টোল প্লাজায় ফি না দিয়ে পার পাওয়ার দিন শেষ। জাতীয় মহাসড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে এবং টোল আদায়ে স্বচ্ছতা আনতে কেন্দ্রীয় মোটর যানবাহন নিয়ম, ১৯৮৯-এ গুরুত্বপূর্ণ সংশোধন করল ভারত সরকার। কেন্দ্রীয় মোটরযান (দ্বিতীয় সংশোধন) বিধিমালা, ২০২৬ কার্যকর হওয়ার ফলে এবার টোল বকেয়া থাকলে গাড়ি সংক্রান্ত একাধিক জরুরি পরিষেবা বন্ধ হয়ে যাবে।
কী বদলাল মোটরযান আইনে?
নতুন সংশোধনীতে প্রথমবারের মতো “অপরিশোধিত ব্যবহারকারী ফি” নামে একটি স্পষ্ট সংজ্ঞা যুক্ত করা হয়েছে।
এর অর্থ—
জাতীয় মহাসড়ক দিয়ে গাড়ি যাতায়াত করেছে
ETC (ইলেকট্রনিক টোল কালেকশন) সিস্টেমে সেই তথ্য নথিভুক্ত হয়েছে
কিন্তু জাতীয় মহাসড়ক আইন, ১৯৫৬ অনুযায়ী টোল পরিশোধ করা হয়নি
এই বকেয়াকেই ধরা হবে অপরিশোধিত ব্যবহারকারী ফি।
টোল বকেয়া থাকলে কোন কোন পরিষেবা মিলবে না?
নতুন নিয়ম অনুযায়ী, যদি কোনও গাড়ির বিরুদ্ধে টোল বকেয়া থাকে, তাহলে—
গাড়ির মালিকানা হস্তান্তর বা আন্তঃরাজ্য স্থানান্তরের জন্য NOC দেওয়া হবে না
ফিটনেস সার্টিফিকেট রিনিউ করা যাবে না
বাণিজ্যিক যানবাহনের ক্ষেত্রে জাতীয় পারমিট পাওয়াও অসম্ভব হবে
অর্থাৎ, টোল না মেটালে কার্যত গাড়ির প্রশাসনিক কাজকর্ম আটকে যাবে।
ফর্ম ২৮-এ বড় পরিবর্তন
এই সংশোধনের সঙ্গে সঙ্গেই ফর্ম ২৮ আপডেট করা হয়েছে।
এখন NOC-এর জন্য আবেদন করার সময় গাড়ির মালিককে—
ঘোষণা করতে হবে যে টোল প্লাজায় কোনও বকেয়া রয়েছে কি না
থাকলে তার সম্পূর্ণ বিবরণ দিতে হবে
এছাড়াও নির্ধারিত অনলাইন পোর্টালের মাধ্যমে ফর্ম ২৮ ইলেকট্রনিকভাবে ইস্যু করার ব্যবস্থাও চালু হয়েছে।
MLFF সিস্টেম চালুর প্রস্তুতি
সরকার জানিয়েছে, এই নিয়মগুলি ভবিষ্যতের Multi-Lane Free Flow (MLFF) টোল ব্যবস্থার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
এই প্রযুক্তির মাধ্যমে—
টোল প্লাজায় গাড়ি থামানো ছাড়াই
স্বয়ংক্রিয়ভাবে টোল আদায় করা যাবে
ফলে টোল ফাঁকি দেওয়ার সুযোগ প্রায় বন্ধ হয়ে যাবে।
কী বলছে সরকার?
সরকারি ব্যাখ্যায় জানানো হয়েছে, এই সংশোধনের মূল উদ্দেশ্য—
টোল আদায়ে স্বচ্ছতা
প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি
জাতীয় মহাসড়ক নেটওয়ার্কের উন্নয়ন ও রক্ষণাবেক্ষণে অর্থের ধারাবাহিকতা বজায় রাখা
২০২৫ সালের জুলাই মাসে খসড়া প্রকাশের পর প্রাপ্ত মতামত বিবেচনা করেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
জাতীয় মহাসড়কে টোল ফাঁকি রুখতে বড় সিদ্ধান্ত নিল কেন্দ্র সরকার। নতুন মোটরযান বিধি সংশোধন অনুযায়ী, যদি কোনও গাড়ির বিরুদ্ধে টোল বকেয়া থাকে, তাহলে সেই গাড়ির জন্য আর NOC, ফিটনেস সার্টিফিকেট রিনিউ কিংবা জাতীয় পারমিট দেওয়া হবে না। ইলেকট্রনিক টোল সংগ্রহ ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করাই এই সিদ্ধান্তের মূল লক্ষ্য।











