বলিউড অভিনেত্রী তব্বু আজ, ৪ নভেম্বর ২০২৬, ৫৫ বছরে পা দিলেন। দেব আনন্দের ছবি ‘হম নওজওয়ান’-এর মাধ্যমে অভিনয়জগতে যাত্রা শুরু করেছিলেন তিনি। চার দশকেরও বেশি সময়ের অভিনয়জীবনে রোমান্টিক চরিত্র থেকে শুরু করে কমেডি এবং জটিল, গম্ভীর চরিত্রে অভিনয় করে নিজের স্বতন্ত্র পরিচিতি তৈরি করেছেন অভিনেত্রী। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তাঁর কাজের পরিসরও কমেনি। এখনও বড় বাজেটের বাণিজ্যিক ছবি থেকে শুরু করে ভিন্নধর্মী গল্পের সিনেমায় দেখা যাচ্ছে তাঁকে।
তব্বুর আসল নাম তবসসুম ফতিমা হাশমি। ১৯৭১ সালের ৪ নভেম্বর হায়দরাবাদে তাঁর জন্ম। তাঁর বাবার নাম জামাল হাশমি এবং মায়ের নাম রিজওয়ানা। বাবা-মায়ের বিচ্ছেদের পর মা এবং দাদু-দিদার কাছেই বড় হয়ে ওঠেন তিনি। তাঁর দিদি ফারাহ নাজও অভিনয়জগতের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। অভিনেত্রী শাবানা আজমি তাঁর মাসি।
ছোটবেলা থেকেই সিনেমার জগতের সঙ্গে পরিচয় হয়েছিল তব্বুর। ১৯৮৫ সালে দেব আনন্দের ছবি ‘হম নওজওয়ান’-এ অভিনয়ের সুযোগ পান তিনি। ছবিতে যৌন হিংসার শিকার এক কিশোরীর চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন তব্বু। সেই সময় তাঁর বয়স ছিল খুবই কম।
এরপর ১৯৯১ সালে তেলুগু ছবি ‘কুলি নম্বর ১’-এর মাধ্যমে প্রধান অভিনেত্রী হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন তিনি। হিন্দি সিনেমায় বড় পরিচিতি আসে ১৯৯৪ সালে মুক্তি পাওয়া ‘বিজয়পথ’ ছবির মাধ্যমে। অজয় দেবগনের বিপরীতে তাঁর অভিনয় দর্শকদের নজর কাড়ে। এই ছবির জন্য ফিল্মফেয়ারের সেরা নবাগতা অভিনেত্রীর পুরস্কারও পান তিনি।
নব্বইয়ের দশকে একাধিক জনপ্রিয় হিন্দি ছবিতে অভিনয় করেন তব্বু। ‘সাজন চলে সসুরাল’, ‘জিত’, ‘হকিকত’ এবং ‘বর্ডার’-এর মতো ছবি তাঁকে জনপ্রিয় অভিনেত্রীদের তালিকায় জায়গা করে দেয়। তবে ১৯৯৬ সালে মুক্তি পাওয়া গুলজারের ‘মাচিস’ তাঁর অভিনয়জীবনে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন নিয়ে আসে।
পঞ্জাবে সন্ত্রাসবাদের পটভূমিতে তৈরি এই ছবিতে তব্বুর চরিত্র ছিল তাঁর আগের ছবিগুলির তুলনায় সম্পূর্ণ আলাদা। অভিনয়ের জন্য তিনি প্রথম জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পান।
এরপর ‘বিরাসত’, ‘হু তু তু’ এবং ‘হম সাথ সাথ হ্যায়’-এর মতো ছবিতে বিভিন্ন ধরনের চরিত্রে অভিনয় করেন তিনি। পারিবারিক গল্পের ছবিতে তাঁর স্বাভাবিক অভিনয় এবং গম্ভীর চরিত্রে দক্ষতা দর্শক ও সমালোচকদের প্রশংসা পায়।
২০০০ সালের পর থেকে এমন গল্পের ছবিতে বেশি অভিনয় করতে শুরু করেন তব্বু, যেখানে নারী চরিত্রগুলি শুধুমাত্র নায়কের গল্পের অংশ হয়ে থাকেনি। ‘অস্তিত্ব’ ছবিতে এক বিবাহিত মহিলার জীবন এবং ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তের বিষয়টি তুলে ধরেন তিনি।
![]()
২০০১ সালে মুক্তি পাওয়া মধুর ভাণ্ডারকরের ‘চাঁদনি বার’ ছবিতে এক বার ডান্সার এবং সন্তানদের ভবিষ্যৎ গড়ার জন্য লড়াই করা মায়ের চরিত্রে অভিনয় করেন তব্বু। এই ছবির জন্য দ্বিতীয়বার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পান তিনি।
২০০৩ সালে বিশাল ভরদ্বাজের ‘মকবুল’ ছবিতে তাঁর অভিনীত চরিত্র ছিল ভিন্নধর্মী। অন্যদিকে, ‘হেরা ফেরি’ ছবিতে কমেডি এবং ২০০৭ সালে অমিতাভ বচ্চনের বিপরীতে ‘চিনি কম’ ছবিতে রোমান্টিক চরিত্রেও দর্শকদের মন জয় করেন তিনি।
এই সময় আন্তর্জাতিক ছবিতেও কাজের সুযোগ পান তব্বু। মীরা নায়ারের ‘দ্য নেমসেক’ ছবিতে তাঁর অভিনয় প্রশংসিত হয়। পাশাপাশি হলিউডের ছবি ‘লাইফ অব পাই’-তেও অভিনয় করেন তিনি।
হিন্দি সিনেমায় সাধারণত নির্দিষ্ট বয়সের পর অভিনেত্রীদের প্রধান চরিত্রে কাজের সুযোগ কমে আসে বলে দেখা যায়। তবে তব্বুর অভিনয়জীবনে তেমন বিরতি আসেনি। ২০১৪ সালে মুক্তি পাওয়া ‘হায়দার’ ছবিতে গজালা চরিত্রে অভিনয় করেন তিনি। এই ছবির জন্য ফিল্মফেয়ারের সেরা পার্শ্ব অভিনেত্রীর পুরস্কার পান।
এরপর ‘দৃশ্যম’ ছবিতে কড়া পুলিশ আধিকারিক মীরা দেশমুখের ভূমিকায় দেখা যায় তাঁকে। অজয় দেবগনের সঙ্গে তাঁর চরিত্রের সংঘাত ছবির গল্পের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে ওঠে। ২০২২ সালে ‘দৃশ্যম ২’ এবং ২০২৬ সালের অক্টোবরে মুক্তি পাওয়া ‘দৃশ্যম: দ্য কনক্লুশন’ ছবিতেও একই চরিত্রে অভিনয় করেছেন তিনি।
২০১৭ সালে ‘গোলমাল এগেইন’ ছবির মাধ্যমে কমেডি ঘরানায় ফিরে আসেন তব্বু। পরের বছর ‘অন্ধাধুন’ ছবিতে সিমি চরিত্রে অভিনয় করে আবারও দর্শকদের চমকে দেন তিনি।
২০২২ সালে মুক্তি পাওয়া ‘ভুলভুলাইয়া ২’ ছবিতে অঞ্জুলিকা এবং মঞ্জুলিকা—দুটি চরিত্রে অভিনয় করেন তব্বু। দুই চরিত্রের অভিনয়শৈলী ও উপস্থাপনায় ছিল স্পষ্ট পার্থক্য।
২০২৩ সালে মুক্তি পাওয়া ‘খুফিয়া’ ছবিতে একজন গোয়েন্দা আধিকারিকের ভূমিকায় অভিনয় করেন তিনি। এরপর ২০২৪ সালের ‘ক্রু’ ছবিতে করিনা কাপুর এবং কৃতি শ্যাননের সঙ্গে কমেডি চরিত্রে দর্শকদের সামনে আসেন তব্বু।
এবার অভিনেতা নাগার্জুনের ১০০তম ছবি ‘কিং ১০০’-তে দেখা যাবে তাঁকে। ছবিটি পরিচালনা করছেন রা কার্তিক। ২০২৬ সালের ২৪ ডিসেম্বর প্রেক্ষাগৃহে মুক্তির পরিকল্পনা রয়েছে ছবিটির। দীর্ঘ সময় পর এই ছবিতে তব্বু ও নাগার্জুনকে আবারও একসঙ্গে দেখা যাবে।








