ইভি বাজারে ধাক্কার পর এবার ঘুরে দাঁড়ানোর বার্তা দিল ওলা ইলেকট্রিক। ব্যবসায়িক কাঠামোয় বড় পরিবর্তন, খরচ কমানো এবং পরিষেবায় জোর—এই তিন অস্ত্রেই তৃতীয় ত্রৈমাসিকে নজিরবিহীন পারফরম্যান্স দেখাল সংস্থাটি।
রেকর্ড গ্রস মার্জিন, খরচে কাঁটছাঁট
ডিসেম্বর ত্রৈমাসিকের শেষে ওলা ইলেকট্রিকের গ্রস মার্জিন দাঁড়িয়েছে ৩৪.৩ শতাংশ। গত বছরের তুলনায় যা ১৫.৭ শতাংশ বেশি। বৈদ্যুতিক দু’চাকার শিল্পে এই মার্জিন কার্যত রেকর্ড বলেই মত বিশেষজ্ঞদের।সংস্থার দাবি, গত কয়েক মাসে ব্যবসায়িক মডেলে বড়সড় বদল আনা হয়েছে। অপ্রয়োজনীয় খরচ কমিয়ে দক্ষতা বাড়ানোর কৌশলেই মিলেছে এই সাফল্য।
ওপেক্স কমিয়ে ব্রেক-ইভেনের পথে
এক সময় সংস্থার অপারেশনাল খরচ (ওপেক্স) পৌঁছে গিয়েছিল ৮৪০ কোটি টাকায় (২০২৫ অর্থবর্ষের শেষ ত্রৈমাসিক)। বর্তমানে তা নামিয়ে আনা হয়েছে ৪৮৪ কোটিতে। আগামী দিনে এই খরচ ২৫০–৩০০ কোটির মধ্যে নামিয়ে আনার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।পরিকল্পনা অনুযায়ী, মাসে মাত্র ১৫ হাজার গাড়ি বিক্রি করলেই সংস্থা লোকসান কাটিয়ে ব্রেক-ইভেনে পৌঁছতে পারবে। উৎপাদন পরিকাঠামোয় চার গুণ বাড়ানোর সক্ষমতাও রয়েছে বলে দাবি সংস্থার।
পরিষেবায় জোর, ‘হাইপারসার্ভিস’ উদ্যোগ
গ্রাহক পরিষেবায় অভিযোগ বাড়ায় সমালোচনার মুখে পড়েছিল সংস্থা। সেই প্রেক্ষিতে ‘হাইপারসার্ভিস’ কর্মসূচি চালু করেছে ওলা। সংস্থার দাবি, এখন ৮০ শতাংশ অভিযোগ একই দিনে মেটানো হচ্ছে। বকেয়া পরিষেবার চাপও প্রায় অর্ধেক কমেছে।
দেশীয় ব্যাটারি সেল উৎপাদনে গতি
তামিলনাড়ুর গিগাফ্যাক্টরিতে ব্যাটারি সেলের উৎপাদন দ্বিগুণ হয়েছে। দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি ‘৪৬৮০ ভারত সেল’ ইতিমধ্যেই গ্রাহকদের গাড়িতে ব্যবহার শুরু হয়েছে। দেশীয় উৎপাদন বাড়িয়ে খরচ কমানো এবং প্রযুক্তিগত নির্ভরতা বৃদ্ধিই সংস্থার কৌশল।
বিক্রি ও আয় বৃদ্ধির ইঙ্গিত
গত অক্টোবর থেকে ডিসেম্বরের মধ্যে মোট ৩২,৬৮০টি গাড়ি গ্রাহকদের হাতে তুলে দিয়েছে ওলা। ত্রৈমাসিকে মোট আয় হয়েছে ৪৭০ কোটি টাকা। সংস্থার মুখপাত্রের মতে, এটি ওলার জন্য এক ‘রিসেট’—নতুন সূচনার সময়।
দু’চাকার বৈদ্যুতিক বাজারে মন্দার আবহ কাটিয়ে ঘুরে দাঁড়ানোর ইঙ্গিত দিল Ola Electric। ২০২৬ অর্থবর্ষের তৃতীয় ত্রৈমাসিকে সংস্থার গ্রস মার্জিন পৌঁছেছে ৩৪.৩ শতাংশে, যা শিল্পমহলের মতে রেকর্ড। খরচ কমিয়ে দ্রুত ব্রেক-ইভেনে পৌঁছনোই এখন মূল লক্ষ্য Bhavish Aggarwal-এর নেতৃত্বাধীন সংস্থার।










