Money Making Tips: রাস্তার ধারের আগাছাই এখন ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’! আকন্দ ফুলের চাষে একবার বিনিয়োগ, বছরের পর বছর নিশ্চিত আয়

Money Making Tips: রাস্তার ধারের আগাছাই এখন ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’! আকন্দ ফুলের চাষে একবার বিনিয়োগ, বছরের পর বছর নিশ্চিত আয়

গ্রামের পরিত্যক্ত জমি বা রাস্তার ধারে দেখা যেত যে আকন্দ গাছ, আজ সেই ফুলই বদলে দিচ্ছে বহু পরিবারের ভাগ্য। একবার চারা বসালেই বছরের পর বছর ফলন—এই সহজ সমীকরণেই আকন্দ ফুলের চাষ এখন গ্রামবাংলার নতুন ‘মানি মেকিং মডেল’।

আগাছা থেকে অর্থকরী ফসল

এক সময় আকন্দ ফুলকে কেউ গুরুত্ব দিত না। অথচ আজ সেই ফুলই হাওড়ার ফুলবাজারে নিয়মিত যাচ্ছে। অল্প জল, কম সার আর প্রায় কোনও পরিচর্যা ছাড়াই এই গাছ বেড়ে ওঠে, যা একে অন্যান্য ফসলের তুলনায় অনেক বেশি লাভজনক করে তুলেছে।

সবজি ছেড়ে আকন্দ চাষে ঝুঁকেই সাফল্য

স্বস্তীপল্লী এলাকার এক চাষি আগে সবজি চাষ করলেও কাঙ্ক্ষিত লাভ পাচ্ছিলেন না। আত্মীয়ের পরামর্শে ভিন জেলা থেকে আকন্দের চারা এনে প্রথমে এক বিঘা জমিতে চাষ শুরু করেন। আজ সেই জমি বেড়ে দাঁড়িয়েছে চার বিঘায়, আর আয়ও হয়েছে বহুগুণ।

গ্রামের মহিলাদের হাতে কাজ, ঘরেই রোজগার

এই চাষের সবচেয়ে বড় সামাজিক দিক হল নারীস্বনির্ভরতা। প্রতিদিন সকালে গ্লাভস, চশমা ও মুখ ঢেকে ৫–৬ জন মহিলা ফুল তোলার কাজে নামেন। পরে সেই ফুল থেকেই মালা তৈরি হয় গ্রামের বাড়িতেই।

হাওড়ার বাজারে পৌঁছচ্ছে গ্রামের মালা

গ্রামে তৈরি হওয়া আকন্দ ফুলের মালা সরাসরি পৌঁছে যাচ্ছে হাওড়ার ফুলবাজারে। বিশেষ করে শিবরাত্রির আগে এই ফুলের চাহিদা তুঙ্গে থাকলেও, সারা বছরই বাজারে আকন্দের প্রয়োজন থাকে।

কম খরচ, দীর্ঘমেয়াদি লাভ

একবার চারা বসানোর পর গাছ বহু বছর টিকে যায়। ফলে প্রতি বছর নতুন করে বীজ বা চারা কেনার প্রয়োজন পড়ে না। এই কারণেই আকন্দ চাষে উৎপাদন খরচ কম এবং লাভের অঙ্ক অনেক বেশি।

একসময় অযত্নে বেড়ে ওঠা আকন্দ ফুল এখন গ্রামবাংলার নতুন অর্থকরী ফসল। অল্প খরচ, কম পরিশ্রম আর সারা বছরের চাহিদার জোরে আকন্দ চাষে স্বাবলম্বী হচ্ছেন কৃষক ও গ্রামের মহিলারা।

Leave a comment