ওসমান হাদির মৃত্যুতে জ্বলছে বাংলাদেশ! কে এই ‘জুলাই বিপ্লবের মুখ’? ভারত বিদ্বেষেই কি জনপ্রিয়তা?

জুলাই বিপ্লবের মুখ ওসমান হাদির মৃত্যুতে উত্তাল বাংলাদেশ। ভারত বিরোধিতা, ইনকিলাব মঞ্চ ও রহস্যমৃত্যু—কে ছিলেন এই তরুণ নেতা? জানুন বিস্তারিত।

সিঙ্গাপুরের এক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয়েছে বাংলাদেশের তরুণ রাজনৈতিক নেতা ওসমান হাদির। তাঁর মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়তেই বাংলাদেশ জুড়ে ছড়িয়ে পড়ে হিংসা, অগ্নিসংযোগ ও সংঘর্ষ। একাধিক জেলায় সাংবাদিক ও সংখ্যালঘু নাগরিক খুনের ঘটনাও সামনে এসেছে। মাত্র ৩২ বছর বয়সে এমন প্রভাব—কে ছিলেন ওসমান হাদি, যাঁর মৃত্যুতে টলমল অন্তর্বর্তী সরকার?

কে এই ওসমান হাদি?

বরিশালে জন্ম ওসমান হাদির। বাবা ছিলেন মাদ্রাসার শিক্ষক। ছয় ভাইবোনের মধ্যে তিনি ছিলেন সর্বকনিষ্ঠ। মাদ্রাসা শিক্ষা শেষ করে ভর্তি হন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে। রাষ্ট্রবিজ্ঞান নিয়ে পড়াশোনা করা হাদি কোনও প্রতিষ্ঠিত রাজনৈতিক দলের সদস্য ছিলেন না, তবুও অল্প সময়েই হয়ে ওঠেন গণ আন্দোলনের অন্যতম মুখ।

কোটা আন্দোলন থেকে ‘জুলাই বিপ্লব’

২০২৪ সালে কোটা সংস্কার আন্দোলনের সময় রাজপথে নামেন ওসমান হাদি। সেখান থেকেই ধীরে ধীরে তিনি শেখ হাসিনা বিরোধী ছাত্র-যুব আন্দোলনের অন্যতম কণ্ঠস্বর হয়ে ওঠেন। জুলাই বিপ্লবের সময় তাঁর বক্তৃতা ও অবস্থান তাঁকে এনে দেয় বিপুল জনপ্রিয়তা।

ইনকিলাব মঞ্চ ও রাজনৈতিক উত্থান

হাদি ছিলেন ‘ইনকিলাব মঞ্চ’-এর আহ্বায়ক। এই মঞ্চ দ্রুতই একটি প্রভাবশালী রাজনৈতিক গোষ্ঠীতে পরিণত হয়, যার মূল লক্ষ্য ছিল আওয়ামি লিগকে নিষিদ্ধ করা। ইউনুসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার চলতি বছরের মে মাসে আওয়ামি লিগকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করলে ইনকিলাব মঞ্চ আরও শক্তিশালী হয়ে ওঠে।

ভারত বিরোধিতাই কি জনপ্রিয়তার চাবিকাঠি?

ওসমান হাদির রাজনৈতিক অবস্থানের অন্যতম দিক ছিল তাঁর প্রকাশ্য ভারত বিরোধিতা। ভারতকে আক্রমণ করে দেওয়া বক্তব্য তাঁকে একাংশের কাছে ‘বিপ্লবী মুখ’ হিসেবে তুলে ধরে। এই অবস্থানই তাঁকে দ্রুত জনমানসে পরিচিত করে তোলে বলে মত রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের।

ধানমন্ডি ৩২ ও বিতর্কিত ভূমিকা

ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে শেখ মুজিবুর রহমানের বাড়িতে ভাঙচুরের ঘটনায় হাদির সক্রিয় উপস্থিতি ছিল বলে অভিযোগ। ঘটনাস্থল থেকেই তিনি নির্দেশ দিচ্ছিলেন বলে জানা যায়। দেশজুড়ে পালাবদলের পরেও তাঁর ভাষা ও অবস্থান ছিল আক্রমণাত্মক, যা ঘিরে বিতর্কও কম হয়নি।

হুমকি, আশঙ্কা ও রহস্যমৃত্যু

মৃত্যুর আগে নিজের সোশ্যাল মিডিয়ায় হাদি দাবি করেছিলেন, আওয়ামি লিগ তাঁকে নজরে রেখেছে। দেশি-বিদেশি প্রায় ৩০টি নম্বর থেকে তাঁকে ফোন ও হুমকি দেওয়া হত বলেও অভিযোগ করেন তিনি। শেষ পর্যন্ত অজ্ঞাতপরিচয় বাইক আরোহীদের গুলিতে তাঁর মৃত্যু হয় বলে দাবি করা হয়েছে।

মৃত্যুর পর অগ্নিগর্ভ বাংলাদেশ

হাদির মৃত্যুর পর খুলনায় এক সাংবাদিক খুন, সংখ্যালঘু দীপু দাসকে পিটিয়ে হত্যার মতো ঘটনায় দেশজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়েছে। একাধিক এলাকায় অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুরের খবর মিলেছে, যা অন্তর্বর্তী সরকারের উপর চাপ আরও বাড়িয়েছে।

বাংলাদেশের তরুণ রাজনীতিবিদ ও জুলাই বিপ্লবের অন্যতম মুখ ওসমান হাদির মৃত্যু ঘিরে অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। সংঘর্ষ, খুন ও সংখ্যালঘু নির্যাতনের ঘটনায় কাঁপছে দেশ। ভারত-বিরোধী অবস্থান, শেখ হাসিনা বিরোধী রাজনীতি ও ইনকিলাব মঞ্চ—সব মিলিয়ে কে ছিলেন ওসমান হাদি?

Leave a comment