পোলিও নির্মূলে টিকাকরণ কর্মসূচি দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জনস্বাস্থ্য উদ্যোগ। সেই কর্মসূচির সাম্প্রতিক পর্বে পশ্চিমবঙ্গে নজর কেড়েছে বসিরহাট স্বাস্থ্যজেলা। রাজ্যের মধ্যে সর্বোচ্চ কভারেজের নজির গড়েছে এই জেলা। বিপরীতে, কলকাতার পরিসংখ্যান স্বাস্থ্য মহলে নতুন করে ভাবনার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। স্বাস্থ্য দফতরের তথ্য বলছে, বুথ ডে-র নিরিখে রাজধানী শহরের কভারেজ রাজ্যের মধ্যে সর্বনিম্ন।
বুথ ডে-তেই সাফল্যের নজির বসিরহাটে
স্বাস্থ্য ভবনের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বসিরহাট স্বাস্থ্যজেলায় ২ লক্ষ ৭ হাজার ৪৮৭ জন শিশুকে পোলিও টিকা দেওয়ার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছিল। বুথ ডে-তেই তার ৮৮ শতাংশ পূরণ হওয়ায় রাজ্যের মধ্যে প্রথম স্থান দখল করেছে এই স্বাস্থ্যজেলা। স্বাস্থ্যকর্মী, আশাকর্মী, প্রশাসন এবং অভিভাবকদের সম্মিলিত প্রচেষ্টাই এই সাফল্যের মূল ভিত্তি বলে মনে করছে স্বাস্থ্য মহল।
দক্ষিণ দিনাজপুর ও বাঁকুড়াও সেরার তালিকায়
বসিরহাটের পর দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে দক্ষিণ দিনাজপুর, যেখানে কভারেজ হয়েছে ৮৭ শতাংশ। তৃতীয় স্থানে রয়েছে বাঁকুড়া, তাদের কভারেজ ৮৬ শতাংশ। এই তিন জেলার সাফল্য প্রমাণ করছে যে পরিকল্পিত প্রচার ও সক্রিয় মাঠপর্যায়ের কাজ টিকাকরণ কর্মসূচিকে আরও সফল করে তুলতে পারে।
রাজ্যের গড়ের তুলনায় অনেকটাই এগিয়ে বসিরহাট
চলতি বছরে পশ্চিমবঙ্গে মোট ৮৪ লক্ষ ২৪ হাজার ৫১৪ জন শিশুকে পোলিও টিকা দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। বুথ ডে-তে টিকা পেয়েছে ৬৩ লক্ষ ২৬ হাজার ৯৫৬ জন শিশু, অর্থাৎ রাজ্যের গড় কভারেজ দাঁড়িয়েছে ৭৫ শতাংশ। সেই তুলনায় বসিরহাটের ৮৮ শতাংশ কভারেজ যথেষ্ট উল্লেখযোগ্য। মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক ডা. শ্যামল কুমার বিশ্বাস এই সাফল্যের কৃতিত্ব স্বাস্থ্যকর্মীদের নিষ্ঠা এবং সাধারণ মানুষের সচেতনতাকে দিয়েছেন।
কলকাতা কেন একেবারে শেষের দিকে?
সবচেয়ে কম কভারেজ হয়েছে কলকাতায়। ৪ লক্ষ ৫৩ হাজার ৬৬৪ জন শিশুর লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে টিকা পেয়েছে মাত্র ১ লক্ষ ৮৯ হাজার ৮৮৪ জন, অর্থাৎ মাত্র ৪২ শতাংশ। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, মহানগরের বহু পরিবার বুথে না গিয়ে পরবর্তী 'হাউস-টু-হাউস' অভিযানে শিশুদের টিকা খাওয়াতে বেশি অভ্যস্ত। এছাড়া কর্মসূত্রে মানুষের স্থানান্তর, বহুতল আবাসনে পৌঁছানোর অসুবিধা এবং বুথে তুলনামূলক কম উপস্থিতিও এই কম কভারেজের অন্যতম কারণ বলে মনে করা হচ্ছে।
আগামী লক্ষ্য আরও বেশি শিশুর কাছে পৌঁছনো
স্বাস্থ্য দফতরের আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা এখনও সামনে না এলেও বসিরহাটের সাফল্য গোটা রাজ্যের জন্য একটি ইতিবাচক দৃষ্টান্ত হয়ে উঠেছে। আগামী দিনে বাড়ি বাড়ি গিয়ে টিকাকরণ অভিযান আরও জোরদার করার পাশাপাশি অভিভাবকদের সচেতনতা বৃদ্ধির উপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে। পোলিওমুক্ত ভবিষ্যৎ গড়ে তোলাই এখন স্বাস্থ্য ব্যবস্থার অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।
জাতীয় পোলিও টিকাকরণ দিবসে পশ্চিমবঙ্গের মধ্যে সর্বোচ্চ সাফল্য অর্জন করেছে বসিরহাট স্বাস্থ্যজেলা। বুথ ডে-তেই লক্ষ্যমাত্রার ৮৮ শতাংশ শিশুকে পোলিও টিকা দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে মাত্র ৪২ শতাংশ কভারেজ নিয়ে তালিকার একেবারে নীচে রয়েছে কলকাতা। কেন এই বৈষম্য, তা নিয়েও উঠে এসেছে একাধিক কারণ।











