লোকসঙ্গীতের সুরে যিনি একসময় মাতিয়ে রেখেছিলেন বাংলা, সেই শতায়ু শিল্পী মঙ্গলাকান্ত রায় এখন লড়ছেন অসুস্থতার সঙ্গে। বয়স ১০৫, তবুও জীবনের শেষ প্রান্তে এসে লড়াই থামেনি। আর এই কঠিন সময়ে মানবিকতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন ‘বাইক অ্যাম্বুল্যান্স দাদা’ নামে পরিচিত করিমূল হক।
হঠাৎ অসুস্থ, উদ্বেগে পরিবার
কয়েকদিন ধরেই জ্বর, কাশি ও শরীর ব্যথায় ভুগছিলেন মঙ্গলাকান্ত রায়। ধীরে ধীরে তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে থাকে, এমনকি খাওয়াদাওয়াও প্রায় বন্ধ হয়ে যায়। প্রথমে তাঁকে ময়নাগুড়ি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও, অবস্থার অবনতি হওয়ায় চিকিৎসকেরা দ্রুত জলপাইগুড়ি সুপার স্পেশ্যালিটি হাসপাতালে স্থানান্তরের পরামর্শ দেন।
মানবিকতার হাত বাড়ালেন করিমূল হক
এই খবর পাওয়া মাত্রই দেরি করেননি করিমূল হক। নিজের বাইক অ্যাম্বুল্যান্স নিয়ে ছুটে যান শিল্পীর বাড়িতে। পরিবারের সঙ্গে সমন্বয় করে তিনিই দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছে দেন মঙ্গলাকান্ত রায়কে। দুই পদ্মশ্রীপ্রাপকের এই মানবিক বন্ধন ইতিমধ্যেই প্রশংসা কুড়িয়েছে সর্বত্র।
আইসিইউতে ভর্তি, গুরুতর অসুস্থতা ধরা পড়ল
চিকিৎসকদের প্রাথমিক পরীক্ষায় জানা গেছে, শিল্পীর ঘাড়ের পাশে টিউমারজাতীয় সমস্যা দেখা দিয়েছে, যা ‘গ্ল্যান্ড টিবি’ হিসেবে চিহ্নিত। বর্তমানে তাঁকে আইসিইউতে রাখা হয়েছে এবং নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। বয়সজনিত কারণেও পরিস্থিতি বেশ জটিল বলেই জানিয়েছেন চিকিৎসকেরা।
লোকসংগীতের এক জীবন্ত ইতিহাস
মঙ্গলাকান্ত রায় শুধু একজন শিল্পী নন, তিনি বাংলার লোকসংগীতের এক জীবন্ত ইতিহাস। সারিন্দার সুরে তিনি গ্রামবাংলার মাটির গন্ধ তুলে ধরেছেন দেশ-বিদেশের মঞ্চে। পদ্মশ্রী সম্মানে ভূষিত এই শিল্পী আজও বহু মানুষের অনুপ্রেরণা।
মানবিকতার অনন্য নজির
এই ঘটনার মাধ্যমে আবারও প্রমাণিত হল, মানবিকতা এখনও বেঁচে আছে। করিমূল হক-এর এই উদ্যোগ শুধুমাত্র একজন মানুষকে সাহায্য করা নয়, বরং সমাজে এক শক্তিশালী বার্তা দেওয়া—মানুষের পাশে দাঁড়ানোই সবচেয়ে বড় দায়িত্ব।
জলপাইগুড়ির গর্ব, ১০৫ বছরের পদ্মশ্রীপ্রাপ্ত সারিন্দা শিল্পী মঙ্গলাকান্ত রায় হঠাৎ অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি। কঠিন সময়ে পাশে দাঁড়ালেন আরেক পদ্মশ্রীপ্রাপ্ত করিমূল হক, যিনি নিজেই পৌঁছে দিলেন হাসপাতালে।













