সাফল্য, খ্যাতি, ব্যস্ততা—সবকিছুই ছিল জীবনের অংশ। কিন্তু আচমকা একটি রোগ যেন তাঁর পরিচিত পৃথিবীটাই বদলে দিয়েছিল। ২০১২ সালে চতুর্থ পর্যায়ের ওভারিয়ান ক্যানসার ধরা পড়ে বলিউড অভিনেত্রী মনীষা কৈরালার। সেই সময় হাসপাতালের একটি রাত তাঁর কাছে হয়ে উঠেছিল জীবনের অন্যতম ভয়ঙ্কর অভিজ্ঞতা। মনে হয়েছিল, বুঝি জীবন শেষের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। দীর্ঘ চিকিৎসা ও কঠিন লড়াইয়ের পর অবশ্য ক্যানসারকে জয় করেন তিনি।
![]()
Guess the Actress: কে এই অভিনেত্রী?
এই অভিনেত্রী আর কেউ নন, বলিউডের অত্যন্ত পরিচিত মুখ মনীষা কৈরালা। দীর্ঘ অভিনয়জীবনে একাধিক জনপ্রিয় ছবিতে অভিনয় করে দর্শকদের মনে জায়গা করে নিয়েছেন তিনি। তবে কেরিয়ারের পাশাপাশি তাঁর জীবনের অন্যতম বড় অধ্যায় হয়ে রয়েছে ক্যানসারের সঙ্গে লড়াই।
২০১২ সালে ধরা পড়ে চতুর্থ পর্যায়ের ক্যানসার
২০১২ সালে মনীষার শরীরে চতুর্থ পর্যায়ের ওভারিয়ান ক্যানসার শনাক্ত হয়। খবরটি জানার পর স্বাভাবিকভাবেই ভেঙে পড়েছিলেন অভিনেত্রী। নিউইয়র্কে চিকিৎসা করাতে হয় তাঁকে। অস্ত্রোপচারের পাশাপাশি দীর্ঘ সময় ধরে কেমোথেরাপির মতো কঠিন চিকিৎসার মধ্য দিয়ে যেতে হয়।তবে সেই কঠিন সময় পেরিয়ে শেষ পর্যন্ত সুস্থ হয়ে ওঠেন মনীষা। ক্যানসারকে জয় করার পর ধীরে ধীরে অভিনয়েও ফিরেছেন তিনি।
হাসপাতালের সেই রাত ছিল ভয়ঙ্কর
সম্প্রতি এক পডকাস্টে নিজের সেই কঠিন সময়ের কথা বলতে গিয়ে মনীষা জানান, ক্যানসার ধরা পড়ার পর হাসপাতালের একটি রাত তাঁর জীবনে বিশেষভাবে ভয় ধরিয়ে দিয়েছিল। তখন তাঁর মনে হচ্ছিল, যে কোনও মুহূর্তে হয়তো জীবন শেষ হয়ে যেতে পারে।অভিনেত্রীর কথায়, সেই সময় চারপাশের পৃথিবী থাকলেও তিনি যেন নিজের মধ্যে এক গভীর অন্ধকার ও একাকীত্ব অনুভব করছিলেন। গুরুতর অসুস্থতার সময় মানুষের মানসিক অবস্থার যে কতটা পরিবর্তন হতে পারে, সেই অভিজ্ঞতাও তিনি ভাগ করে নিয়েছেন।
![]()
শুধু শরীর নয়, ভেঙে পড়ে মনও
মনীষার মতে, কঠিন রোগের সঙ্গে লড়াই করার সময় শুধু শারীরিক যন্ত্রণাই থাকে না, মানসিক চাপও প্রবল হয়ে ওঠে। অনেক মানুষের মাঝে থেকেও একজন অসুস্থ মানুষ নিজেকে ভীষণ একা মনে করতে পারেন।তাঁর নিজের ক্ষেত্রেও সেই ভয় ও অনিশ্চয়তা কাজ করেছিল। মৃত্যুর চিন্তা বারবার মনে আসত। কিন্তু পরবর্তীতে অসংখ্য মানুষের ভালোবাসা ও শুভকামনা তাঁকে কঠিন সময় পার করার শক্তি জুগিয়েছে।
অসুস্থতার পর বদলে যায় জীবনদর্শন
ক্যানসার থেকে সুস্থ হওয়ার পর নিজের জীবনযাপন নিয়েও নতুন করে ভাবতে শুরু করেন মনীষা। অভিনেত্রী জানিয়েছেন, অসুস্থ হওয়ার আগে তিনি নিজের স্বাস্থ্যের বিষয়ে অনেকটাই উদাসীন ছিলেন।কেরিয়ারের ব্যস্ততায় দিনের পর দিন কাজ করতেন। কখনও কখনও দিনে প্রায় ১৮ ঘণ্টা পর্যন্ত কাজ করতে হয়েছে তাঁকে। একসঙ্গে একাধিক ছবির কাজও চলত। অতিরিক্ত ব্যস্ততার কারণে নিজের জন্য সময় বের করা কঠিন হয়ে পড়েছিল।কিন্তু অসুস্থতার পর সেই জীবনযাত্রায় পরিবর্তন আনেন তিনি। অপ্রয়োজনীয় বিষয় থেকে নিজেকে দূরে রেখে স্বাস্থ্য, পরিবার এবং জীবনের মূল্যবান মুহূর্তগুলিকে বেশি গুরুত্ব দিতে শুরু করেন।
ক্যানসার জয় করে ফের অভিনয়ে
অসুস্থতার পরও থেমে থাকেননি মনীষা। ধীরে ধীরে অভিনয়ে ফিরে এসে ফের দর্শকদের প্রশংসা কুড়িয়েছেন তিনি। ‘ডিয়ার মায়া’, ‘সঞ্জু’-সহ একাধিক কাজে তাঁর অভিনয় নজর কেড়েছে।পরবর্তীতে ‘হীরামান্ডি: দ্য ডায়মন্ড বাজার’-এ মল্লিকাজান চরিত্রেও তাঁকে দেখা যায়। এই চরিত্রের মাধ্যমে নতুন প্রজন্মের দর্শকদের কাছেও ফের নিজের জায়গা শক্ত করেছেন অভিনেত্রী।
![]()
রুপোলি পর্দায় দীর্ঘ সফর
১৯৯১ সালে ‘সৌদাগর’ ছবির মাধ্যমে বলিউডে পা রাখেন মনীষা কৈরালা। এরপর ‘১৯৪২: এ লাভ স্টোরি’, ‘বোম্বে’, ‘খামোশি’, ‘গুপ্ত’, ‘দিল সে..’, ‘কোম্পানি’-র মতো একাধিক উল্লেখযোগ্য ছবিতে অভিনয় করেছেন তিনি।তাঁর অভিনয়জীবনে যেমন সাফল্যের গল্প রয়েছে, তেমনই ব্যক্তিগত জীবনে ক্যানসারের বিরুদ্ধে লড়াই তাঁর জীবনের অন্যতম বড় অধ্যায়। সেই কঠিন সময় পেরিয়ে আজ তিনি অন্যদের কাছেও লড়াইয়ের অনুপ্রেরণা হয়ে উঠেছেন।
![]()
একসময় চরম ব্যস্ততার মধ্যে দিনে প্রায় ১৮ ঘণ্টা কাজ করতেন বলিউড অভিনেত্রী মনীষা কৈরালা। কিন্তু ২০১২ সালে চতুর্থ পর্যায়ের ওভারিয়ান ক্যানসার ধরা পড়ার পর আচমকাই বদলে যায় তাঁর জীবন। হাসপাতালের সেই ভয়াবহ রাতের অভিজ্ঞতা এখনও তাঁকে আবেগপ্রবণ করে। কঠিন চিকিৎসার পর ক্যানসার জয় করে নতুনভাবে জীবনকে দেখার সিদ্ধান্ত নেন অভিনেত্রী।








