দক্ষিণ ২৪ পরগনার নামখানায় ব্যস্ত জলপথে বড়সড় দুর্ঘটনার সাক্ষী থাকল হাতানিয়া-দোয়ানিয়া নদী। নারায়ণপুর ফেরিঘাটের কাছে একটি ট্রলারের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে তিনটি যাত্রীবাহী নৌকায় ধাক্কা মারার ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে। যদিও নৌকাগুলিতে যাত্রী প্রায় না থাকায় বড় প্রাণহানির ঘটনা এড়ানো গিয়েছে। পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে।
গিয়ার বিকল হতেই নিয়ন্ত্রণ হারায় ট্রলার
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ট্রলারটির গিয়ার আচমকাই লক হয়ে যাওয়ায় সেটি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। চালক যথাসাধ্য চেষ্টা করলেও ট্রলারটি সামনে এগিয়ে গিয়ে ফেরিঘাটের কাছে নোঙর করা তিনটি যাত্রীবাহী নৌকায় সজোরে ধাক্কা মারে। মুহূর্তের মধ্যেই নদীর ঘাটে আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি হয়।
নোঙর করা থাকায় সম্পূর্ণ ডুবেনি নৌকাগুলি
দুর্ঘটনার সময় তিনটি নৌকাই নোঙর করা অবস্থায় ছিল। ফলে সেগুলি সম্পূর্ণ নদীতে তলিয়ে যায়নি। তবে ট্রলারের ধাক্কায় নৌকাগুলির উল্লেখযোগ্য ক্ষতি হয়েছে। খবর পেয়ে স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধারকাজে হাত লাগান। পরে পুলিশও ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
অল্পের জন্য রক্ষা পেলেন যাত্রীরা
প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত তিনটি নৌকার মধ্যে অধিকাংশই তখন প্রায় ফাঁকা ছিল। একটি নৌকায় মাত্র পাঁচজন যাত্রী ছিলেন। সৌভাগ্যবশত সকলেই নিরাপদে উদ্ধার হয়েছেন এবং কোনও প্রাণহানির খবর মেলেনি। দুর্ঘটনাটি পাড়ের কাছাকাছি হওয়ায় বড় বিপর্যয় এড়ানো সম্ভব হয়েছে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
ব্যস্ত জলপথে নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন
হাতানিয়া-দোয়ানিয়া নদীপথ দক্ষিণ ২৪ পরগনার অন্যতম ব্যস্ত নৌ-রুট। মাছ ধরার ট্রলার, যাত্রীবাহী নৌকা এবং আন্তর্জাতিক রুটে চলাচলকারী পণ্যবাহী বার্জ—সব মিলিয়ে সারাদিনই এই নদীপথে ব্যাপক যানচলাচল থাকে। এমন গুরুত্বপূর্ণ জলপথে এই ধরনের দুর্ঘটনা নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।
তদন্ত শুরু, বাড়ানো হচ্ছে সতর্কতা
কী কারণে ট্রলারের গিয়ার বিকল হল এবং দুর্ঘটনার নেপথ্যে অন্য কোনও গাফিলতি ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। ভবিষ্যতে এমন ঘটনা যাতে না ঘটে, তার জন্য নৌযান পরিচালনায় আরও সতর্কতা অবলম্বনের পাশাপাশি নিয়মিত যান্ত্রিক পরীক্ষা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারের দাবি উঠেছে।
দক্ষিণ ২৪ পরগনার নামখানার নারায়ণপুর ফেরিঘাট সংলগ্ন হাতানিয়া-দোয়ানিয়া নদীতে নিয়ন্ত্রণ হারানো একটি ট্রলারের ধাক্কায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে তিনটি যাত্রীবাহী নৌকা। নৌকাগুলিতে যাত্রী কম থাকায় বড় দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয়েছে। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।











