বরফে ঢাকা দুর্গম পাহাড়, চারদিকে নিস্তব্ধতা। সেই নীরবতার মাঝেই ক্যামেরা ট্র্যাপে ধরা দিল এক রহস্যময় বন্যপ্রাণী। উত্তর সিকিমের সো লামো এলাকায় প্রথমবারের মতো ক্যামেরাবন্দি হয়েছে বিরল ইউরেশীয় লিংক্স। দীর্ঘদিন ধরেই 'পাহাড়ের ভূত' নামে পরিচিত এই লাজুক শিকারিকে খুঁজছিলেন গবেষকরা। অবশেষে তার আলোকচিত্র সামনে আসতেই উচ্ছ্বাস ছড়িয়েছে বন্যপ্রাণ সংরক্ষণ মহলে।
সিকিমে প্রথম আলোকচিত্র-প্রমাণ
উত্তর সিকিমের প্রায় ৫,২৫০ মিটার উচ্চতায় স্থাপন করা একটি ক্যামেরা ট্র্যাপে ধরা পড়ে ইউরেশীয় লিংক্সের ছবি। সিকিম বন ও পরিবেশ বিভাগ এবং ডব্লিউডব্লিউএফ-ইন্ডিয়ার যৌথ উদ্যোগে পরিচালিত স্নো লেপার্ড ও উচ্চ পার্বত্য বাস্তুতন্ত্র পর্যবেক্ষণ কর্মসূচির অংশ হিসেবেই এই ক্যামেরা বসানো হয়েছিল। বিশেষজ্ঞদের মতে, সিকিমে এই প্রাণীর উপস্থিতির এটিই প্রথম আলোকচিত্র-ভিত্তিক প্রমাণ।
কেন ‘পাহাড়ের ভূত’ বলা হয়?
ইউরেশীয় লিংক্স অত্যন্ত লাজুক, নিভৃতচারী এবং মানুষের চোখের আড়ালে থাকতে পছন্দ করে। দুর্গম তুষারাবৃত পাহাড়, আলপাইন তৃণভূমি ও ঘন বনাঞ্চলে বিচরণ করায় এই প্রাণীকে সচরাচর দেখা যায় না। সেই কারণেই বন্যপ্রাণ বিশেষজ্ঞদের কাছে এটি ‘পাহাড়ের ভূত’ নামেই বেশি পরিচিত।
কী কী বৈশিষ্ট্যে আলাদা এই বিরল বন্যপ্রাণী?
ইউরোপ ও এশিয়ার বৃহত্তম লিংক্স প্রজাতির অন্যতম সদস্য এই প্রাণী। কানের ডগায় কালো লোমের গুচ্ছ, সারা শরীরে ছোপ-ছোপ লোম, শক্তিশালী চওড়া থাবা এবং ছোট লেজই এর প্রধান বৈশিষ্ট্য। তুষারাচ্ছন্ন পরিবেশে সহজে চলাচলের জন্য এর থাবা বিশেষভাবে অভিযোজিত, যা কঠিন পাহাড়ি অঞ্চলেও শিকার ধরতে সাহায্য করে।
পূর্ব হিমালয়ের জীববৈচিত্র্যে নতুন আশার আলো
এতদিন ভারতে মূলত লাদাখ এবং হিমাচল প্রদেশের কিছু এলাকায় ইউরেশীয় লিংক্সের উপস্থিতির তথ্য পাওয়া গিয়েছিল। এবার উত্তর সিকিমে তার উপস্থিতির প্রমাণ মেলায় পূর্ব হিমালয়ের জীববৈচিত্র্য ও সংরক্ষণ কার্যক্রম নিয়ে নতুন আশাবাদ তৈরি হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই আবিষ্কার প্রমাণ করে যে উচ্চ পার্বত্য অঞ্চলের বাস্তুতন্ত্র এখনও বহু বিরল প্রাণীর নিরাপদ আশ্রয়স্থল।
সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়াল উচ্ছ্বাস
ছবিটি প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই সমাজমাধ্যমে ব্যাপক সাড়া পড়েছে। বন্যপ্রাণপ্রেমী, গবেষক এবং প্রকৃতিপ্রেমীরা এই ঘটনাকে ভারতের বন্যপ্রাণ গবেষণার একটি গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য হিসেবে দেখছেন। অনেকের মতে, এই ছবি শুধু একটি বিরল প্রাণীর অস্তিত্বই তুলে ধরেনি, বরং অজানা পাহাড়ি জীববৈচিত্র্য সম্পর্কে নতুন করে আগ্রহও বাড়িয়েছে।
উত্তর সিকিমের সো লামো অঞ্চলে প্রথমবার ক্যামেরা ট্র্যাপে ধরা পড়েছে বিরল ইউরেশীয় লিংক্স। 'পাহাড়ের ভূত' নামে পরিচিত এই দুর্লভ বন্যপ্রাণীর ছবি সামনে আসতেই পূর্ব হিমালয়ের জীববৈচিত্র্য নিয়ে নতুন আশার আলো দেখছেন বিশেষজ্ঞরা। ঘটনাকে ভারতের বন্যপ্রাণ সংরক্ষণের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।











