মুজফ্ফরপুরে ঝড় ও প্রবল বৃষ্টির মধ্যে এক সিআরপিএফ জওয়ানের বাড়িতে চুরির ঘটনা ঘটেছে। অভিযুক্তরা বাড়ি থেকে ১৫ লাখ টাকার বেশি নগদ অর্থ, গয়না এবং অন্যান্য মূল্যবান সামগ্রী নিয়ে পালিয়ে গেছে। ঘটনার পর এলাকায় আতঙ্কের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
জানা গেছে, ঘটনাটি ঘটে যখন এলাকায় প্রবল ঝড় ও বৃষ্টি চলছিল। খারাপ আবহাওয়া ও বিদ্যুৎ বিভ্রাটের সুযোগ নিয়ে চোরেরা বাড়িতে প্রবেশ করে। সকালে পরিবারের সদস্যরা চুরির বিষয়টি জানতে পারেন, এরপর এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের দাবি, বাড়ির তালা ভাঙা অবস্থায় পাওয়া যায় এবং ঘরের জিনিসপত্র ছড়িয়ে-ছিটিয়ে ছিল। আলমারি ও লকার থেকে সোনা-রুপোর গয়না, নগদ অর্থ এবং প্রয়োজনীয় নথি নিখোঁজ ছিল।
খবর পেয়ে বিহার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তদন্ত শুরু করে। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে প্রমাণ সংগ্রহ করেছে এবং আশপাশে লাগানো সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ খতিয়ে দেখছে।
স্থানীয়দের দাবি, ঝড় ও বৃষ্টির সময় অধিকাংশ মানুষ বাড়ির ভিতরে অবস্থান করছিলেন, যার সুযোগ নিয়েছে অপরাধীরা। কয়েকজন স্থানীয় রাতের সময় এলাকায় সন্দেহজনক গতিবিধি দেখার কথাও বলেছেন।
ক্ষতিগ্রস্ত সিআরপিএফ জওয়ান বর্তমানে দায়িত্ব পালনের জন্য বাইরে রয়েছেন বলে জানানো হয়েছে। ঘটনার খবর পাওয়ার পর তিনি পরিবারের কাছে পৌঁছানোর প্রস্তুতি নিচ্ছেন। চুরির খবরের পর পরিবারের সদস্যরা কান্নায় ভেঙে পড়েছেন।
জেলা পুলিশের বক্তব্য, ঘটনাটির গুরুত্ব বিবেচনায় তদন্ত করা হচ্ছে। পুলিশের সন্দেহ, ঘটনায় জড়িত অপরাধীদের বাড়ি ও পরিবারের গতিবিধি সম্পর্কে আগাম তথ্য থাকতে পারে।
পুলিশ ডগ স্কোয়াড ও ফরেনসিক দলের সহায়তায়ও তদন্ত চালাচ্ছে। ঘটনাস্থল থেকে পাওয়া ফিঙ্গারপ্রিন্ট ও অন্যান্য সূত্রের ভিত্তিতে অভিযুক্তদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে।
বিহারে সাম্প্রতিক সময়ে চুরির ঘটনার বৃদ্ধি দেখা যাচ্ছে। বিশেষ করে খারাপ আবহাওয়া ও বিদ্যুৎ বিভ্রাটের সময় অপরাধীরা সক্রিয় হয়ে উঠছে।
স্থানীয়রা রাতে পুলিশি টহল বাড়ানো এবং সংবেদনশীল এলাকায় নজরদারি জোরদারের দাবি জানিয়েছেন। তাঁদের বক্তব্য, ধারাবাহিক চুরির ঘটনায় এলাকায় ভয়ের পরিবেশ তৈরি হয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ঘটনাটি নিয়ে মানুষের ক্ষোভ দেখা গেছে। একাধিক ব্যবহারকারী আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তুলে দ্রুত অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন।
বিহার পুলিশ দাবি করেছে, দ্রুত অভিযুক্তদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তার করা হবে। সন্দেহজনক গতিবিধি সম্পর্কে দ্রুত প্রশাসনকে তথ্য দেওয়ার জন্যও পুলিশ সাধারণ মানুষের কাছে আবেদন জানিয়েছে।











