স্বাস্থ্যবিমা নীতি: কেন্দ্রীয় সরকারের ঘোষিত লক্ষ্য—২০৪৭ সালের মধ্যে দেশের প্রতিটি মানুষকে স্বাস্থ্যবিমার আওতায় আনা। কিন্তু বিমা সংস্থার আচরণ, ক্লেম রিজেকশন, জটিল অভিযোগ-প্রক্রিয়া ও পলিসির শর্তাবলীর অস্বচ্ছতার কারণে এই লক্ষ্য পূরণে বড় বাধা তৈরি হয়েছে। আগের প্রজন্ম বিমা সম্পর্কে তেমন সচেতন না হলেও চিকিৎসা খরচ বাড়ায় প্রয়োজনীয়তা এখন বহুগুণ বেড়েছে। তা সত্ত্বেও নতুন প্রজন্মের মধ্যে বিমা নিয়ে সন্দেহ বাড়ছে, যা কেন্দ্রের মহাপরিকল্পনাকে প্রশ্নের মুখে ফেলছে।

সর্বজনীন স্বাস্থ্যবিমা লক্ষ্য, পথে দানা বাঁধছে জটিলতা
কেন্দ্রীয় সরকারের স্বাস্থ্যবিমা নীতি অনুসারে ২০৪৭ সালের মধ্যে দেশের প্রতিটি নাগরিককে বিমার আওতায় আনা হবে। কিন্তু বিমা সংস্থার ভুলত্রুটি, ক্লেম পাসের ক্ষেত্রে অযথা জটিলতা সৃষ্টি এবং গ্রাহকের প্রতি অবিশ্বাসজনক আচরণ এই রূপরেখাকে দুর্বল করছে।গ্রাহকের কাছে স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা না থাকলে এই বড় লক্ষ্য বাস্তবায়ন কঠিন হয়ে পড়বে, বিশেষজ্ঞদের মত এমনই।
স্বাস্থ্যবিমার প্রয়োজনীয়তা বাড়লেও বিশ্বাসের সংকট গভীর
বর্তমানে চিকিৎসার খরচ যেভাবে বাড়ছে, তাতে স্বাস্থ্যবিমা একটি প্রয়োজনীয় সুরক্ষাবলয়। আগের দিনে হাসপাতাল খরচ কম থাকায় বিমা সম্পর্কে সচেতনতা ছিল কম, কিন্তু সময় বদলে এখন তা অপরিহার্য হয়ে উঠেছে।তবুও বিমা সংস্থার আচরণ, বিক্রির সময় বড় প্রতিশ্রুতি আর ক্লেম দেওয়ার সময় তদন্তের নামে বাধা তৈরি গ্রাহকের বিশ্বাস কমিয়ে দিচ্ছে।
পলিসির শর্তাবলী বদলে হচ্ছে বিভ্রান্তি
অনেকে অভিযোগ করেন, পুরনো পলিসির গুরুত্বপূর্ণ সুবিধা সময়ে সময়ে তুলে নেওয়া হয়। সূক্ষ অক্ষরে লেখা শর্তাবলী, অতিরিক্ত চার্জ এবং নিয়ম পরিবর্তনের কারণে গ্রাহকরা পড়েন বিপাকে।এই অস্বচ্ছতা ও জটিলতা নতুন ক্রেতাদেরও বিমা নিতে অনীহা তৈরি করছে, যা বাজারে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

অভিযোগ ব্যবস্থার জটিলতা আরও বাড়াচ্ছে সমস্যা
যদি গ্রাহক কোনও তথ্য ভুল দেন, তাহলে পলিসি বাতিল হয়—কিন্তু সংস্থার ভুল হলে ভোগান্তি ভোগ করতে হয় গ্রাহককেই।ইন্স্যুরেন্স ন্যায়পালের রিপোর্ট বলছে, অভিযোগের বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই সিদ্ধান্ত গ্রাহকের পক্ষে যায়, তবুও অনেক সংস্থা ন্যায্য দাবি মেটাতেও সময় নেয়, যা অসন্তোষ বাড়ায়।
সমাধানের পথ: স্বচ্ছতা ও শক্তিশালী নজরদারি
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ‘মোরাটোরিয়াম ধারা’ আরও শক্তিশালী করতে হবে যাতে পাঁচ বছরের পুরনো ক্লেমে অকারণে তদন্ত না হয়।ব্যাঙ্কিং খাতের সিবিলের মতো স্বাস্থ্যঝুঁকি সংক্রান্ত তথ্য সংরক্ষণের কেন্দ্রীয় ব্যবস্থা তৈরি করা উচিত। পাশাপাশি ন্যায়পাল অফিস বাড়ানো ও তাদের ক্ষমতা বৃদ্ধি গ্রাহকের আস্থাকে ফেরাতে সাহায্য করবে।

দেশের প্রতিটি নাগরিককে স্বাস্থ্যবিমার আওতায় আনার লক্ষ্য নিয়েছে কেন্দ্র, কিন্তু গ্রাহকের আস্থা কমে যাওয়ায় সেই লক্ষ্য নিয়ে তৈরি হয়েছে আশঙ্কা। চিকিৎসা খরচ দ্রুত বাড়লেও বিমা সংস্থার জটিল নিয়ম, ক্লেম রিজেকশন এবং পলিসি বদলের মতো সমস্যায় নতুন প্রজন্ম বিমা নিতে অনাগ্রহী হয়ে উঠছে।








