IIT-এর ইঞ্জিনিয়ার থেকে ‘রামায়ণ’-এর কারিগর! ৭ বছরের পরিশ্রমে রণবীরের রাম, নেপথ্যের নিতেশ তিওয়ারির গল্প জানেন?

IIT বম্বের ইঞ্জিনিয়ার নিতেশ তিওয়ারি কীভাবে বলিউডের সফল পরিচালক হলেন? ‘দঙ্গল’, ‘ছিছোড়ে’ থেকে রণবীর কাপুরের ‘রামায়ণ’—জেনে নিন তাঁর সিনেমার সফর।

ইঞ্জিনিয়ারিং পড়াশোনা থেকে বলিউডের পরিচালকের আসন—নিতেশ তিওয়ারির পথচলা যেন সিনেমার চিত্রনাট্যকেও হার মানায়। আইআইটি বম্বে থেকে ইঞ্জিনিয়ারিং ডিগ্রি নেওয়ার পর বিজ্ঞাপনের দুনিয়ায় কাজ শুরু করেছিলেন তিনি। কিন্তু সৃজনশীলতার টান তাঁকে ধীরে ধীরে নিয়ে আসে চলচ্চিত্রের জগতে। শিশুদের গল্প থেকে খেলাধুলা, বন্ধুত্ব, ব্যর্থতা কিংবা জীবনের আবেগ—বিভিন্ন বিষয়কে পর্দায় তুলে ধরে নিজের আলাদা পরিচয় তৈরি করেছেন নিতেশ।এবার তাঁর সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ—ভারতীয় মহাকাব্য **‘রামায়ণ’**কে বড় পর্দায় নতুন আঙ্গিকে তুলে ধরা।

IIT বম্বের মেধাবী ছাত্র ছিলেন নিতেশ

১৯৭৩ সালের ২২ মে মধ্যপ্রদেশের ইটারসিতে জন্ম নিতেশ তিওয়ারির। চলচ্চিত্রে আসার আগে তাঁর পড়াশোনার বিষয় ছিল সম্পূর্ণ আলাদা। ১৯৯৬ সালে আইআইটি বম্বে থেকে মেটালার্জি অ্যান্ড ম্যাটেরিয়ালস সায়েন্স ইঞ্জিনিয়ারিং-এ স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন তিনি।পড়াশোনা শেষ করে বিজ্ঞাপন জগতে কাজ শুরু করেন নিতেশ। সেখানেই গল্প বলা, সৃজনশীল ভাবনা এবং ভিজ্যুয়াল কনটেন্ট তৈরির প্রতি তাঁর আগ্রহ আরও গভীর হয়। শেষ পর্যন্ত সেই অভিজ্ঞতাই তাঁকে চলচ্চিত্র পরিচালনার দিকে নিয়ে যায়।প্রথম ছবিতেই নিতেশ বুঝিয়ে দেন, সহজ গল্পের মধ্যেও আবেগ ও সামাজিক বার্তা কতটা শক্তিশালীভাবে তুলে ধরা যায়।

‘দঙ্গল’ বদলে দেয় কেরিয়ার

নিতেশের কেরিয়ারের সবচেয়ে বড় মোড় আসে ২০১৬ সালে। আমির খান অভিনীত ‘দঙ্গল’ তাঁকে রাতারাতি দেশের অন্যতম আলোচিত পরিচালকের তালিকায় নিয়ে আসে।মহাবীর সিং ফোগাট এবং তাঁর দুই মেয়ে গীতা ও ববিতার জীবনের ঘটনা অবলম্বনে তৈরি ছবিটি ভারত ছাড়িয়ে আন্তর্জাতিক বাজারেও ব্যাপক সাফল্য পায়। ছবিটির জন্য নিতেশ তিওয়ারি ফিল্মফেয়ার সেরা পরিচালক-এর সম্মানও পান।

‘ছিছোড়ে’-তে উঠে আসে জীবনের অন্য গল্প

২০১৯ সালে মুক্তি পায় ‘ছিছোড়ে’। সুশান্ত সিং রাজপুত অভিনীত এই ছবিতে বন্ধুত্ব, ব্যর্থতা, প্রত্যাশার চাপ এবং জীবনের কঠিন সময়ের মতো বিষয় উঠে আসে।ছবিটি দর্শকদের মধ্যে গভীর প্রভাব ফেলে এবং হিন্দিতে সেরা পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রের জাতীয় পুরস্কার অর্জন করে। ফলে নিতেশের পরিচালনার বৈচিত্র্য আরও একবার সামনে আসে।

‘বাওয়াল’-এর পর এবার সবচেয়ে বড় পরীক্ষা

২০২৩ সালে বরুণ ধাওয়ান ও জাহ্নবী কাপুর অভিনীত ‘বাওয়াল’ পরিচালনা করেন নিতেশ। পরিচালনার পাশাপাশি বিভিন্ন ছবিতে লেখক ও প্রযোজক হিসেবেও কাজ করেছেন তিনি।তবে তাঁর কেরিয়ারের সবচেয়ে বড় প্রজেক্ট নিঃসন্দেহে ‘রামায়ণ’।

সাত বছরের প্রস্তুতিতে ‘রামায়ণ’

নিতেশ তিওয়ারির ‘রামায়ণ’ নিয়ে ইতিমধ্যেই দর্শকদের মধ্যে প্রবল আগ্রহ তৈরি হয়েছে। প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ৮৩৫ কোটি টাকা বাজেটের এই মেগা প্রজেক্টের জন্য দীর্ঘ সাত বছর ধরে কাজ করেছেন নির্মাতারা।ছবিতে রামের ভূমিকায় রয়েছেন রণবীর কাপুর, সীতার চরিত্রে সাই পল্লবী এবং রাবণের ভূমিকায় যশ। সিনেমাটি দুই পর্বে নির্মিত হওয়ার কথা রয়েছে।ছবির ভিজ্যুয়াল এফেক্টসের দায়িত্বে রয়েছে আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিত সংস্থা DNEG। সঙ্গীতের ক্ষেত্রেও থাকছে বড় চমক—অস্কারজয়ী এ. আর. রহমান এবং হান্স জিমারের নাম এই প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত।

কেন নিতেশ তিওয়ারির ‘রামায়ণ’ নিয়ে এত প্রত্যাশা?

নিতেশের আগের ছবিগুলোর দিকে তাকালে একটি বিষয় স্পষ্ট—তিনি শুধু বড় বাজেটের ছবি বানানোর দিকে জোর দেন না, গল্পের আবেগকেও গুরুত্ব দেন। ‘দঙ্গল’-এ পারিবারিক সম্পর্ক ও স্বপ্ন, ‘ছিছোড়ে’-তে ব্যর্থতা ও জীবনের মূল্য—প্রতিটি ছবিতেই মানবিক দিকটি গুরুত্বপূর্ণ ছিল।তাই ‘রামায়ণ’-এর মতো বহুল পরিচিত মহাকাব্যকে তিনি কীভাবে আধুনিক প্রযুক্তি, বিশাল ভিজ্যুয়াল স্কেল এবং আবেগের সঙ্গে পর্দায় তুলে ধরেন, সেটিই এখন দেখার বিষয়।

আইআইটি বম্বের ইঞ্জিনিয়ারিং গ্র্যাজুয়েট নিতেশ তিওয়ারি আজ বলিউডের অন্যতম পরিচিত পরিচালক। ‘চিল্লার পার্টি’, ‘দঙ্গল’, ‘ছিছোড়ে’-র মতো ছবিতে সাফল্যের পর এবার তাঁর কাঁধে ভারতের অন্যতম বড় সিনেমা ‘রামায়ণ’-এর দায়িত্ব। রণবীর কাপুর, সাই পল্লবী ও যশকে নিয়ে তৈরি এই মহাকাব্যিক ছবির জন্য দীর্ঘ সাত বছর ধরে প্রস্তুতি নিয়েছেন পরিচালক।

Leave a comment