গডকরির বাইক ট্যাক্সির অনুমতির আবেদন দেশে ৮ কোটি কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা

কেন্দ্রীয় মন জানিয়েছেন। তাঁর মতে, এর মাধ্যমে দেশে প্রায় ৮ কোটি কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হতে পারে। তিনি ট্রাফিক নিয়ম ভঙ্গকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা, ভারী যানচালকদের প্রশিক্ষণ এবং ১০ লক্ষ চালক ও কর্মীর স্বাস্থ্য পরীক্ষার ওপরও জোর দিয়েছেন।

কেন্দ্রীয় সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক মন্ত্রী নিতিন গডকরি সব রাজ্য সরকারকে বাইক ট্যাক্সি পরিষেবার অনুমতি দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করার আবেদন জানিয়েছেন। তাঁর মতে, ব্যক্তিগত বাইক ও স্কুটারের মাধ্যমে যাত্রী পরিবহন চালু হলে দেশে প্রায় ৮ কোটি কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হতে পারে।

নিতিন গডকরি বলেছেন, কেন্দ্র সরকারের পক্ষ থেকে বাইক ট্যাক্সি নিয়ে অনুমতির পথ পরিষ্কার করা হয়েছে। তবে পরিবহন সংক্রান্ত একাধিক ক্ষমতা রাজ্যগুলির হাতে থাকায় বিভিন্ন রাজ্যে নিয়ম ও অনুমোদনের পরিস্থিতি আলাদা। তিনি রাজ্য সরকারগুলিকে বাইক ট্যাক্সির অনুমতি দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করার আবেদন জানান।

বাইক ট্যাক্সিকে গণপরিবহনের একটি বিকল্প মাধ্যম হিসেবে দেখা হচ্ছে। শহরগুলিতে যানজট ও পার্কিংয়ের সমস্যা রয়েছে, যেখানে দুই চাকার যান তুলনামূলক কম জায়গা নেয় এবং স্বল্প দূরত্বের যাতায়াত সহজ করতে পারে। গ্রামীণ এলাকায়, যেখানে গণপরিবহনের সুবিধা সীমিত, সেখানেও বাইক ট্যাক্সি শেষ প্রান্ত পর্যন্ত যোগাযোগ ব্যবস্থায় কাজে আসতে পারে।

গডকরির মতে, যাদের আগে থেকেই বাইক বা স্কুটার রয়েছে, তারাও এই ব্যবস্থার মাধ্যমে আয়ের সুযোগ পেতে পারেন। তবে বিভিন্ন রাজ্যে পরিষেবা পরিচালনার ক্ষেত্রে নিরাপত্তা, লাইসেন্স, বিমা এবং স্থানীয় পরিবহন নিয়ম মেনে চলা প্রয়োজন হবে।

বাইক ট্যাক্সির পাশাপাশি সড়ক নিরাপত্তা নিয়েও গডকরি কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, বারবার ট্রাফিক নিয়ম ভঙ্গকারী গাড়িচালকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা জোরদার করা হবে। এর জন্য মোটর ভেহিকল অ্যাক্টে পরিবর্তনের মাধ্যমে ড্রাইভিং লাইসেন্সে নেগেটিভ পয়েন্ট ব্যবস্থা চালুর প্রস্তাবের কথা জানানো হয়েছে।

এই ব্যবস্থার লক্ষ্য হলো নিয়মিত নিয়ম ভঙ্গকারী চালকদের চিহ্নিত করা এবং তাদের কারণে সড়কে ঝুঁকি তৈরি হওয়া রোধ করা। গুরুতর বা বারবার নিয়ম ভঙ্গের ক্ষেত্রে ড্রাইভিং লাইসেন্স নির্দিষ্ট সময়ের জন্য স্থগিত বা বাতিল করার মতো ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে।

গডকরি ভারী যানবাহন এবং নির্মাণ সরঞ্জাম পরিচালনাকারী চালকদের প্রশিক্ষণের ওপরও জোর দিয়েছেন। তাঁর মতে, ভারী যান এবং নির্মাণযন্ত্র চালানো ব্যক্তিদের জন্য পর্যাপ্ত ও বাধ্যতামূলক প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা প্রয়োজন।

নির্মাণস্থল, খনন এলাকা এবং মহাসড়ক প্রকল্পে JCB ও অন্যান্য ভারী সরঞ্জাম ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়। এই সরঞ্জাম পরিচালনার জন্য সাধারণ গাড়ি চালানোর দক্ষতার পাশাপাশি যন্ত্র পরিচালনা, নিরাপত্তা মানদণ্ড এবং কর্মস্থলের ঝুঁকি সম্পর্কে জ্ঞান প্রয়োজন।

গডকরি JCB India-র মতো সংস্থাগুলির কাছে আবেদন জানিয়েছেন, যাতে সরঞ্জাম দেওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট অপারেটরদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়। এতে যন্ত্রের ভুল ব্যবহারের কারণে দুর্ঘটনা কমাতে সহায়তা হতে পারে।

সড়ক ও কর্মস্থলের নিরাপত্তা জোরদার করতে গডকরি ‘সুরক্ষা’ নামে একটি পাইলট প্রোগ্রামও শুরু করেছেন। এই কর্মসূচির আওতায় মহাসড়ক, খনন ও নির্মাণের মতো ঝুঁকিপূর্ণ ক্ষেত্রের সঙ্গে যুক্ত প্রায় ১০ লক্ষ চালক ও কর্মীর বিনামূল্যে স্বাস্থ্য পরীক্ষা এবং কাউন্সেলিং করানোর পরিকল্পনার কথা জানানো হয়েছে।

এই উদ্যোগের পেছনে ধারণাটি হলো, গাড়ি চালানো ব্যক্তির শারীরিক ও মানসিক সক্ষমতা সড়ক নিরাপত্তায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। দীর্ঘ সময় গাড়ি চালানো চালকদের মধ্যে ক্লান্তি, চাপ এবং স্বাস্থ্যগত সমস্যা দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়াতে পারে।

কর্মসূচির প্রথম পর্যায়ে নাগপুর-কামঠির NH-44 এবং চন্দ্রপুরের খনন এলাকায় প্রায় ১০ হাজার মানুষের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করার লক্ষ্য রাখা হয়েছে। এই সময় স্বাস্থ্য সংক্রান্ত সমস্যা চিহ্নিত করার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় কাউন্সেলিং করার কথাও জানানো হয়েছে।

ভারতে সড়ক দুর্ঘটনায় দুই চাকার যানবাহনের সঙ্গে যুক্ত দুর্ঘটনা উদ্বেগের কারণ হয়ে রয়েছে। গডকরির মতে, দেশে দুই চাকার যানবাহনের দুর্ঘটনায় ৮১,৭৮০ জনের মৃত্যু হয়েছে।

দুই চাকার যানবাহনের চালক ও যাত্রীদের জন্য হেলমেট ব্যবহার, নিরাপদ গতিতে গাড়ি চালানো, সঠিক দিকে চলা এবং মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি না চালানো গুরুত্বপূর্ণ। গাড়ি চালানোর সময় মোবাইল ফোন ব্যবহারের মতো অসতর্কতাও দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ায়।

গডকরির বাইক ট্যাক্সির অনুমতির আবেদন দেশে ৮ কোটি কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা

গডকরি সিট বেল্ট ব্যবহার না করা, হিট অ্যান্ড রান, ভুল দিকে গাড়ি চালানো, মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালানো এবং গাড়ি চালানোর সময় মোবাইল ফোন ব্যবহারের মতো বিষয়কে দুর্ঘটনার প্রধান কারণগুলির মধ্যে উল্লেখ করেছেন। উপলব্ধ তথ্য অনুযায়ী, সিট বেল্ট না ব্যবহারের কারণে ১৪,৪৬৬ এবং হিট অ্যান্ড রান ঘটনায় ৩৪,০৩০ জনের মৃত্যু হয়েছে।

বাইক ট্যাক্সির অনুমতি দেওয়ার জন্য গডকরির আবেদন এমন সময় এসেছে, যখন ভারতের শহরগুলিতে সস্তা ও দ্রুত পরিবহন বিকল্পের চাহিদা রয়েছে। বাইক ট্যাক্সির মাধ্যমে যাত্রীরা স্বল্প দূরত্বে পরিবহন সুবিধা পেতে পারেন এবং গাড়ির মালিকদের জন্য আয়ের নতুন সুযোগ তৈরি হতে পারে।

বড় পরিসরে বাইক ট্যাক্সি পরিষেবা চালুর ক্ষেত্রে নিরাপত্তার মানদণ্ড মেনে চলা প্রয়োজন হবে। চালকদের যাচাই, বৈধ লাইসেন্স, যানবাহনের বিমা, হেলমেট, যাত্রী নিরাপত্তা এবং ডিজিটাল বুকিংয়ের মতো ব্যবস্থা নিরাপদ পরিচালনায় ভূমিকা রাখতে পারে।

সরকারের সামনে একদিকে কর্মসংস্থান ও পরিবহন সুবিধা বাড়ানোর লক্ষ্য রয়েছে, অন্যদিকে সড়ক দুর্ঘটনা কমানোও একটি গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য। বাইক ট্যাক্সি নীতি ও সড়ক নিরাপত্তা বিধি একসঙ্গে শক্তিশালী করার প্রয়োজন রয়েছে।

গডকরির বক্তব্যে সড়ক নিরাপত্তাকে শুধু চালান ও জরিমানার মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে প্রশিক্ষণ, স্বাস্থ্য পরীক্ষা এবং চালকের আচরণের ওপরও গুরুত্ব দেওয়ার দিকটি উঠে এসেছে। ভারী যানচালক ও নির্মাণ সরঞ্জাম অপারেটরদের প্রশিক্ষণ থেকে শুরু করে ড্রাইভিং লাইসেন্সে নেগেটিভ পয়েন্ট ব্যবস্থা—এই পদক্ষেপগুলির লক্ষ্য ঝুঁকিপূর্ণ আচরণ নিয়ন্ত্রণ করা।

বাইক ট্যাক্সির মাধ্যমে সম্ভাব্য কর্মসংস্থানের সুযোগ কার্যকরভাবে কাজে লাগাতে এর সঙ্গে নিরাপত্তা কাঠামো থাকা প্রয়োজন। রাজ্যগুলি নিয়ম স্পষ্ট করা, চালকদের প্রশিক্ষণ দেওয়া এবং যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করলে এই পরিবহন ব্যবস্থা আরও সংগঠিতভাবে বিকশিত হতে পারে।

ভারতে সড়ক নিরাপত্তা, কর্মসংস্থান এবং গণপরিবহনের প্রয়োজনীয়তা পরিবর্তিত হচ্ছে। নতুন পরিবহন পরিষেবাকে এগিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি দুর্ঘটনা ও ট্রাফিক নিয়ম লঙ্ঘন কার্যকরভাবে নিয়ন্ত্রণ করাই নীতিনির্ধারকদের সামনে অন্যতম লক্ষ্য।

 

Leave a comment