নদিয়ার শান্তিপুরের নতুন পাড়া জনকল্যাণ বুনিয়াদি শিক্ষালয়ে মিড-ডে মিল নিয়ে বিতর্ক ঘিরে উত্তেজনা ছড়িয়েছে। অভিযোগ, পড়ুয়াদের জন্য বরাদ্দ খাবার ব্যবহার করে স্কুলের মধ্যেই শিক্ষকদের জন্মদিন ও বিবাহবার্ষিকীর অনুষ্ঠান করা হচ্ছিল। যদিও এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে শিক্ষক ও মিড-ডে মিল কর্মীদের একাংশ। ঘটনার তদন্ত ও সত্যতা যাচাইয়ের দাবি তুলেছেন অভিভাবকরা।
মিড-ডে মিল নিয়ে স্কুলে চরম বিতর্ক
বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই স্কুলে বিশেষ রান্নার প্রস্তুতি চলছিল বলে অভিযোগ। স্থানীয় কয়েকজন রাঁধুনির দাবি, তাঁদের মিড-ডে মিলের জন্য রাখা মাংসের একটি অংশ আলাদা করে রাখতে বলা হয়েছিল। অভিযোগ, সেই খাবার শিক্ষকদের একটি ব্যক্তিগত অনুষ্ঠানে ব্যবহারের পরিকল্পনা ছিল।
শিক্ষক ও মিড-ডে মিল কর্মীদের পাল্টাপাল্টি অভিযোগ
ঘটনার পর পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। শিক্ষকদের একাংশের অভিযোগ, মিড-ডে মিল কর্মীরাই নিয়মিত খাবার সরিয়ে নিয়ে যান। অন্যদিকে মিড-ডে মিল কর্মীদের দাবি, বরং শিক্ষকরাই ছাত্রছাত্রীদের জন্য বরাদ্দ খাবার ব্যক্তিগত অনুষ্ঠানে ব্যবহার করেন। উভয় পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ তুললেও নিজেদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
অভিভাবকদের ক্ষোভ, তদন্তের দাবি
স্থানীয় অভিভাবকদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরেই মিড-ডে মিলের খাবারে গরমিলের ঘটনা ঘটছে। তাঁদের দাবি, যদি পড়ুয়াদের জন্য বরাদ্দ খাবার অন্য কাজে ব্যবহার হয়ে থাকে, তাহলে তার নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া উচিত। এই অভিযোগ প্রকাশ্যে আসতেই স্কুল চত্বরে বিক্ষোভ শুরু হয় এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ পৌঁছায়।
স্কুল কর্তৃপক্ষের বক্তব্য
ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক অনামিকা সাহা জানিয়েছেন, মিড-ডে মিলের খাবার চুরির অভিযোগ ভিত্তিহীন। তবে একটি অনুষ্ঠান উপলক্ষে বিশেষ রান্নার বিষয়টি তিনি স্বীকার করেছেন। তাঁর দাবি, শিক্ষকরা ছাত্রছাত্রীদের খাবার বাড়িতে নিয়ে যান না এবং অভিযোগের সত্যতা নেই।
মিড-ডে মিল ব্যবস্থাপনা নিয়ে নতুন আলোচনা
এই ঘটনার মধ্যেই কলকাতা পুরনিগম এলাকার সরকারি বিদ্যালয়গুলিতে মিড-ডে মিল সরবরাহের দায়িত্ব ইসকনকে দেওয়ার সরকারি ঘোষণাও নতুন করে আলোচনায় এসেছে। যদিও শান্তিপুরের এই ঘটনার সঙ্গে সেই সিদ্ধান্তের কোনও প্রত্যক্ষ সম্পর্ক নেই, তবুও মিড-ডে মিল ব্যবস্থার স্বচ্ছতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
নদিয়ার শান্তিপুরের একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মিড-ডে মিলের খাবার ব্যবহার করে শিক্ষকদের জন্মদিন ও বিবাহবার্ষিকী পালনের অভিযোগ ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। শিক্ষক, মিড-ডে মিল কর্মী এবং অভিভাবকদের পাল্টাপাল্টি অভিযোগের জেরে এলাকায় উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশও ঘটনাস্থলে পৌঁছায়।













