জঙ্গলমহলের সাঁওতালি মাধ্যমের পড়ুয়াদের দীর্ঘদিনের সমস্যার অবশেষে সমাধান হতে চলেছে। স্কুলস্তরে অলচিকি হরফে পড়াশোনার সুযোগ থাকলেও উচ্চশিক্ষায় সেই সুযোগ ছিল সীমিত। ফলে অনেক পড়ুয়াকেই বাধ্য হয়ে বাংলা মাধ্যমে পড়তে হত কিংবা দূরের কলেজে ভর্তি হতে হত। এবার সেই পরিস্থিতি বদলাতে চলেছে পশ্চিম মেদিনীপুরের দাঁতন ভট্টর অটোনোমাস কলেজের উদ্যোগে।
![]()
তিন বিষয়ে অলচিকি হরফে পঠনপাঠন
কলেজ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, চলতি শিক্ষাবর্ষ থেকেই সাঁওতালি, প্রাণীবিজ্ঞান (জুলজি) এবং পুষ্টিবিজ্ঞান (নিউট্রিশন) বিষয় অলচিকি হরফে পড়ানো হবে। এই সিদ্ধান্তে খুশি স্থানীয় আদিবাসী সম্প্রদায়ের পড়ুয়া ও অভিভাবকরা।বিশেষজ্ঞদের মতে, মাতৃভাষায় উচ্চশিক্ষার সুযোগ বাড়লে পড়াশোনায় আগ্রহ যেমন বাড়বে, তেমনই পড়ুয়াদের ড্রপআউটের সংখ্যাও কমতে পারে।
বিধায়কের আবেদনে মিলল সাড়া
কেশিয়াড়ি বিধানসভার নবনির্বাচিত বিধায়ক ভদ্র হেমরম এই বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছেন। তিনি দাঁতন ভট্টর কলেজের অধ্যক্ষের কাছে লিখিতভাবে আবেদন জানান, যাতে সাঁওতালি মাধ্যমের পড়ুয়াদের জন্য অলচিকি হরফে উচ্চশিক্ষার ব্যবস্থা করা হয়।বিধায়ক নিজেও একজন শিক্ষক হওয়ায় পড়ুয়াদের সমস্যার বিষয়টি কাছ থেকে উপলব্ধি করেছেন বলে জানান। তাঁর আবেদনের ভিত্তিতেই কলেজ কর্তৃপক্ষ বিষয়টি নিয়ে শিক্ষা পরিষদের সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে।
![]()
আর যেতে হবে না ঝাড়গ্রাম বা বাঁকুড়া
জঙ্গলমহলের একাধিক স্কুলে সাঁওতালি মাধ্যমে পড়াশোনার ব্যবস্থা থাকলেও উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে বড় সমস্যা তৈরি হত। মাধ্যমিক বা উচ্চমাধ্যমিকের পর অনেক পড়ুয়াকে ঝাড়গ্রামের লালগড় বা বাঁকুড়ার কলেজে যেতে হত। অনেকেই আবার বাংলা মাধ্যমে পড়াশোনা শুরু করতে বাধ্য হতেন।নতুন এই উদ্যোগের ফলে পশ্চিম মেদিনীপুরের পড়ুয়াদের এখন নিজের জেলার মধ্যেই অলচিকি হরফে উচ্চশিক্ষার সুযোগ মিলবে। এতে সময় ও অর্থ— দুইয়েরই সাশ্রয় হবে বলে মনে করছেন অভিভাবকেরা।
চাকরিমুখী কোর্স চালুর পরিকল্পনাও
কলেজের অধ্যক্ষ গিরিধারী পণ্ডা জানিয়েছেন, শুধু তিনটি বিষয়েই সীমাবদ্ধ থাকছে না কলেজের পরিকল্পনা। আগামী দিনে বিএমএলটি-র মতো চাকরিমুখী কোর্সও চালু করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এর ফলে আদিবাসী সম্প্রদায়ভুক্ত পড়ুয়াদের কর্মসংস্থানের সুযোগও বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।চলতি শিক্ষাবর্ষ থেকেই এই নতুন বিভাগগুলিতে ভর্তি প্রক্রিয়া শুরু হবে বলেও জানিয়েছে কলেজ কর্তৃপক্ষ।
![]()
শিক্ষার মানোন্নয়নে আশ্বাস
কলেজে এসে অধ্যক্ষের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন বিধায়ক ভদ্র হেমরম। কলেজ ক্যাম্পাসও ঘুরে দেখেন তিনি। শিক্ষাক্ষেত্রে উন্নয়ন এবং সাঁওতালি মাধ্যমের পড়ুয়াদের পাশে থাকার আশ্বাসও দেন বিধায়ক।স্থানীয়দের মতে, এই উদ্যোগ শুধু শিক্ষার ক্ষেত্রেই নয়, সাঁওতালি ভাষা ও সংস্কৃতির সংরক্ষণেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে।
![]()
সাঁওতালি মাধ্যমের পড়ুয়াদের উচ্চশিক্ষার পথ আরও সহজ করতে বড় উদ্যোগ নিল পশ্চিম মেদিনীপুরের দাঁতন ভট্টর অটোনোমাস কলেজ। চলতি শিক্ষাবর্ষ থেকেই সাঁওতালি, জুলজি ও নিউট্রিশন— এই তিনটি বিষয় অলচিকি হরফে পড়ানো হবে। ফলে আর উচ্চশিক্ষার জন্য ঝাড়গ্রাম বা বাঁকুড়ায় ছুটতে হবে না পড়ুয়াদের।









