দক্ষিণ ২৪ পরগনা: গতকাল বিকেলেও যে নদীবাঁধ মোটামুটি স্বাভাবিক ছিল, বুধবার সকালেই বদলে গেল পুরো ছবি। গঙ্গাসাগরের কচুবেড়িয়া ঘাটের লাগোয়া কশতলা গ্রামে মুড়িগঙ্গা নদীর পাড়ে হঠাৎ বড়সড় ধস নেমেছে। প্রায় ৮০ থেকে ১০০ মিটার বাঁধ নদীর জলে তলিয়ে যাওয়ায় আতঙ্ক ছড়িয়েছে এলাকায়। ইতিমধ্যেই প্রশাসনের তরফে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে জরুরি পদক্ষেপ শুরু হয়েছে।
হঠাৎ ধসে পড়ল বিশাল অংশের নদীবাঁধ
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, কশতলা গ্রামের মুড়িগঙ্গা নদীর তীরে দীর্ঘদিন ধরেই ভাঙনের সমস্যা রয়েছে। প্রায় তিন বছর ধরে বিভিন্ন সময়ে নদীভাঙনের কথা প্রশাসনকে জানিয়ে আসছেন বাসিন্দারা। এবার আচমকা প্রায় ৮০ থেকে ১০০ মিটার বাঁধ ধসে নদীগর্ভে চলে যাওয়ায় নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।এই বাঁধের আশপাশে বসতবাড়ি, দোকানপাট এবং বিস্তীর্ণ কৃষিজমি রয়েছে। ভাঙন আরও বাড়লে বহু পরিবার ও চাষের জমি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
জাহাজের ঢেউ ও স্রোত নিয়ে উদ্বেগ
স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, এই নদীপথ দিয়ে ভারী বাংলাদেশি জাহাজ চলাচল করে। জাহাজ চলাচলের ফলে তৈরি হওয়া ঢেউ এবং জলের স্রোত নদীর দুর্বল পাড়ে আঘাত করছে। এর ফলে ভাঙনের তীব্রতা আরও বাড়ছে বলে তাঁদের অভিযোগ।অন্যদিকে, সম্প্রতি ঘোড়ামারা দ্বীপের বিস্তীর্ণ অংশ ভেঙে যাওয়ার পর মুড়িগঙ্গার জলপ্রবাহের গতিপথেও পরিবর্তন এসেছে বলে স্থানীয়দের দাবি। মূল স্রোত এখন সরাসরিদুর্বল বাঁধের দিকে ধাক্কা মারায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে।
অস্থায়ী রিং বাঁধ তৈরি, তবুও কাটেনি আতঙ্ক
পরিস্থিতি সামাল দিতে প্রশাসনের তরফে ইতিমধ্যেই একটি অস্থায়ী রিং বাঁধ তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে স্থানীয়দের আশঙ্কা, শুধু সাময়িকভাবে বাঁধ মেরামত করলে সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে না।তাঁদের দাবি, দ্রুত শক্তপোক্ত এবং স্থায়ী নদীবাঁধ তৈরি করতে হবে। কারণ ফের বড় ভাঙন শুরু হলে মুহূর্তের মধ্যে বসতবাড়ি ও কৃষিজমিতে জল ঢুকে পড়তে পারে।
রাতারাতি বদলে গেল পরিস্থিতি
স্থানীয় বাসিন্দাদের বক্তব্য, মঙ্গলবার বিকেল পর্যন্ত বাঁধটি ভালোই ছিল। কিন্তু বুধবার সকালে তাঁরা নদীবাঁধে বড়সড় ধস দেখতে পান। অল্প সময়ের মধ্যে এতটা অংশ নদীতে তলিয়ে যাওয়ায় স্বাভাবিকভাবেই আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।ঘরবাড়ি ও জীবিকা হারানোর আশঙ্কায় অনেকেই এখন প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপের দাবি জানাচ্ছেন। বিশেষ করে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের দাবিই জোরালো হচ্ছে এলাকায়।
প্রশাসনের আশ্বাস, তৎপরতার সঙ্গে চলছে কাজ
ঘটনার পর প্রশাসনের পক্ষ থেকে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি সেচ দফতরের এসডিও-কে জানানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন সাগরের বিধায়ক সুমন্ত মণ্ডল।তাঁর বক্তব্য, সাধারণ মানুষের আতঙ্কিত হওয়ার কারণ নেই। পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে এবং প্রশাসন তৎপরতার সঙ্গে কাজ করছে।
গঙ্গাসাগরের প্রধান প্রবেশদ্বার কচুবেড়িয়া ঘাটের কাছে কশতলা গ্রামে মুড়িগঙ্গা নদীর পাড়ে আচমকা বড়সড় ধস নেমেছে। প্রায় ৮০ থেকে ১০০ মিটার নদীবাঁধ নদীগর্ভে চলে যাওয়ায় ঘরবাড়ি, দোকানপাট ও চাষের জমি নিয়ে আশঙ্কায় স্থানীয়রা। পরিস্থিতি সামাল দিতে প্রশাসনের তরফে জরুরি ভিত্তিতে কাজ শুরু হয়েছে।











