রেড পান্ডা, ক্লাউডেড লেপার্ড, শতাধিক অর্কিড এবং শত শত প্রজাতির পাখির নিরাপদ আবাস নেওড়া ভ্যালি জাতীয় উদ্যান। দীর্ঘ ১৭ বছর পর আবারও এই অরণ্যকে ইউনেস্কোর বিশ্ব ঐতিহ্যের মর্যাদা দেওয়ার উদ্যোগ জোরদার হয়েছে। বন দফতরের এই পদক্ষেপে নতুন আশার আলো দেখছেন পরিবেশবিদ, পর্যটন বিশেষজ্ঞ এবং উত্তরবঙ্গের বাসিন্দারা।
১৭ বছর পর ফের ইউনেস্কোর দরজায় কড়া
২০০৯ সালে প্রথমবার নেওড়া ভ্যালিকে ইউনেস্কোর ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু পর্যাপ্ত বৈজ্ঞানিক তথ্য ও নথির অভাবে সেই উদ্যোগ সফল হয়নি। এবার দীর্ঘ সময়ের গবেষণা, নতুন তথ্য সংগ্রহ এবং বন্যপ্রাণ সংক্রান্ত নথি যুক্ত করে নতুন করে প্রস্তাব পাঠানোর প্রস্তুতি শুরু হয়েছে।
জীববৈচিত্র্যের ভাণ্ডার নেওড়া ভ্যালি
পশ্চিমবঙ্গের অন্যতম সমৃদ্ধ বনাঞ্চল হিসেবে পরিচিত নেওড়া ভ্যালি। এখানে বিরল রেড পান্ডা, ক্লাউডেড লেপার্ড, হিমালয়ান কালো ভাল্লুক, গৌর, এশীয় হাতি এবং প্যাঙ্গোলিনের মতো গুরুত্বপূর্ণ বন্যপ্রাণীর বসবাস রয়েছে। এছাড়াও ৩০৮ প্রজাতির পাখি, শতাধিক অর্কিড, অসংখ্য ঔষধি উদ্ভিদ এবং বিরল কীটপতঙ্গ এই অরণ্যের পরিবেশগত গুরুত্ব বহুগুণ বাড়িয়ে তুলেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে এবার বাড়তে পারে সম্ভাবনা
পর্যটন বিশেষজ্ঞদের মতে, অতীতে পর্যাপ্ত গবেষণা ও তথ্যের অভাবই ছিল বড় বাধা। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলিতে নেওড়া ভ্যালির জীববৈচিত্র্য নিয়ে বিস্তৃত সমীক্ষা ও বৈজ্ঞানিক নথি প্রস্তুত হওয়ায় এবার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির সম্ভাবনা অনেকটাই বেড়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।
স্বীকৃতি মিললে কী লাভ হবে?
বিশ্ব ঐতিহ্যের মর্যাদা পেলে আন্তর্জাতিক স্তরে নেওড়া ভ্যালির পরিচিতি আরও বৃদ্ধি পাবে। পাশাপাশি সংরক্ষণ প্রকল্পে আর্থিক সহায়তা, গবেষণার সুযোগ, পরিবেশ রক্ষায় আধুনিক প্রযুক্তিগত সহযোগিতা এবং দায়িত্বশীল পর্যটনের বিকাশ ঘটতে পারে। এর ফলে স্থানীয় অর্থনীতিও নতুন গতি পেতে পারে।
বন দফতরের প্রস্তুতি শুরু
বন দফতরের দাবি, সাম্প্রতিক বছরগুলিতে নেওড়া ভ্যালিতে বাঘ-সহ একাধিক বিরল প্রাণীর উপস্থিতির গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ মিলেছে। সেই সমস্ত বৈজ্ঞানিক তথ্য, গবেষণার নথি এবং সংরক্ষণ সংক্রান্ত রিপোর্ট একত্রিত করে খুব শীঘ্রই ইউনেস্কোর কাছে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে।
উত্তরবঙ্গের অন্যতম জীববৈচিত্র্য সমৃদ্ধ অরণ্য নেওড়া ভ্যালি জাতীয় উদ্যানকে ইউনেস্কোর ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার উদ্যোগ ফের গতি পেয়েছে। ২০০৯ সালে প্রথম প্রস্তাব পাঠানো হলেও তা বাস্তবায়িত হয়নি। এবার নতুন বৈজ্ঞানিক তথ্য, বিরল প্রাণীর উপস্থিতির প্রমাণ এবং সংরক্ষণ সংক্রান্ত নথি নিয়ে নতুন করে আবেদন প্রস্তুত করছে বন দফতর।







