নয়ডা অগ্নিকাণ্ডে আহতদের বয়ানে আতঙ্কজনক পরিস্থিতির বর্ণনা

নয়ডায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় আহতদের বয়ানে দ্রুত ছড়িয়ে পড়া আগুন, উদ্ধার অভিযান, চিকিৎসা পরিস্থিতি এবং তদন্তের তথ্য উঠে এসেছে।
নয়ডা অগ্নিকাণ্ডে আহতদের বয়ানে আতঙ্কজনক পরিস্থিতির বর্ণনা
Photo Credit / Attribution: Google

নয়ডায় অগ্নিকাণ্ডে আহতদের বয়ানে জানা গেছে, দুর্ঘটনার সময় পরিস্থিতি এমন ছিল যে চারদিকে মৃত্যু ঘোরাফেরা করছে বলে মনে হচ্ছিল। আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ায় মানুষ সামলে ওঠার সুযোগ পায়নি এবং ধোঁয়া ও আগুনের মধ্যে প্রাণ বাঁচাতে এদিক-ওদিক ছুটতে থাকে।

আহত আশু হাসপাতালের শয্যায় জানান, “বাঁচতে কোথায় পালাবো… চারদিকে আগুনই আগুন ছিল। কোন দিকে যাব বুঝতে পারছিলাম না, শুধু প্রাণ বাঁচানোর চেষ্টা করছিলাম।” তাঁর মতে, আগুন লাগার পর প্রায় পনেরো মিনিট ধরে মানুষ জীবন-মৃত্যুর লড়াই চালায়। ঘন ধোঁয়ার কারণে শ্বাস নিতে অসুবিধা হচ্ছিল এবং অনেকেই অচেতন হয়ে পড়ে যান।

ভুক্তভোগীদের বক্তব্য অনুযায়ী, দুর্ঘটনা এতটাই আকস্মিক ছিল যে কেউ নিজের জিনিসপত্র গুছিয়ে নেওয়ার সময় পায়নি। অনেকেই সন্তানদের কোলে নিয়ে দৌড়াতে শুরু করেন এবং বেশ কয়েকটি পরিবার একে অপরের থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। কেউ জানালা ভেঙে বেরিয়ে আসে, কেউ ছাদের পথ ব্যবহার করে প্রাণ বাঁচানোর চেষ্টা করে। তবে আগুনের তীব্রতার কারণে বাইরে বের হওয়া অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়ে।

একজন মহিলা ভুক্তভোগী জানান, তিনি তাঁর সন্তানদের বাঁচাতে জ্বলন্ত ঘরে পুনরায় ঢোকার চেষ্টা করেছিলেন। তাঁর কথায়, চারদিকে শুধু ধোঁয়া ও চিৎকার শোনা যাচ্ছিল। মানুষ সাহায্যের জন্য চিৎকার করলেও কেউ কারও কাছে পৌঁছাতে পারছিল না। অনেকের হাত-পা ও মুখ মারাত্মকভাবে দগ্ধ হয়েছে।

হাসপাতালে ভর্তি আহতদের চিকিৎসা চলছে। চিকিৎসকদের মতে, কয়েকজন রোগীর অবস্থা এখনও গুরুতর। শ্বাসকষ্টের কারণে অনেককে অক্সিজেন সাপোর্টে রাখা হয়েছে। হাসপাতালে আহতদের পরিবারের সদস্যদের ভিড় রয়েছে।

ঘটনার পর প্রশাসন ও উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযান শুরু করে। দমকল কর্মীরা দীর্ঘ সময়ের প্রচেষ্টার পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আগুন লাগার কারণ তদন্ত করা হচ্ছে। ভুক্তভোগী পরিবারগুলির অভিযোগ, সময়মতো সাহায্য পৌঁছালে ক্ষয়ক্ষতি কম হতে পারত।

এই ঘটনা এলাকাজুড়ে প্রভাব ফেলেছে। যারা নিজেদের স্বজন হারিয়েছেন, তাদের মধ্যে শোক বিরাজ করছে। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ব্যক্তিরা এখনও সেই ঘটনার স্মৃতি থেকে আতঙ্কিত রয়েছেন।

Leave a comment