স্বাস্থ্য ভালো রাখতে প্রাকৃতিক উপাদানের উপর ভরসা বাড়ছে মানুষের। সেই তালিকায় নতুন করে গুরুত্ব পাচ্ছে তুঁত ফল। গ্রামবাংলায় সহজলভ্য এই ফলই নাকি শরীরের একাধিক সমস্যার প্রাকৃতিক সমাধান দিতে পারে—এমনটাই দাবি চিকিৎসকদের।
আয়ুর্বেদে তুঁতের বিশেষ গুরুত্ব
প্রাচীন আয়ুর্বেদ শাস্ত্র অনুযায়ী তুঁত ফলের স্বাদ মধুর ও অম্লরসযুক্ত। এটি শরীরের বায়ু ও পিত্ত দোষ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে এবং দাহনাশক ও কফনাশক হিসেবে কাজ করে। তাই বহু প্রাচীনকাল থেকেই এই ফলকে ভেষজ উপাদান হিসেবে ব্যবহার করা হয়ে আসছে।
কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ভূমিকা
বিশেষজ্ঞদের মতে, তুঁত ফলে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ধমনী পরিষ্কার রাখতে সাহায্য করে এবং খারাপ কোলেস্টেরল কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়। নিয়মিত পরিমিত পরিমাণে এই ফল খেলে হৃদরোগের ঝুঁকিও কমতে পারে।
হজমশক্তি বাড়ায়, কোষ্ঠকাঠিন্যে উপকারী
তুঁত ফল হালকা বিরেচক হিসেবে কাজ করে, ফলে হজম প্রক্রিয়া উন্নত হয়। যারা দীর্ঘদিন কোষ্ঠকাঠিন্যে ভুগছেন, তাদের জন্য এটি প্রাকৃতিক উপশম দিতে পারে।
সুগার নিয়ন্ত্রণেও সহায়ক
রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে তুঁত ফল উপকারী বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা। ডায়াবেটিস রোগীদের ক্ষেত্রেও পরিমিত পরিমাণে এই ফল খাওয়া লাভজনক হতে পারে (তবে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ জরুরি)।
রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ও রক্তশূন্যতা কমাতে সাহায্য
তুঁত ফলে প্রচুর ভিটামিন সি ও আয়রন থাকায় এটি ইমিউনিটি বাড়ায় এবং রক্তশূন্যতা দূর করতে সহায়ক। পাশাপাশি শরীর ঠান্ডা রাখতেও কার্যকর, বিশেষ করে গরমকালে।
গ্রামবাংলার অবহেলিত ‘সুপারফুড’
মালদহ-সহ বিভিন্ন জেলায় তুঁত গাছ মূলত রেশম শিল্পে ব্যবহৃত হলেও এর ফলের ব্যবহার এখনও সীমিত। অথচ চিকিৎসকদের মতে, সহজলভ্য এই ফল নিয়মিত খাদ্যতালিকায় রাখলে মিলতে পারে বহু উপকার।
Mulberry বা তুঁত ফল ভিটামিন সি, আয়রন ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্টে ভরপুর। এটি খারাপ কোলেস্টেরল কমাতে সাহায্য করে, কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে এবং রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে কার্যকর বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।













