সারাদিন বৃষ্টি, ঘরে স্যাঁতসেঁতে ভাব—আর তার জেরেই কাঠের দরজা খুলতে-বন্দ করতে শুরু করেছে ঝামেলা। কখনও চৌকাঠে ঘষা খাচ্ছে, আবার কখনও খুলতে গিয়ে ক্যাচক্যাচ শব্দ হচ্ছে। অনেকেই এমন পরিস্থিতিতে সঙ্গে সঙ্গে কাঠমিস্ত্রি ডেকে দরজা কেটে ফেলেন। কিন্তু সমস্যা যদি আর্দ্রতার কারণে সাময়িক ফুলে যাওয়ার হয়, তাহলে আগে কয়েকটি সহজ পদ্ধতি চেষ্টা করে দেখা যায়।
কেন বর্ষায় কাঠের দরজা ফুলে যায়?
কাঠ আর্দ্রতা শোষণ করতে পারে। বর্ষাকালে বাতাসে জলীয়বাষ্পের পরিমাণ বেড়ে গেলে কাঠের কিছু অংশ আর্দ্রতা টেনে নিয়ে সামান্য ফুলে উঠতে পারে। ফলে দরজা ও চৌকাঠের মাঝের ফাঁক কমে যায় এবং দরজা ঘষা খেতে শুরু করে।
হেয়ার ড্রায়ারের গরম বাতাস দিন
দরজার যে অংশটি ফুলে গিয়ে চৌকাঠে আটকে যাচ্ছে, সেখানে হেয়ার ড্রায়ার দিয়ে মাঝারি তাপে কিছুক্ষণ গরম বাতাস দিতে পারেন।এক জায়গায় দীর্ঘক্ষণ গরম বাতাস দেবেন না। কয়েক মিনিট পর পর জায়গা বদলান এবং দরজাটি আলতো করে খোলার চেষ্টা করুন। অতিরিক্ত তাপে কাঠের পালিশ বা রং ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
সামান্য আটকালেই মোম বা শুকনো সাবান
দরজা যদি খুব বেশি না ফুলে থাকে এবং শুধু চৌকাঠে ঘষা খায়, তাহলে ঘষা লাগার জায়গায় শুকনো মোমবাতি বা সাবান ঘষে দিতে পারেন।এতে পৃষ্ঠটি কিছুটা মসৃণ হয় এবং কাঠ ও চৌকাঠের মধ্যে ঘর্ষণ কমতে পারে। ফলে দরজা খোলা-বন্দ করা তুলনামূলক সহজ হয়।
বেশি আটকে গেলে স্যান্ডপেপার
দরজা শুকিয়েও যদি নির্দিষ্ট একটি জায়গায় বারবার আটকে যায়, তাহলে সূক্ষ্ম স্যান্ডপেপার দিয়ে সেই অংশটি অল্প অল্প করে ঘষে নিতে পারেন।একবারে অনেকটা কাঠ তুলে ফেলবেন না। সামান্য ঘষার পর দরজা লাগিয়ে পরীক্ষা করুন। প্রয়োজন হলে আবার অল্প ঘষুন। এতে পরে কাঠ স্বাভাবিক আকারে ফিরে এলে অতিরিক্ত ফাঁক তৈরি হওয়ার ঝুঁকি কমবে।
ক্যাচক্যাচ শব্দ হলে কবজা দেখুন
সবসময় দরজা ফুলে যাওয়াই শব্দের কারণ নয়। বর্ষায় দরজার কবজায় আর্দ্রতার কারণে জং বা ঘর্ষণ তৈরি হলেও ক্যাচক্যাচ শব্দ হতে পারে।এ ক্ষেত্রে কবজায় উপযুক্ত মেশিন অয়েল বা লুব্রিক্যান্ট অল্প পরিমাণে দিয়ে দরজাটি কয়েকবার ধীরে ধীরে খুলে-বন্দ করুন। বৈদ্যুতিক অংশ বা পালিশ করা কাঠে তেল ছড়িয়ে না দেওয়াই ভালো।
ঘরের আর্দ্রতা কমান
দরজা একবার ঠিক করলেই সমস্যা পুরোপুরি মিটবে না। ঘরের আর্দ্রতা বেশি থাকলে একই সমস্যা ফের হতে পারে।বৃষ্টি থামলে সম্ভব হলে জানালা খুলে বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা করুন। প্রয়োজন অনুযায়ী এক্সজস্ট ফ্যান বা ডিহিউমিডিফায়ার ব্যবহার করা যেতে পারে।দরজার কোনও অংশেকাঠ খোলা অবস্থায় থাকলে সেটি ভালোভাবে শুকিয়ে নিয়ে উপযুক্ত প্রাইমার, পেন্ট বা সিল্যান্ট দিয়ে সুরক্ষিত করাও কাজে আসতে পারে।
কখন কাঠ কাটানো দরকার?
যদি দরজা দীর্ঘদিন ধরে ঠিকমতো বন্ধ না হয়, কাঠে ফাটল, পচন বা গুরুতর বিকৃতি দেখা যায়, কিংবা হেয়ার ড্রায়ার ও সামান্য ঘষামাজাতেও সমস্যা না কমে, তখন কাঠমিস্ত্রির সাহায্য নেওয়াই ভালো।বিশেষ করে দরজাটি জোর করে টানাটানি করবেন না। এতে কবজা, লক বা দরজার কাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
বর্ষাকালে বাতাসে আর্দ্রতা বেড়ে যাওয়ায় কাঠের দরজা সামান্য ফুলে গিয়ে চৌকাঠে আটকে যেতে পারে। দরজা সঙ্গে সঙ্গে কাটাছেঁড়া না করে প্রথমে হেয়ার ড্রায়ার, মোম বা সাবান, স্যান্ডপেপার এবং কবজায় লুব্রিক্যান্ট ব্যবহারের মতো সহজ উপায় চেষ্টা করা যেতে পারে।













