ভারতের প্রধানমন্ত্রী Narendra Modi ইতালির সরকারি সফরে রোমে পৌঁছেছেন, যেখানে তিনি ইতালির প্রধানমন্ত্রী Giorgia Meloni-এর সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে অংশ নেবেন। এই বৈঠকে ভারত ও ইতালির মধ্যে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, প্রযুক্তি, প্রতিরক্ষা, নিরাপত্তা এবং বৈশ্বিক নিরাপত্তা-সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। সফরকালে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সমঝোতা হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও জর্জিয়া মেলোনির বৈঠকে দুই দেশের কৌশলগত সম্পর্ক জোরদার এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা সম্প্রসারণের বিষয় নিয়ে আলোচনা হতে পারে। বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধির নতুন সুযোগ, প্রতিরক্ষা, নিরাপত্তা ও প্রযুক্তিগত অংশীদারিত্ব শক্তিশালী করার বিষয় বৈঠকের আলোচ্যসূচিতে থাকতে পারে।
ভারত ও ইতালি তাদের সম্পর্ককে “স্পেশাল স্ট্র্যাটেজিক পার্টনারশিপ” মর্যাদা দেওয়ার দিকেও অগ্রসর হতে পারে। প্রস্তাবটি অনুমোদিত হলে দুই দেশের মধ্যে প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতা ও রাজনৈতিক সমন্বয় আরও শক্তিশালী হতে পারে।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ভারত ও ইতালির অর্থনৈতিক সম্পর্ক বৃদ্ধি পেয়েছে। বর্তমানে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যের পরিমাণ ১৪ বিলিয়ন ইউরোর বেশি বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এই বাণিজ্যকে আরও বৈচিত্র্যময় করার লক্ষ্যে অটোমোবাইল ও উৎপাদন শিল্প, যন্ত্রপাতি, ইঞ্জিনিয়ারিং ও শিল্প সরঞ্জাম, ফার্মাসিউটিক্যাল ও স্বাস্থ্যসেবা খাত এবং সবুজ জ্বালানি ও পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তির ক্ষেত্রে সহযোগিতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
ভারতের “মেক ইন ইন্ডিয়া” নীতি এবং ডিজিটাল অর্থনীতির সম্প্রসারণ বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য নতুন সুযোগ তৈরি করেছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। একই সঙ্গে ইতালির প্রযুক্তিগত দক্ষতা ও শিল্প সক্ষমতা ভারতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হতে পারে বলে বলা হয়েছে।
![]()
ইতালি সফরের সময় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি দেশটির শিল্পপতি ও ব্যবসায়ী নেতাদের সঙ্গেও বৈঠক করবেন। এই বৈঠকের লক্ষ্য ভারতে বিনিয়োগ উৎসাহিত করা এবং নতুন শিল্প অংশীদারিত্ব গড়ে তোলা। বৈঠকে ভারতে নতুন উৎপাদন ইউনিট স্থাপন, প্রযুক্তিগত সহযোগিতা ও উদ্ভাবনভিত্তিক অংশীদারিত্ব এবং স্টার্টআপ ও ডিজিটাল ইকোসিস্টেমে বিনিয়োগের সুযোগ নিয়ে আলোচনা হতে পারে।
দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে অর্থনৈতিক সম্পর্কের পাশাপাশি একাধিক বৈশ্বিক বিষয় নিয়েও আলোচনা হতে পারে। আলোচ্য বিষয়গুলোর মধ্যে রয়েছে Russo-Ukrainian War এবং তার বৈশ্বিক প্রভাব, মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি, ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতি, বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট, বিকল্প জ্বালানির উৎস, সরবরাহ শৃঙ্খলের স্থিতিশীলতা এবং অর্থনৈতিক নিরাপত্তা।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ভারত-ইতালি সম্পর্ক বাণিজ্যিক অংশীদারিত্বের বাইরে গিয়ে কৌশলগত সহযোগিতার দিকে অগ্রসর হয়েছে। প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা সহযোগিতা, সাইবার নিরাপত্তা ও ডিজিটাল প্রযুক্তি, মহাকাশ ও বৈজ্ঞানিক গবেষণা, সবুজ জ্বালানি ও জলবায়ু পরিবর্তন সংক্রান্ত উদ্যোগ এবং শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক বিনিময়সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়ছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। “স্পেশাল স্ট্র্যাটেজিক পার্টনারশিপ” আনুষ্ঠানিক রূপ পেলে ইউরোপে ভারতের কূটনৈতিক অবস্থান আরও শক্তিশালী হতে পারে বলে বলা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এর আগে জুন ২০২৪-এ ইতালি সফর করেছিলেন, যেখানে তিনি G7 Summit-এ অংশ নেন। সেখানে বৈশ্বিক বিষয়গুলিতে ভারতের ভূমিকা ও অবস্থান প্রশংসিত হয়েছিল বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
বর্তমান ইতালি সফরকে বৃহত্তর বিদেশ সফরের অংশ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এর আগে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি United Arab Emirates, Netherlands, Sweden এবং Norway সফর করেছেন। এসব সফরের লক্ষ্য ভারতের অর্থনৈতিক, প্রযুক্তিগত ও কৌশলগত সম্পর্ককে বৈশ্বিক পর্যায়ে শক্তিশালী করা বলে উল্লেখ করা হয়েছে।









