মুম্বই: পর্দায় তাঁদের রসায়ন যেমন দর্শকের মন জয় করেছিল, বাস্তব জীবনেও ঋষি কাপুর ও নীতু কাপুরের প্রেমের গল্প ছিল অত্যন্ত চর্চিত। তবে সেই সম্পর্কে শুধু রোম্যান্সই ছিল না, ছিল মতবিরোধ, অভিমান এবং দীর্ঘ মনোমালিন্যও। নীতু পরে নিজের লেখায় জানিয়েছিলেন, প্রেমের সময় ঋষির আচরণে তিনি প্রায়ই কেঁদে ফেলতেন। তবুও দিনের শেষে তাঁর সঙ্গে দেখা করার ইচ্ছা কমেনি।
প্রেমের সম্পর্কে এত অশান্তি কেন?
নীতু কাপুর বিভিন্ন সময়ে তাঁদের সম্পর্ক নিয়ে খোলামেলা কথা বলেছেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, ঋষি কাপুরের সঙ্গে প্রেমের সময় তাঁদের মধ্যে প্রায়ই তর্ক-বিতর্ক হত। ঋষির স্বভাব ও মেজাজের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়াও সবসময় সহজ ছিল না।তবে সম্পর্কের নানা ওঠাপড়ার মধ্যেও নীতু ঋষির পাশে থেকেছেন। পরবর্তী সময়ে ঋষিও স্বীকার করেছিলেন যে, তাঁর স্বভাব সামলাতে নীতুকে যথেষ্ট কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়েছিল।
নীতুর কাজ নিয়েও ছিল কড়া নিয়ম?
নীতুর নিজের বইয়ে উঠে এসেছে তাঁদের প্রেমের সময়কার বেশ কিছু ঘটনা। সেখানে তিনি উল্লেখ করেছিলেন, ঋষির কারণে প্রায় প্রতিদিনই তাঁর চোখে জল আসত। অথচ সেই মনোমালিন্যের পরেও তিনি ঋষির সঙ্গে দেখা করতে চাইতেন।তখন নীতু নিয়মিত অভিনয় করতেন। তাঁর শুটিংয়ের সময় নিয়েও ঋষি বেশ কড়া ছিলেন বলে নীতু জানিয়েছিলেন। তিনি চাইতেন নীতু যেন রাত সাড়ে আটটার মধ্যে শুটিং শেষ করেন। এর ফলে অনেক সময় নীতুর পক্ষে রাত পর্যন্ত শুটিং চালিয়ে যাওয়া কঠিন হয়ে পড়ত।
সম্পর্কের টানাপড়েন, অথচ ক্যামেরার সামনে নিখুঁত অভিনয়
ঋষি ও নীতুর সম্পর্কের টানাপড়েনের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে তাঁদের ছবি ‘ঝুঠা কহিঁ কা’-র একটি ঘটনাও। ছবির শুটিংয়ের সময় বাস্তব জীবনে তাঁদের সম্পর্কে মনোমালিন্য তৈরি হয়েছিল। অথচ ক্যামেরার সামনে তাঁদের রোম্যান্টিক দৃশ্যে অভিনয় করতে হত।নীতুর বর্ণনা অনুযায়ী, মেকআপ রুমে তিনি অনেক সময় কেঁদে ফেলতেন। কিন্তু শুটিং শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে দু’জনেই পেশাদার অভিনেতার মতো নিজেদের আবেগ আড়াল করে দৃশ্যে অভিনয় করতেন। বাস্তবের অশান্তি যেন ক্যামেরার সামনে বিন্দুমাত্র প্রভাব ফেলত না।
শেষ পর্যন্ত বিয়ের সিদ্ধান্ত
নানা তর্ক, অভিমান এবং মনোমালিন্য পেরিয়ে তাঁদের সম্পর্ক শেষ পর্যন্ত পরিণতি পায়। ১৯৮০ সালে ঋষি কাপুর ও নীতু কাপুর বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন।দাম্পত্য জীবনেও তাঁদের মধ্যে মতপার্থক্য ও ‘শীতল যুদ্ধ’ হয়েছে বলে নীতু বিভিন্ন সময়ে জানিয়েছেন। কিন্তু সবকিছুর পরেও ঋষি তাঁর জীবনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একজন মানুষ ছিলেন। পরিবার ও জীবনের কঠিন সময়ে তাঁদের বন্ধনও ছিল গভীর।
অসুস্থতার সময়ও পাশে ছিলেন নীতু
ঋষি কাপুর জীবনের শেষদিকে অসুস্থ হয়ে পড়লে নীতু তাঁর পাশে ছিলেন। দীর্ঘ দাম্পত্য জীবনের নানা ওঠাপড়া সত্ত্বেও অসুস্থ স্বামীর প্রতি তাঁর সমর্থন ও যত্ন ছিল স্পষ্ট। তাই তাঁদের সম্পর্ককে শুধুমাত্র প্রেমের গল্প দিয়ে ব্যাখ্যা করা যায় না—এর মধ্যে ছিল অভিমান, সংঘাত, টানাপড়েন এবং দীর্ঘদিনের সঙ্গও।
বলিউডের অন্যতম আলোচিত জুটি ছিলেন ঋষি কাপুর ও নীতু কাপুর। তাঁদের সম্পর্কের শুরুটা ছিল প্রেমে ভরা, কিন্তু সেই পথ সবসময় মসৃণ ছিল না। নীতু নিজেই একাধিকবার জানিয়েছেন, ঋষির সঙ্গে সম্পর্কে থাকার সময় তাঁকে নানা আবেগঘন পরিস্থিতির মধ্যে দিয়ে যেতে হয়েছিল। এমনকি প্রায় প্রতিদিনই নীতুর চোখে জল আসত বলে নিজের বইয়ে উল্লেখ করেছিলেন তিনি।








