প্রাথমিকে ৩২ হাজার চাকরি: ৩ ডিসেম্বর কলকাতা হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ প্রাথমিকে ৩২ হাজার শিক্ষক-শিক্ষিকার চাকরি বহাল রাখার নির্দেশ দেয়। এই রায় জানার পর মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মালদহের গাজোল থেকে ফেরার পথে প্রতিক্রিয়া জানান। তিনি বলেন, মানবিক দিক বিবেচনা করে বিচারপতিরা সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, যা প্রশংসনীয়। দীর্ঘদিন ধরে চলা নিয়োগ বিতর্কে বহু পরিবার অনিশ্চয়তায় ছিলেন; রায়ের ফলে তাঁদের স্বস্তি মিলল। একই সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী ইঙ্গিত দেন, চাকরির অধিকার খেয়ে নেওয়ার প্রবণতা তিনি সমর্থন করেন না।
হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চের বড় নির্দেশ
দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের পর প্রাথমিকে ৩২ হাজার শিক্ষকের চাকরি বহাল রাখার নির্দেশ এসেছে। এর আগে সিঙ্গল বেঞ্চ চাকরি বাতিল করেছিল, যা নিয়োগ-দুর্নীতির অভিযোগের ভিত্তিতে দেওয়া হয়েছিল।ডিভিশন বেঞ্চ সেই রায় খারিজ করে জানিয়েছে, মানবিক দৃষ্টিকোণ এবং প্রক্রিয়াগত বাস্তবতা বিচার করে চাকরি টিকিয়ে রাখা হল।মামলাটি ২০২২ সাল থেকে বিভিন্ন স্তরে চলেছে এবং বহু পরিবার আইনি চাপের মধ্যে ছিলেন।
মুখ্যমন্ত্রীর প্রতিক্রিয়া: ‘চাকরি দেওয়া দরকার, খেয়ে নেওয়া নয়’
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, আদালতের প্রতি তাঁর পূর্ণ বিশ্বাস আছে। তিনি কারও বিরুদ্ধে মন্তব্য না করে বলেন, শিক্ষকরা চাকরি ফিরে পেয়েছেন—এটাই বড় স্বস্তি।মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, “কথায় কথায় আদালতে ছুটে গিয়ে চাকরি খেয়ে নেওয়ার চেষ্টা ঠিক নয়। চাকরি সৃষ্টি করা জরুরি, কেড়ে নেওয়া নয়।” তাঁর মতে, বিচারব্যবস্থা স্বাধীন এবং সরকার তা সম্মান করে।
নিয়োগ মামলার অভিযোগ ও পাল্টা দাবি
২০১৬ সালের টেট-ইন্টারভিউ প্রক্রিয়া নিয়ে মূল অভিযোগ ওঠে—
সংরক্ষণ নীতি মানা হয়নি
সিলেকশন কমিটি ছিল না
থার্ড-পার্টি এজেন্সি প্যানেল করেছে
অ্যাপটিটিউড টেস্টের গাইডলাইন নেই
কাট-অফ নম্বর প্রকাশে অস্পষ্টতা
শূন্যপদের বেশি নিয়োগ রাজ্য
সরকার দাবি করে, দুর্নীতির কোনও প্রমাণ নেই; কিছু বেনিয়ম থাকলেও তা সংশোধন করা হয়েছে।
মামলার টাইমলাইন: ২০২২ থেকে ২০২৫ পর্যন্ত দীর্ঘ পথ
১৩ সেপ্টেম্বর ২০২২: সিঙ্গল বেঞ্চে মামলা দায়ের
১২ মে ২০২৩: সিঙ্গল বেঞ্চ ৩২,০০০ চাকরি বাতিল করে
১৯ মে ২০২৩: ডিভিশন বেঞ্চ সেই নির্দেশে স্থগিতাদেশ দেয়
মে–জুন ২০২৩: মামলা যায় সুপ্রিম কোর্টে
২২ জুলাই ২০২৩: সুপ্রিম কোর্ট মামলা ফেরায় হাইকোর্টে
১২ নভেম্বর ২০২৫: ডিভিশন বেঞ্চে শুনানি শেষ
৩ ডিসেম্বর ২০২৫: ৩২ হাজার চাকরি বহালের রায় ঘোষণা
এই দীর্ঘ সময়সীমায় বহু শিক্ষকের পরিবার মানসিক ও আর্থিক অনিশ্চয়তায় ছিলেন।
রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও ভবিষ্যৎ বার্তা
এই মামলার সঙ্গে বিজেপি সাংসদ ও প্রাক্তন বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের নির্দেশ জড়িত থাকায় বিষয়টি রাজনৈতিক রং পায়। তবে মুখ্যমন্ত্রী কোনও রাজনৈতিক মন্তব্য করতে চাননি।আদালতের সিদ্ধান্তে নিয়োগপ্রক্রিয়ার অধ্যায় আপাতত শেষ হলেও স্বচ্ছতা নিয়ে বিতর্ক আগামী দিনেও চলতে পারে।
কলকাতা হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ প্রাথমিকে ৩২ হাজার শিক্ষক-শিক্ষিকার চাকরি বহালের নির্দেশ দিলে তা স্বাগত জানান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে আদালত বিষয়টি বিচার করেছে। পাশাপাশি ‘চাকরি দেওয়া দরকার, খেয়ে নেওয়া নয়’ মন্তব্যে নিয়োগ বিতর্কে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেন মুখ্যমন্ত্রী।









