স্ট্রিট ফুডের প্রতি টান যে কতটা ভয়ংকর রূপ নিতে পারে, তার জলজ্যান্ত উদাহরণ উঠে এল উত্তরপ্রদেশে। সপ্তম শ্রেণির এক স্কুলপড়ুয়া ছেলেকে রোজ মোমো খাওয়ানোর প্রলোভন দেখিয়ে ধাপে ধাপে বাড়ির গয়না হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে তোলপাড় স্থানীয় এলাকা। পরিবারের অজান্তেই প্রায় ৮৫ লক্ষ টাকার সোনার গয়না পাচার হয়ে যায়।
মোমোর নেশা থেকে অপরাধের ফাঁদ
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ওই নাবালকের নিয়মিত একটি মোমো স্টলে যাতায়াত ছিল। শুরুতে নগদ টাকায় মোমো কিনলেও পরে টাকা ফুরিয়ে গেলে স্টলচালকেরা নতুন প্রস্তাব দেয়—টাকার বদলে বাড়ি থেকে গয়না আনলে রোজ মোমো দেওয়া হবে। শিশুসুলভ বিশ্বাসেই সেই ফাঁদে পা দেয় নাবালক।
৮৫ লক্ষ টাকার গয়না কীভাবে গায়েব হল
ঘটনাটি সামনে আসে রবিবার, যখন ছেলেটির পিসি বাড়িতে রাখা গয়না চাইতে এসে আলমারি ফাঁকা দেখতে পান। জিজ্ঞাসাবাদে নাবালক জানায়, দেওরিয়া-কাশ্য সড়কের ডুমরি চৌরাহার একটি মোমো স্টলের সঙ্গে যুক্ত তিনজনের হাতে সে একে একে সোনার গয়না তুলে দিয়েছে।
পুলিশের তদন্ত ও গ্রেফতারি
পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে রামপুর কারখানা থানায় মামলা দায়ের হয় ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ধারা ৩০৫-এর অধীনে। তদন্তে নেমে পুলিশ দুই অভিযুক্ত—এক যুবক ও এক মহিলাকে গ্রেফতার করেছে। তাদের কাছ থেকে কিছু সোনার গয়নাও উদ্ধার হয়েছে। তবে ঘটনায় যুক্ত আরও এক অভিযুক্ত এখনও পলাতক, তার খোঁজে তল্লাশি চলছে।
পরিবার ও সমাজে প্রশ্ন
নাবালকের বাবা পেশায় বারাণসীর এক মন্দিরের পুরোহিত। তাঁর অভিযোগ, সন্তানের দুর্বলতাকে কাজে লাগিয়ে পরিকল্পিতভাবে অপরাধ সংঘটিত হয়েছে। এই ঘটনায় শিশুদের উপর স্ট্রিট ফুড বিক্রেতাদের প্রভাব ও নজরদারি নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।
উত্তরপ্রদেশের দেওরিয়া জেলায় এক চাঞ্চল্যকর ঘটনায় প্রকাশ্যে এল নাবালকের মোমো-আসক্তির ভয়াবহ পরিণতি। নিয়মিত মোমো খাওয়ানোর লোভ দেখিয়ে বাড়ির প্রায় ৮৫ লক্ষ টাকার সোনার গয়না হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে তিন স্টলচালকের বিরুদ্ধে। ঘটনায় দু’জন গ্রেফতার, একজন এখনও পলাতক।











