জামাইষষ্ঠী মানেই জামাইয়ের পাতে আম, মিষ্টির সঙ্গে রসালো লিচুর বিশেষ কদর। কিন্তু সেই লিচুই যদি বাজারে না মেলে? দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুরে এখন ঠিক সেই আশঙ্কাই ঘুরপাক খাচ্ছে। বছরের এই সময়ে যেখানে লিচুর স্তূপে ভরে ওঠে কাছারি বাজার, সেখানে এবার আম ও জামরুলেই সীমাবদ্ধ বাজারের রং।
বৈশাখ শেষ, তবু বাজারে নেই বোম্বে লিচু
প্রতি বছর এপ্রিল-মে মাসে বারুইপুরের বাজারে ব্যাপক চাহিদা থাকে বোম্বে লিচুর। কিন্তু এবার বৈশাখ প্রায় শেষ হতে চললেও সেই পরিচিত লালচে লিচুর দেখা মিলছে না। বাজারে যা কিছু দেশি বা গোলা লিচু ছিল, তা-ও এখন শেষের পথে।
আবহাওয়ার খামখেয়ালিতেই কমেছে ফলন
কৃষকদের দাবি, এবারের শীত তেমন জাঁকিয়ে পড়েনি। কুয়াশাও ছিল কম। আর তারই প্রভাব পড়েছে লিচুর গাছে। বিশেষ করে বোম্বে লিচুর ফলন ব্যাপকভাবে কম হয়েছে বলে জানাচ্ছেন চাষিরা।বারুইপুরের একাধিক কৃষকের কথায়, লিচুর ভাল ফলনের জন্য নির্দিষ্ট আবহাওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু এ বছর সেই পরিবেশ না থাকায় অনেক গাছেই পর্যাপ্ত ফল ধরেনি।
আম ও জামরুলে ভরছে বাজার
লিচুর ঘাটতি থাকলেও বাজার কিন্তু একেবারে ফাঁকা নয়। এবার বারুইপুরে আম ও জামরুলের ফলন বেশ ভাল হয়েছে। ফলে ক্রেতাদের নজর এখন সেদিকেই বেশি।বর্তমানে বাজারে গোলাপখাস আম বিক্রি হচ্ছে প্রায় ১২০ টাকা কিলো দরে। পাইকারি বাজারে হিমসাগরের দাম ২৫ টাকা কিলো। এছাড়াও মধুবুলবুলি আম পাঁচ কিলোর পাল্লাপ্রতি ১৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। জামরুলের দামও বেশ চড়া, প্রায় ২০০ টাকা কিলো।
লালগোলা-কালিয়াচকের লিচুতেই ভরসা
স্থানীয় ব্যবসায়ীদের আশা, মে মাসের শেষের দিকে মুর্শিদাবাদের লালগোলা, মালদহের কালিয়াচক এবং বিহারের মুজফ্ফরপুর থেকে লিচু বাজারে ঢুকতে শুরু করবে। তখনই ফের জমে উঠবে লিচুর ব্যবসা।জামাইষষ্ঠীর মরশুমকে সামনে রেখে ব্যবসায়ীরাও এখন সেই অপেক্ষাতেই দিন গুনছেন। কারণ বাঙালির এই পারিবারিক উৎসবে লিচুর আলাদা গুরুত্ব রয়েছে।
বিস্তীর্ণ এলাকায় লিচু চাষ, তবু হতাশা
বারুইপুরের শিখরবালি, কল্যাণপুর, শঙ্করপুর, ধপধপি, বেলেগাছি, মদারাট ও বৃন্দাখালি-সহ একাধিক পঞ্চায়েত এলাকায় ব্যাপকভাবে লিচু চাষ হয়। প্রতি বছর এই সময়ে কাছারি বাজার এলাকা লিচুতে ভরে ওঠে।কিন্তু এবার ফলন কম হওয়ায় সেই চেনা ছবিতে পড়েছে ভাটা। ফলে চাষি থেকে ব্যবসায়ী— সকলের মুখেই এখন উদ্বেগের ছাপ।
গ্রীষ্মের মরশুম মানেই বারুইপুরের বাজারে রসে টসটসে লিচুর ভিড়। কিন্তু এবার ছবিটা একেবারেই আলাদা। বৈশাখ শেষের মুখে দাঁড়িয়েও বাজারে দেখা নেই বিখ্যাত বোম্বে লিচুর। আবহাওয়ার খামখেয়ালিপনায় ফলন কম হওয়ায় দুশ্চিন্তায় ব্যবসায়ীরা। যদিও মে মাসের শেষে লালগোলা ও কালিয়াচক থেকে লিচু আসতে শুরু করলে বাজার আবার চাঙ্গা হবে বলেই আশা।











