মুর্শিদাবাদে এসআইআর বিতর্ক: দুই তৃণমূল বিধায়কের নাম ‘আন্ডার অ্যাডজুডিকেশন’ তালিকায়, অনিশ্চয়তা ভোটে লড়াই নিয়ে

মুর্শিদাবাদে এসআইআর বিতর্ক: দুই তৃণমূল বিধায়কের নাম ‘আন্ডার অ্যাডজুডিকেশন’ তালিকায়, অনিশ্চয়তা ভোটে লড়াই নিয়ে

বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ার চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের পরই চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে মুর্শিদাবাদ জেলায়। প্রথম দফার ভোটার তালিকায় নাম নেই জেলার দুই তৃণমূল বিধায়কের। নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে, তাঁদের নাম বর্তমানে ‘আন্ডার অ্যাডজুডিকেশন’ বা বিবেচনাধীন তালিকায় রয়েছে।

জঙ্গিপুরের বিধায়কের নাম নেই তালিকায়

জঙ্গিপুরের তৃণমূল বিধায়ক জাকির হোসেন-এর নাম সদ্য প্রকাশিত তালিকায় অনুপস্থিত। তিনি জঙ্গিপুর পুরসভার ১৯ নম্বর ওয়ার্ডের এক বুথের ভোটার বলে জানা গিয়েছে। যদিও তাঁর স্ত্রীর নাম তালিকায় রয়েছে, তবে তাঁর পুত্র ও দুই কন্যার নাম নেই বলে ঘনিষ্ঠ সূত্রে খবর। উল্লেখযোগ্যভাবে, তাঁর পরিবারের সদস্যরা সুতি-২ ব্লকের ভোটার।

জলঙ্গির বিধায়কও ‘বিবেচনাধীন’

অন্যদিকে জলঙ্গির বিধায়ক আব্দুর রাজ্জাক-এর নামও ভোটার তালিকায় নেই। তিনিও ‘আন্ডার অ্যাডজুডিকেশন’ তালিকায় রয়েছেন। বিষয়টি স্বীকার করে তিনি জানিয়েছেন, তাঁর পরিবারের একাধিক সদস্যের নামও একই তালিকায় রয়েছে।

পদবি বিভ্রাটই কারণ? বিধায়কের দাবি

আব্দুর রাজ্জাক জানান, তাঁর বাবার নাম কৈফতুল্লা মণ্ডল হলেও তিনি নিজের পদবি ব্যবহার করেন ‘রাজ্জাক’। পদবি সংক্রান্ত বিভ্রাটের কারণেই এই জটিলতা তৈরি হয়ে থাকতে পারে বলে তাঁর অনুমান। সমস্ত প্রাসঙ্গিক নথি জমা দেওয়া হয়েছে এবং এসআইআর প্রক্রিয়ায় নিযুক্ত বিচারকরা দ্রুত বিষয়টির নিষ্পত্তি করবেন বলেই তিনি আশাবাদী।

মনোনয়ন জমার আগে সমাধান না হলে জটিলতা

বিশেষজ্ঞদের মতে, মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিনের আগে যদি নাম চূড়ান্ত তালিকায় না ওঠে, তবে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা নিয়ে আইনি জটিলতা তৈরি হতে পারে। যদিও বিধায়ক ঘনিষ্ঠরা আশাবাদী, পরবর্তী দফার তালিকায় এই সমস্যার সমাধান হবে।

দলের অভিযোগ, নথি যাচাইয়ে অসঙ্গতি

তৃণমূল কংগ্রেসের জেলা নেতৃত্বের দাবি, নির্বাচন কমিশন যে ১৩ ধরনের নথি গ্রহণযোগ্য বলেছিল, সেগুলির প্রয়োগে অসঙ্গতি দেখা গিয়েছে। কখনও মাধ্যমিকের অ্যাডমিট কার্ড গ্রহণ করা হয়েছে, কখনও তা বাতিল করা হয়েছে— এমন অভিযোগও সামনে এসেছে।

৯ মার্চ ফের তালিকা প্রকাশের সম্ভাবনা

এসআইআর প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত জেলা প্রশাসনের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, প্রকাশিত তালিকায় তিনটি পৃথক বিভাগ রয়েছে। ‘আন্ডার অ্যাডজুডিকেশন’ তালিকায় থাকা কেসগুলি এসডিও অফিসে বসে বিচারাধীন রয়েছে। আগামী ৯ মার্চ আরও এক দফা তালিকা প্রকাশ হতে পারে, যেখানে বহু নাম চূড়ান্ত তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হবে বলে আশা।

মুর্শিদাবাদ জেলার দুই তৃণমূল বিধায়ক— জাকির হোসেন ও আব্দুর রাজ্জাক-এর নাম সদ্য প্রকাশিত ভোটার তালিকায় নেই। তাঁদের নাম ‘আন্ডার অ্যাডজুডিকেশন’ বিভাগে থাকায় আগামী বিধানসভা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা নিয়ে তৈরি হয়েছে জল্পনা। তবে দলীয় সূত্র আশাবাদী, পরবর্তী তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্ত হবে।

Leave a comment