বিহারের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে সম্ভাব্য নেতৃত্ব পরিবর্তনকে কেন্দ্র করে জাতীয় গণতান্ত্রিক জোট (এনডিএ)-এর ভেতরে আলোচনা তীব্র হয়েছে। সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) শীর্ষ নেতৃত্ব রাজ্যে নতুন মুখ্যমন্ত্রী নির্বাচনের বিষয়ে কৌশলগত পর্যালোচনা শুরু করেছে। এই প্রক্রিয়ায় সামাজিক সমীকরণ, বিশেষ করে অত্যন্ত পিছিয়ে পড়া শ্রেণি (ইবিসি) এবং তফসিলি জাতি (এসসি) সম্প্রদায়ের ভূমিকা নিয়েও আলোচনা হচ্ছে।
এই প্রেক্ষাপটে একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ঘটনায়, প্রবীণ নেতা নীতীশ কুমার রাজ্যসভার সদস্য হিসেবে শপথ গ্রহণ করেছেন। শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানটি রাজ্যসভার চেয়ারম্যান সি. পি. রাধাকৃষ্ণনের কক্ষে অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে এনডিএ-র একাধিক শীর্ষ নেতা উপস্থিত ছিলেন। উপস্থিতদের মধ্যে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জে. পি. নাড্ডা, ললন সিং, বিহারের উপমুখ্যমন্ত্রী সম্রাট চৌধুরী ও বিজয় সিনহা, পাশাপাশি সঞ্জয় ঝা এবং প্রবীণ নেতা রাজীব প্রতাপ রুডি ছিলেন। শপথ গ্রহণের পর নীতীশ কুমার পাটনার উদ্দেশ্যে রওনা হন।
দিল্লিতে বিজেপির গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক এবং নেতৃত্ব নিয়ে আলোচনা
সূত্রের মতে, ভারতীয় জনতা পার্টির শীর্ষ নেতাদের একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক দিল্লিতে আয়োজিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, যেখানে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহর উপস্থিতি প্রত্যাশিত। তবে পূর্ব নির্ধারিত বৈঠকটি আপাতত স্থগিত রাখা হয়েছে। দলের অভ্যন্তরে বিহারের পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী নির্বাচনের বিষয়ে একাধিক নাম নিয়ে আলোচনা চলছে।
![]()
দলের ভেতরে ধারণা রয়েছে যে, বিজেপি সামাজিক ভারসাম্য বজায় রেখে এ বার নতুন এবং প্রতিনিধিত্বশীল একটি মুখ সামনে আনতে পারে, যেখানে ইবিসি বা এসসি সম্প্রদায়ের নেতাদের অগ্রাধিকার দেওয়া হতে পারে।
সম্ভাব্য ক্ষমতা পরিবর্তনের সময়রেখা
রাজনৈতিক মহলে চলমান আলোচনার ভিত্তিতে সম্ভাব্য সময়রেখা হিসেবে ধারণা করা হচ্ছে যে নীতীশ কুমার ১৩ এপ্রিল মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে তাঁর শেষ মন্ত্রিসভার বৈঠক করতে পারেন। ১৪ এপ্রিল তিনি মুখ্যমন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফা দিতে পারেন। এরপর এনডিএ বিধায়ক দল নতুন নেতা নির্বাচন করবে এবং ১৫ এপ্রিল নতুন সরকারের শপথ গ্রহণের সম্ভাবনা রয়েছে।
তবে এই তারিখগুলির বিষয়ে এখনও কোনও আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ দেওয়া হয়নি।
মুখ্যমন্ত্রী পদের সম্ভাব্য নাম
বিজেপির অভ্যন্তরে সম্ভাব্য নামগুলির মধ্যে বর্তমান উপমুখ্যমন্ত্রী সম্রাট চৌধুরীর নাম উল্লেখ করা হচ্ছে। তিনি কুশওয়াহা সম্প্রদায়ভুক্ত এবং পূর্ববর্তী মেয়াদে সরকারের ভেতরে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছেন। দলের একাধিক নেতার সঙ্গে তাঁর সমন্বয়কেও ইতিবাচক দিক হিসেবে দেখা হচ্ছে। পাশাপাশি, রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিজেপি এ বার নেতৃত্বে সামাজিক বৈচিত্র্যকে অগ্রাধিকার দিতে পারে, যার ফলে ইবিসি এবং এসসি সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিত্ব বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।











