একসময় বলিউডে পর্দায় চুম্বনের দৃশ্য ছিল বিরল। সময়ের সঙ্গে বদলেছে সিনেমার ভাষা, গল্প বলার ধরন এবং দর্শকের গ্রহণযোগ্যতা। এখন রোম্যান্টিক সম্পর্কের স্বাভাবিক প্রকাশ হিসেবেই বহু ছবিতে চুম্বনের দৃশ্য দেখা যায়। আন্তর্জাতিক চুম্বন দিবসে এমনই কয়েকটি বহুল আলোচিত ও স্মরণীয় বলিউড ছবির কথা তুলে ধরা হল, যেগুলি শুধুমাত্র রোম্যান্স নয়, গল্পের আবেগকেও আরও শক্তিশালী করেছে।
মুঘল-এ-আজম থেকে ডিডিএলজে, প্রেমের চিরন্তন অধ্যায়
ষাটের দশকের 'মুঘল-এ-আজম' থেকে নব্বইয়ের 'দিলওয়ালে দুলহনিয়া লে জায়েঙ্গে'— বলিউডের প্রেমের গল্পের বিবর্তন স্পষ্ট। দিলীপ কুমার ও মধুবালার নিষিদ্ধ প্রেম কিংবা শাহরুখ খান ও কাজলের অনবদ্য রসায়ন আজও দর্শকের কাছে ক্লাসিক। যদিও সেই সময় প্রকাশ্য চুম্বনের বদলে দৃষ্টিভঙ্গি, অভিব্যক্তি ও আবেগই ছিল প্রেম প্রকাশের প্রধান মাধ্যম।
নতুন প্রজন্মের সিনেমায় বদলেছে প্রেমের প্রকাশভঙ্গি
২০০০ সালের পর বলিউডে রোম্যান্স আরও বাস্তব ও আধুনিক হয়ে ওঠে। 'জব উই মেট', 'আশিকি ২', 'ইয়ে জাওয়ানি হ্যায় দিওয়ানি'-র মতো ছবিতে সম্পর্কের আবেগের পাশাপাশি ঘনিষ্ঠ মুহূর্তগুলিও গল্পের স্বাভাবিক অংশ হয়ে ওঠে। প্রেমের উত্থান-পতন, মানসিক টানাপোড়েন এবং সম্পর্কের গভীরতা ফুটিয়ে তুলতেই এসব দৃশ্য ব্যবহার করা হয়েছে।
নিষিদ্ধ প্রেম থেকে আধুনিক সম্পর্ক— বদলেছে বলিউডের ভাষা
'গোলিয়োঁ কি রাসলীলা রাম-লীলা', 'তামাশা', 'বেফিকরে' এবং 'কবির সিং'-এর মতো ছবিতে প্রেমের প্রকাশ আরও খোলামেলা। পারিবারিক দ্বন্দ্ব, আত্মপরিচয়ের সংকট কিংবা আধুনিক সম্পর্কের টানাপোড়েন— সবকিছুর মধ্যেই রোম্যান্টিক দৃশ্যগুলি গল্পকে এগিয়ে নিয়ে গিয়েছে। এই সিনেমাগুলি নতুন প্রজন্মের দর্শকদের মধ্যেও বিশেষ জনপ্রিয়তা পেয়েছে।
সাম্প্রতিক ছবিতেও রোম্যান্সের নতুন সংজ্ঞা
সাম্প্রতিক সময়ে 'রকি অউর রানি কি প্রেম কাহানি'-র মতো ছবিতে সম্পর্কের আবেগ, পারিবারিক মূল্যবোধ এবং ব্যক্তিগত বিকাশের সঙ্গে রোম্যান্সকে ভারসাম্য রেখে উপস্থাপন করা হয়েছে। এখানে ঘনিষ্ঠ মুহূর্ত শুধুই আকর্ষণের জন্য নয়, বরং চরিত্রগুলির মানসিক যাত্রার অংশ হিসেবেই দেখানো হয়েছে।
আন্তর্জাতিক চুম্বন দিবসের তাৎপর্য
প্রতি বছর ৬ জুলাই পালিত আন্তর্জাতিক চুম্বন দিবসের মূল উদ্দেশ্য ভালোবাসা, স্নেহ এবং আন্তরিক সম্পর্ককে উদযাপন করা। ব্রিটেনে শুরু হওয়া এই দিনটি বর্তমানে বিশ্বের নানা দেশে অনানুষ্ঠানিকভাবে পালিত হয়। বলিউডের অসংখ্য প্রেমের গল্পও বারবার মনে করিয়ে দেয়, একটি আন্তরিক সম্পর্কের আসল শক্তি শুধু রোম্যান্সে নয়, বরং বিশ্বাস, আবেগ ও পারস্পরিক বোঝাপড়ায়।
প্রতি বছর ৬ জুলাই পালিত হয় আন্তর্জাতিক চুম্বন দিবস। ভালোবাসা, আবেগ ও সম্পর্কের প্রকাশকে উদযাপন করতেই এই বিশেষ দিন। এই উপলক্ষে ফিরে দেখা যাক বলিউডের এমন ১০টি জনপ্রিয় সিনেমা, যেখানে চুম্বন বা ঘনিষ্ঠ রোম্যান্টিক মুহূর্ত গল্পকে আরও গভীর ও আবেগঘন করে তুলেছিল। দশকের পর দশক ধরে এই দৃশ্যগুলি দর্শকের মনে আলাদা জায়গা করে নিয়েছে।









