মুর্শিদাবাদের কান্দি মহকুমা হাসপাতালে রোগী রেফার এবং পরিষেবা ঘাটতি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই অভিযোগ উঠছিল। এবার সেই পরিস্থিতি বদলাতে সরাসরি হাসপাতাল পরিদর্শনে গেলেন বিধায়ক গার্গী দাস ঘোষ। চিকিৎসক, নার্স এবং হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে নিয়ে বৈঠকে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, অপ্রয়োজনীয় রেফার বন্ধ করতে হবে এবং দালালচক্রের বিরুদ্ধে নেওয়া হবে কঠোর ব্যবস্থা।
রোগী ফেরানো যাবে না, বাড়াতে হবে পরিষেবা
হাসপাতাল ঘুরে দেখার পর বিধায়ক বলেন, কোনও রোগীকে অকারণে রেফার করা যাবে না। প্রয়োজনে বেডের সংখ্যা বাড়াতে হবে এবং স্থানীয় স্তরেই যত বেশি সম্ভব চিকিৎসা পরিষেবা দেওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে। তাঁর বক্তব্য, রোগীরা যাতে হয়রানির শিকার না হন, সেটাই এখন সবচেয়ে বড় লক্ষ্য।
চিকিৎসক-নার্সদের নিয়ে বৈঠক
এই ইস্যুতে হাসপাতালের সুপার রাজেশ চন্দ্র সাহা, সহকারী সুপার, চিকিৎসক এবং নার্সদের নিয়ে বৈঠক করেন বিধায়ক। সেখানে হাসপাতালের পরিষেবা আরও কীভাবে উন্নত করা যায়, তা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
কেন বাড়ছে রেফারের অভিযোগ?
স্থানীয়দের অভিযোগ, কান্দি মহকুমা হাসপাতালে পরিকাঠামো ও বেড বাড়ানো হলেও অনেক রোগীকেই শেষ পর্যন্ত বহরমপুর কিংবা বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজে পাঠানো হচ্ছিল। বারবার রেফারের কারণে ভোগান্তিতে পড়ছিলেন রোগী ও তাঁদের পরিজনেরা। এই অসন্তোষ বাড়তেই বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে নড়েচড়ে বসেছে প্রশাসন।
দালালচক্রের বিরুদ্ধে কড়া অবস্থান
বিধায়ক গার্গী দাস ঘোষ স্পষ্ট ভাষায় জানান, হাসপাতালের ভিতরে কোনওভাবেই দালালরাজ বরদাস্ত করা হবে না। রোগীদের চিকিৎসার নামে হয়রানি বা বিভ্রান্তির অভিযোগ পেলেই কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ কী বলছে?
হাসপাতালের সুপার রাজেশ চন্দ্র সাহা জানিয়েছেন, আগের তুলনায় রেফারের সংখ্যা ইতিমধ্যেই অনেকটা কমেছে। ভবিষ্যতে রোগীদের আরও ভালো পরিষেবা দেওয়ার জন্য হাসপাতাল প্রশাসন কাজ করবে বলেও তিনি আশ্বাস দিয়েছেন।
নতুন ভবন হলেও মেটেনি সমস্যা
কান্দি মহকুমা হাসপাতালের নতুন ভবন আগেই চালু হয়েছে। কিন্তু পরিষেবা নিয়ে অভিযোগ থেকেই গিয়েছিল। বিশেষ করে রোগী রেফার, চিকিৎসকদের অনিয়মিত উপস্থিতি এবং পরিকাঠামো ব্যবহারে নানা সমস্যা নিয়ে সাধারণ মানুষের ক্ষোভ ছিল। সেই পরিস্থিতি বদলাতেই এবার কড়া বার্তা প্রশাসনের।
অকারণে রোগী রেফার এবং হাসপাতালের দালালচক্র নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করলেন বিধায়ক গার্গী দাস ঘোষ। কান্দি মহকুমা হাসপাতাল পরিদর্শনে গিয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে স্পষ্ট নির্দেশ দেন— রোগী ফেরানো চলবে না, পরিষেবা উন্নত করতেই হবে।










