেড়েছে আসক্তি
পুলিশি তদন্তে উঠে এসেছে, কোভিড-১৯ পরবর্তী সময়ে তিন বোনের মোবাইল ব্যবহার হঠাৎ বেড়ে যায়। স্কুলে যাওয়া বন্ধ হয়ে যায়, সামাজিক যোগাযোগ সীমিত হয়ে পড়ে। পরিবার ফোন কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করলেও আসক্তি কাটেনি।
অভিভাবকদের জন্য সতর্কবার্তা
মনোবিদরা বলছেন, সন্তান যদি অতিরিক্ত অনলাইন চ্যাটে ব্যস্ত থাকে, আচরণে হঠাৎ পরিবর্তন আসে বা বাস্তব জীবন থেকে দূরে সরে যায়—তাহলে তা অবহেলা করা বিপজ্জনক হতে পারে। সময়মতো নজরদারি ও খোলামেলা আলোচনা জরুরি।
গাজিয়াবাদে এক মর্মান্তিক ঘটনায় সামনে এল ‘কোরিয়ান লাভ গেম’-এর অন্ধকার দিক। অনলাইন রোম্যান্টিক টাস্ক-ভিত্তিক এই গেমে অতিরিক্ত আসক্ত হয়ে তিন নাবালিকা বোন আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে অভিযোগ। কী এই গেম, কীভাবে শিশুদের মানসিকভাবে প্রভাবিত করছে—তা নিয়েই বাড়ছে প্রশ্ন ও উদ্বেগ।












