কলকাতার প্রাক্তন ডিসি শান্তনু সিনহা বিশ্বাসের বিরুদ্ধে জমি দখল ও বেআইনি নির্মাণ সিন্ডিকেট চালানোর অভিযোগে তদন্ত চালাচ্ছে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। সেই তদন্তেই সামনে এসেছে কোটি টাকার আর্থিক লেনদেনের তথ্য। মুর্শিদাবাদের কান্দিতে তাঁর নতুন বাড়ি নির্মাণ এবং সেই অর্থের উৎস ঘিরে এখন বাড়ছে রহস্য।
ইডির নজরে শান্তনুর ‘রাজপ্রাসাদ’
মুর্শিদাবাদের কান্দি পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের জেমো বিশ্বাসপাড়ায় রয়েছে শান্তনু সিনহা বিশ্বাসের পৈতৃক বাড়ি। তদন্তকারী সংস্থার দাবি, সম্প্রতি প্রায় ২.৫ কোটি টাকা খরচ করে বাড়িটি নতুনভাবে তৈরি করা হয়েছে। বিশাল আকারের এই বাড়িকে ঘিরেই এখন জোরদার তদন্ত চলছে।ইডির দাবি, বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে একাধিক মূল্যবান সামগ্রী, নথি এবং বহু মোবাইল নম্বর ব্যবহারের তথ্য মিলেছে। অভিযোগ, জমি দখল ও নির্মাণ চক্র চালাতে একাধিক সিম ব্যবহার করা হত।
তদন্তে উঠে এল দাউদ শেখের নাম
তদন্তে উঠে এসেছে বড়ঞা থানার কুলি এলাকার বাসিন্দা দাউদ শেখের নাম। তিনি স্থানীয়ভাবে ঠিকাদারি কাজের সঙ্গে যুক্ত বলে জানা গিয়েছে। ইডি সূত্রে দাবি, ব্যাঙ্ক ট্রান্সফারের মাধ্যমে শান্তনু সিনহা বিশ্বাসের সঙ্গে যুক্ত অ্যাকাউন্টে ২.৫ কোটি টাকা পাঠানো হয়েছিল।এই তথ্য প্রকাশ্যে আসতেই কান্দি ও বড়ঞা এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। যদিও দাউদ শেখ এই অভিযোগ পুরোপুরি অস্বীকার করেছেন।
জিজ্ঞাসাবাদের পর থেকেই ‘বেপাত্তা’ দাউদ
ইডি ইতিমধ্যেই দাউদ শেখকে দীর্ঘক্ষণ জিজ্ঞাসাবাদ করেছে। তদন্তকারীদের দাবি, জেরার পর থেকেই তাঁকে আর এলাকায় দেখা যাচ্ছে না। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, কান্দি পুরসভা ও ব্লকের বিভিন্ন ঠিকাদারি কাজের বরাত পেতেন তিনি।কুলির কাছে রামরামপুর এলাকায় তাঁর একটি পেভার ব্লক তৈরির কারখানাও রয়েছে। সেখানে প্রতিদিন বহু শ্রমিক কাজ করেন। তবে দাউদের বক্তব্য, ঋণ নিয়ে ব্যবসা চালাতে হয় এবং বিতর্কিত লেনদেনের সঙ্গে তাঁর কোনও যোগ নেই।
‘ব্ল্যাঙ্ক চেক’ তত্ত্বে নতুন মোড়
দাউদ শেখ দাবি করেছেন, শান্তনু সিনহা বিশ্বাসের বাড়ির কাজে যুক্ত থাকার সুবাদে তিনি নিজের প্রাপ্য টাকা পেয়েছিলেন। সেই সময় তাঁকে একটি ব্ল্যাঙ্ক চেক দেওয়া হয়েছিল বলেও দাবি তাঁর। তবে সেই চেক কীভাবে কোটি টাকার লেনদেনের সঙ্গে যুক্ত হল, তা নিয়েই এখন তদন্তকারীদের কৌতূহল বাড়ছে।ইডির দাবি, শান্তনুর ছেলের অ্যাকাউন্টেও এই অর্থ লেনদেনের সূত্র মিলেছে। ফলে আর্থিক লেনদেনের গোটা চক্র খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
রাজনৈতিক যোগ নিয়েও জল্পনা
শান্তনু সিনহা বিশ্বাসের পরিবার দীর্ঘদিন ধরেই এলাকায় পরিচিত রাজনৈতিক পরিবার হিসেবে পরিচিত। তাঁর বোন গৌরী সিনহা বিশ্বাস বর্তমানে কান্দি পুরসভার ভাইস চেয়ারম্যান। ফলে এই মামলায় রাজনৈতিক প্রভাব ও প্রশাসনিক যোগসাজশ নিয়েও নানা প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
জমি কেলেঙ্কারি মামলায় গ্রেফতার কলকাতা পুলিশের প্রাক্তন ডিসি শান্তনু সিনহা বিশ্বাসকে ঘিরে নতুন তথ্য সামনে আনল ইডি। তদন্তে উঠে এসেছে, মুর্শিদাবাদের এক ঠিকাদার দাউদ শেখ ব্যাঙ্ক ট্রান্সফারের মাধ্যমে ২.৫ কোটি টাকা পাঠিয়েছিলেন বলে অভিযোগ। সেই সূত্র ধরেই কান্দি ও বড়ঞা জুড়ে শুরু হয়েছে চাঞ্চল্য।











