রাজস্থান-সহ চার রাজ্যে এনআইএর অভিযান পাকিস্তান-যোগ সন্দেহে ১২ স্থানে তল্লাশি

রাজস্থান, উত্তর প্রদেশ, বিহার ও মহারাষ্ট্রে মোট ১২টি স্থানে এনআইএ তল্লাশি চালিয়েছে। তদন্তে পাকিস্তান-সংযুক্ত সন্দেহভাজন নেটওয়ার্ক, অস্ত্র সরবরাহের আশঙ্কা, ডিজিটাল প্রমাণ জব্দ এবং আর্থিক ও অনলাইন যোগাযোগের দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

জাতীয় তদন্ত সংস্থা (NIA) সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপ এবং সীমান্তপারের অস্ত্র পাচার নেটওয়ার্কের বিরুদ্ধে অভিযানের অংশ হিসেবে রাজস্থান-সহ মোট চারটি রাজ্যে একযোগে তল্লাশি চালিয়েছে। সংস্থার মতে, সম্ভাব্য সন্ত্রাসী হামলা ও বিস্ফোরক সরবরাহ সংক্রান্ত ষড়যন্ত্র প্রতিরোধের উদ্দেশ্যে এই অভিযান পরিচালিত হয়।

এনআইএ উত্তর প্রদেশ, রাজস্থান, বিহার এবং মহারাষ্ট্রে মোট ১২টি স্থানে অভিযান চালায়। অভিযানের সময় একাধিক সন্দেহভাজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় এবং ডিজিটাল ডিভাইস, নথি ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ জব্দ করা হয়েছে।

রাজস্থানে এনআইএর দল আজমের এবং বেহরোর-কোটপুতলি এলাকার নিমরানায় তল্লাশি চালায়। স্থানীয় পুলিশ এবং কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা বাহিনীর সহায়তায় পরিচালিত যৌথ অভিযানে একাধিক বাড়ি ও স্থাপনা তল্লাশি করা হয়।

সূত্রের দাবি, যেসব স্থানে তল্লাশি চালানো হয়েছে সেগুলি পাকিস্তানভিত্তিক নেটওয়ার্কের সন্দেহভাজন যোগাযোগের আওতায় ছিল। সেখান থেকে মোবাইল ফোন, ল্যাপটপ, হার্ড ডিস্ক এবং কিছু নথি জব্দ করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

তদন্তকারী সংস্থাগুলির প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, এই নেটওয়ার্ক পাকিস্তানভিত্তিক অপারেটিভ এবং একটি সংঘবদ্ধ অপরাধচক্রের সঙ্গে যুক্ত থাকতে পারে। তদন্তে অভিযোগ উঠেছে যে পাকিস্তানভিত্তিক অপারেটিভ জসবীর চৌধুরী এবং গ্যাংস্টার শাহজাদ ভাট্টির মাধ্যমে এই নেটওয়ার্ক পরিচালিত হচ্ছিল।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলির দাবি, শাহজাদ ভাট্টি দুবাই থেকে তার নেটওয়ার্ক পরিচালনা এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মাধ্যমে প্রভাব বিস্তারের জন্য পরিচিত। তার বিরুদ্ধে ভারতীয় যুবকদের প্ররোচিত করে অবৈধ কর্মকাণ্ডে যুক্ত করার প্রচেষ্টার অভিযোগও রয়েছে।

তবে তদন্তকারী সংস্থাগুলি এখনও পর্যন্ত এই অভিযোগগুলির আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ দেয়নি এবং গোটা ঘটনার বিস্তারিত তদন্ত চলছে।

সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, তদন্তে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে যে ভারত-পাক সীমান্ত পেরিয়ে ড্রোনের মাধ্যমে অস্ত্র ও বিস্ফোরক সামগ্রী পাঠানোর ষড়যন্ত্রে এই নেটওয়ার্ক জড়িত থাকতে পারে। সম্ভাব্য সরঞ্জামের মধ্যে ইমপ্রোভাইজড এক্সপ্লোসিভ ডিভাইস (IED), ছোট আগ্নেয়াস্ত্র এবং গোলাবারুদ থাকতে পারে বলে সন্দেহ করা হচ্ছে।

রাজস্থান-সহ চার রাজ্যে এনআইএর অভিযান পাকিস্তান-যোগ সন্দেহে ১২ স্থানে তল্লাশি

তদন্তকারী সংস্থাগুলির অনুমান, এই সরঞ্জামগুলি দেশের বিভিন্ন বড় শহরে সন্ত্রাসী হামলায় ব্যবহারের পরিকল্পনা থাকতে পারে। পাঞ্জাব, দিল্লি এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ এলাকাকে সম্ভাব্য লক্ষ্য হিসেবে চিহ্নিত করা হয়ে থাকতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে, যদিও তদন্ত সম্পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনও আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ নেই।

এনআইএ জানিয়েছে, এই অভিযান কেবল রাজস্থানে সীমাবদ্ধ ছিল না, বরং সমন্বিত জাতীয় অভিযানের অংশ হিসেবে একযোগে পরিচালিত হয়। সংস্থার ধারণা, এই নেটওয়ার্ক একাধিক রাজ্যে বিস্তৃত ছিল এবং ডিজিটাল মাধ্যমে পারস্পরিক সংযোগ বজায় রেখেছিল।

তল্লাশির সময় জব্দ করা সমস্ত ইলেকট্রনিক ডিভাইস ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। মোবাইল ডেটা, চ্যাট রেকর্ড, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কার্যকলাপ এবং ডিজিটাল লেনদেনের তথ্য খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

তদন্তকারী সংস্থাগুলি এই নেটওয়ার্কের অর্থায়নের উৎস এবং কারা প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে এর সঙ্গে যুক্ত ছিল তা শনাক্ত করার চেষ্টা করছে। পাশাপাশি সন্দেহভাজনদের ব্যাঙ্ক হিসাব এবং আন্তর্জাতিক লেনদেনও খতিয়ে দেখা হচ্ছে, যাতে সম্ভাব্য বিদেশি অর্থায়নের যোগসূত্র শনাক্ত করা যায়।

তদন্তে আরও উঠে এসেছে যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে যুবকদের প্রভাবিত করা এবং নেটওয়ার্কে যুক্ত করার চেষ্টা করা হতে পারে। তদন্তকারী সংস্থাগুলির সন্দেহ, অনলাইন প্রচার ও উসকানিমূলক সামগ্রীর মাধ্যমে মানুষকে চরমপন্থার দিকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করা হয়েছে। এই ডিজিটাল দিক বিবেচনায় সাইবার বিশেষজ্ঞদেরও তদন্তে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

অভিযানের পর দেশের বিভিন্ন প্রান্তে নিরাপত্তা সংস্থাগুলিকে সতর্ক অবস্থায় রাখা হয়েছে। সীমান্তবর্তী এলাকা এবং সংবেদনশীল শহরগুলিতে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। গোয়েন্দা সংস্থাগুলিকে সন্দেহজনক কার্যকলাপের ক্ষেত্রে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ড্রোন এবং ডিজিটাল নেটওয়ার্কের ব্যবহার বাড়িয়ে সন্ত্রাসী সংগঠনগুলি নতুন কৌশল গ্রহণ করছে, যা মোকাবিলায় প্রযুক্তিগত ও গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা প্রয়োজন।

এনআইএ ইঙ্গিত দিয়েছে, মামলাটি এখনও প্রাথমিক তদন্তপর্বে রয়েছে এবং আগামী দিনে নতুন তথ্য সামনে আসতে পারে। গ্রেফতারি এবং নতুন নাম প্রকাশের সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া হয়নি। সংস্থাটি এ-ও খতিয়ে দেখছে যে এই নেটওয়ার্কের সঙ্গে অতীতের কোনও সন্ত্রাসী ঘটনা বা অর্থায়নের যোগ ছিল কি না।

 

Leave a comment