Nadia News: শুধু শরীরচর্চা নয়, বিপদে বাঁচাতে পারে প্রাণ! শিশুদের সাঁতার শেখাতে শান্তিপুরে অভিনব উদ্যোগ, প্রতিযোগিতায় ১১০ পড়ুয়া

নদিয়ার শান্তিপুরের ঝিলমিল মিউনিসিপ্যাল সুইমিং পুলে বার্ষিক সাঁতার প্রতিযোগিতায় অংশ নিল প্রায় ১১০ জন শিক্ষার্থী। সাঁতার শেখা, জল-নিরাপত্তা ও প্রতিযোগীদের সাফল্যের খবর পড়ুন।

সাঁতার মানেই শুধু জলে হাত-পা চালিয়ে শরীরচর্চা নয়, এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ জীবনদক্ষতা। বিশেষ করে পুকুর, নদী কিংবা জলাশয়ে ঘেরা এলাকায় শিশুদের ছোটবেলা থেকেই সাঁতার শেখানো জরুরি। সেই বার্তাই তুলে ধরতে নদিয়ার শান্তিপুরে আয়োজিত হল বার্ষিক সাঁতার প্রতিযোগিতা। খুদে সাঁতারুদের উৎসাহ, অভিভাবকদের উপস্থিতি এবং প্রশিক্ষকদের উদ্যোগে জমজমাট হয়ে ওঠে ‘ঝিলমিল’ মিউনিসিপ্যাল সুইমিং পুলের এই আয়োজন।

শান্তিপুরের ‘ঝিলমিল’ সুইমিং পুলে বার্ষিক প্রতিযোগিতা

নদিয়ার শান্তিপুর পৌরসভা পরিচালিত ‘ঝিলমিল’ মিউনিসিপ্যাল সুইমিং পুলে অনুষ্ঠিত হল বার্ষিক সাঁতার প্রতিযোগিতা। সকাল ১০টা থেকে শুরু হওয়া এই প্রতিযোগিতাকে কেন্দ্র করে সাঁতারুদের পাশাপাশি অভিভাবকদের মধ্যেও যথেষ্ট উৎসাহ দেখা যায়।ছেলে ও মেয়েদের মোট চারটি বিভাগে প্রায় ১১০ জন শিক্ষার্থী প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়। আয়োজকদের পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রতিটি বিভাগের প্রথম তিন স্থানাধিকারীকে পুরস্কৃত করা হবে। এই ধরনের আয়োজনের মাধ্যমে শিশুদের সাঁতারের প্রতি আগ্রহ বাড়ানোর পাশাপাশি তাদের প্রতিভা তুলে ধরার সুযোগ তৈরি হচ্ছে।

সাঁতার কেন শুধু ব্যায়াম নয়, জরুরি জীবনদক্ষতা?

সাঁতার শরীরের একাধিক পেশিকে সক্রিয় রাখে। নিয়মিত সাঁতার হৃদযন্ত্র ও ফুসফুসের কর্মক্ষমতা উন্নত করতে, শারীরিক সক্ষমতা বাড়াতে এবং ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করতে পারে। জলের মধ্যে শরীরের জয়েন্টের উপর তুলনামূলক কম চাপ পড়ায় অনেকের কাছে এটি উপযোগী ব্যায়াম হিসেবেও বিবেচিত হয়।তবে সাঁতারের গুরুত্ব শুধু শারীরিক সুস্থতার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। জলে পড়ে গেলে কীভাবে ভেসে থাকতে হয়, কীভাবে আতঙ্ক নিয়ন্ত্রণ করতে হয় এবং কখন সাহায্য চাইতে হয়, প্রশিক্ষণের মাধ্যমে সেই সম্পর্কে ধারণা তৈরি হতে পারে। তাই শিশুদের সাঁতার শেখানোকে জীবনরক্ষাকারী দক্ষতা অর্জনের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হয়।

শিশুদের সাঁতার শেখানোর পাশাপাশি নিরাপত্তাও জরুরি

পুকুর, নদী কিংবা অন্য জলাশয়ের কাছে শিশুদের দুর্ঘটনার ঝুঁকি থাকে। সাঁতার জানা থাকলেও ডুবে যাওয়ার আশঙ্কা সম্পূর্ণ দূর হয় না। তাই প্রশিক্ষিত কোচের তত্ত্বাবধানে সাঁতার শেখানো এবং জলের আশপাশে শিশুদের উপর প্রাপ্তবয়স্কদের নজরদারি রাখা অত্যন্ত জরুরি।নিরাপদ সুইমিং পুলে নিয়ম মেনে প্রশিক্ষণ নেওয়ার অভ্যাস শিশুদের আত্মবিশ্বাস বাড়াতে পারে। একই সঙ্গে জলের বিপদ সম্পর্কে সচেতনতা তৈরি করাও প্রয়োজন। সাঁতার শেখার পাশাপাশি নিরাপত্তাবিধি মেনে চলার শিক্ষা সমান গুরুত্বপূর্ণ।

রাজ্য ও জাতীয় স্তরে সাফল্য ঝিলমিলের পড়ুয়াদের

ঝিলমিল সুইমিং পুলের কোচ অমিতাভ শেখের কথায়, সাঁতার একটি পূর্ণাঙ্গ শিক্ষা। তাঁর দাবি, এই পুলে প্রশিক্ষণ নিয়ে বহু শিক্ষার্থী রাজ্য ও জাতীয় স্তরে সাফল্য অর্জন করেছে।কোচের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ‘ফিন সুইমিং’ বিভাগে এই পুলের আট জন প্রতিযোগী রাজ্য স্তরে এবং তিন জন জাতীয় স্তরে প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে সাফল্য পেয়েছেন। ফলে প্রশিক্ষণ ও নিয়মিত অনুশীলনের মাধ্যমে এখানকার শিক্ষার্থীরা বড় মঞ্চে নিজেদের দক্ষতা তুলে ধরার সুযোগ পাচ্ছে।

প্রায় ১১০ জন শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণ, নতুন প্রতিভার আশায় আয়োজকরা

এ দিনের প্রতিযোগিতায় চারটি বিভাগে প্রায় ১১০ জন শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণ সাঁতারের প্রতি আগ্রহেরই ইঙ্গিত দেয়। প্রতিটি বিভাগ থেকে প্রথম তিন জনকে পুরস্কৃত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।আয়োজকদের আশা, এই প্রতিযোগিতার মাধ্যমে নতুন প্রতিভা সামনে আসবে। ভবিষ্যতে তাদের কেউ কেউ জেলা ও রাজ্য স্তরের প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার সুযোগ পেতে পারে। পাশাপাশি ছোটদের মধ্যে নিয়মিত সাঁতার শেখা এবং শরীরচর্চার অভ্যাস গড়ে উঠবে বলেও প্রত্যাশা।

শুধু শরীর সুস্থ রাখাই নয়, জলে ডুবে যাওয়ার মতো দুর্ঘটনা এড়াতে সাঁতার শেখার গুরুত্ব অপরিসীম। এই সচেতনতা ছড়িয়ে দিতে নদিয়ার শান্তিপুর পৌরসভা পরিচালিত ‘ঝিলমিল’ মিউনিসিপ্যাল সুইমিং পুলে আয়োজন করা হল বার্ষিক সাঁতার প্রতিযোগিতা। ছেলে ও মেয়েদের মোট চারটি বিভাগে প্রায় ১১০ জন শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে। পুলের কোচ অমিতাভ শেখের দাবি, এখান থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে ‘ফিন সুইমিং’-এ আট জন রাজ্য স্তরে এবং তিন জন জাতীয় স্তরে প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে সাফল্য পেয়েছেন।

Leave a comment