ঘুম থেকে ওঠার পর সকালটা কীভাবে কাটাচ্ছেন, তার প্রভাব পড়তে পারে আপনার শরীর ও মনের উপর। দিনের শুরুতেই দীর্ঘক্ষণ না খেয়ে থাকা কিংবা ওজন কমানোর চেষ্টায় প্রয়োজনীয় পুষ্টি বাদ দেওয়া শরীরের স্বাভাবিক হরমোনের ভারসাম্যে প্রভাব ফেলতে পারে। পুষ্টিবিদ ঋজুতা দিবেকরের পরামর্শ অনুযায়ী, সকালের কয়েকটি সাধারণ ভুল এড়িয়ে চলাই হতে পারে কর্টিসল নিয়ন্ত্রণে রাখার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।
কর্টিসল আসলে কী?
কর্টিসল হল শরীরের একটি গুরুত্বপূর্ণ হরমোন, যা স্ট্রেস বা চাপের পরিস্থিতিতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে। দিনের বিভিন্ন সময়ে এর মাত্রা স্বাভাবিকভাবেই পরিবর্তিত হয়। সাধারণত সকালে কর্টিসলের মাত্রা তুলনামূলক বেশি থাকে এবং রাতের দিকে তা কমে আসে। তবে দীর্ঘস্থায়ী স্ট্রেস, অনিয়মিত জীবনযাপন ও কিছু শারীরিক সমস্যার ক্ষেত্রে কর্টিসলের ভারসাম্য বিঘ্নিত হতে পারে।
ব্রেকফাস্ট বাদ দেওয়ার অভ্যাস
ওজন কমানোর জন্য অনেকেই সকালের খাবার এড়িয়ে যান। কিন্তু দীর্ঘক্ষণ না খেয়ে থাকলে শরীরের উপর চাপ তৈরি হতে পারে। পুষ্টিবিদদের মতে, দিনের শুরুতে একেবারেই না খেয়ে থাকার পরিবর্তে পরিমাণমতো পুষ্টিকর ও ভারসাম্যপূর্ণ ব্রেকফাস্ট খাওয়া ভালো।সকালের খাবারে প্রোটিন, স্বাস্থ্যকর কার্বোহাইড্রেট ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় পুষ্টি রাখা যেতে পারে। এতে দীর্ঘক্ষণ পেট ভরা থাকার পাশাপাশি দিনের শুরুটাও তুলনামূলকভাবে ভালোভাবে করা সম্ভব।
কার্বোহাইড্রেট একেবারে বাদ দেওয়া
ওজন কমানোর চেষ্টায় অনেকেই ভাত, রুটি বা অন্যান্য কার্বোহাইড্রেট-সমৃদ্ধ খাবার পুরোপুরি বাদ দিয়ে দেন। তবে কার্বোহাইড্রেট শরীরের প্রয়োজনীয় শক্তির অন্যতম উৎস। তাই সুষম খাদ্যতালিকা থেকে একেবারে বাদ না দিয়ে পরিমাণমতো স্বাস্থ্যকর কার্বোহাইড্রেট খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়।বিশেষজ্ঞদের মতে, অত্যন্ত কড়া ডায়েট দীর্ঘদিন অনুসরণ করলে শরীরে পুষ্টির ভারসাম্য নষ্ট হতে পারে এবং মানসিক চাপও বাড়তে পারে। তাই শুধু ওজন কমানোর লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় খাবার পুরোপুরি বাদ না দেওয়াই ভালো।
ফল এড়িয়ে চলাও হতে পারে ভুল
ফলে প্রাকৃতিক শর্করা রয়েছে বলে অনেকে ওজন বাড়ার ভয়ে ফল খাওয়া বন্ধ করে দেন। তবে সাধারণভাবে স্বাস্থ্যকর খাদ্যতালিকায় পরিমাণমতো গোটা ফল রাখা উপকারী। কলা, আমের মতো মরশুমি ফল থেকে বিভিন্ন পুষ্টি ও ফাইবার পাওয়া যায়।ফলের ফাইবার অন্ত্রের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সাহায্য করে। তাই ওজন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টায় ফল একেবারে বাদ না দিয়ে ব্যক্তির শারীরিক প্রয়োজন অনুযায়ী পরিমাণমতো খাওয়া যেতে পারে।
কর্টিসল বেশি থাকলে কী ধরনের সমস্যা হতে পারে?
দীর্ঘদিন ধরে কর্টিসলের মাত্রা অস্বাভাবিকভাবে বেশি থাকলে শরীরে নানা ধরনের পরিবর্তন দেখা দিতে পারে। যেমন—
ওজন বেড়ে যাওয়া, বিশেষ করে পেটের চারপাশে চর্বি জমা
মুখের চারপাশে অতিরিক্ত মেদ দেখা দেওয়া
উদ্বেগ ও মানসিক চাপ বৃদ্ধি
মনোযোগে সমস্যা
পেশির দুর্বলতা
সামান্য পরিশ্রমেই অতিরিক্ত ক্লান্তি
ত্বক পাতলা হয়ে যাওয়া
সহজে কালশিটে পড়া
ক্ষত শুকোতে দেরি হওয়া
তবে এই উপসর্গগুলির কোনওটি দেখা দিলেই যে কর্টিসল বেড়েছে, এমনটা ধরে নেওয়া ঠিক নয়। দীর্ঘদিন ধরে সমস্যা থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

কর্টিসলকে সাধারণত ‘স্ট্রেস হরমোন’ বলা হলেও এর মাত্রা শরীরে স্বাভাবিকভাবেই ওঠানামা করে। তবে দীর্ঘদিনের মানসিক চাপের পাশাপাশি কিছু ভুল খাদ্যাভ্যাস ও সকালের রুটিনও সমস্যাকে বাড়িয়ে দিতে পারে বলে মত পুষ্টিবিদদের। বিশেষ করে ব্রেকফাস্ট বাদ দেওয়া, কার্বোহাইড্রেট একেবারে কমিয়ে দেওয়া এবং ফল এড়িয়ে চলার অভ্যাস নিয়ে সতর্ক করেছেন বিশেষজ্ঞরা।













