উত্তরপ্রদেশ বিধানসভা নির্বাচনের আগে জোটের সম্ভাবনা, ২ অক্টোবর সিদ্ধান্ত জানাবে AIMIM

উত্তরপ্রদেশ বিধানসভা নির্বাচনের আগে জোটের সম্ভাবনা নিয়ে AIMIM প্রধান আসাদউদ্দিন ওয়েইসি রাজনৈতিক দলগুলিকে আলোচনার আহ্বান জানিয়েছেন। জোট নিয়ে ২ অক্টোবরের মধ্যে সিদ্ধান্ত জানানোর কথা বলেছেন তিনি।

AIMIM প্রধান আসাদউদ্দিন ওয়েইসি উত্তরপ্রদেশ বিধানসভা নির্বাচনের আগে জোটের সম্ভাবনা নিয়ে দলের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন। কানপুরে এক জনসভায় তিনি বলেন, উত্তরপ্রদেশে ভারতীয় জনতা পার্টির (BJP) টানা তৃতীয়বার সরকার গঠন ঠেকাতে আগ্রহী রাজনৈতিক দলগুলি AIMIM-এর সঙ্গে আলোচনা করতে পারে। জোট নিয়ে সিদ্ধান্ত ২ অক্টোবরের মধ্যে জানানো হবে বলে তিনি জানান।

রবিবার কানপুরের ক্যান্টনমেন্ট বিধানসভা এলাকায় এক জনসভায় বক্তব্য রাখার সময় ওয়েইসি বলেন, উত্তরপ্রদেশে BJP-এর টানা তৃতীয়বার সরকার গঠনের বিরোধিতা করে এমন রাজনৈতিক দলগুলির সঙ্গে জোট করতে AIMIM প্রস্তুত।

তিনি বলেন, কোনও রাজনৈতিক দল যদি BJP-কে ফের সরকার গঠন থেকে আটকাতে চায়, তাহলে তারা AIMIM-এর সঙ্গে আলোচনা করতে পারে। এ বিষয়ে তাঁর দল ২ অক্টোবর পর্যন্ত অপেক্ষা করবে এবং এরপর জোট নিয়ে সিদ্ধান্ত ঘোষণা করবে।

জনসভায় ওয়েইসি উত্তরপ্রদেশে AIMIM-কে শক্তিশালী করার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, বিধানসভায় মুসলিম সম্প্রদায়ের রাজনৈতিক কণ্ঠস্বর ও প্রতিনিধিত্ব প্রয়োজন।

AIMIM প্রধানের এই বক্তব্য এমন সময় এসেছে, যখন উত্তরপ্রদেশে ২০২৭ সালের বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজনৈতিক দলগুলির প্রস্তুতি ধীরে ধীরে বাড়ছে। AIMIM রাজ্যে সাংগঠনিক কার্যক্রম বাড়িয়েছে এবং বিভিন্ন বিধানসভা এলাকায় জনসভা ও কর্মসূচি শুরু করেছে।

ওয়েইসি বলেন, তাঁর দল শুধুমাত্র জোটের আলোচনার ওপর নির্ভর করবে না এবং উত্তরপ্রদেশে সাংগঠনিক কাজ চালিয়ে যাবে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, দল বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে স্থানীয় সমস্যাগুলি বোঝার এবং নিজেদের রাজনৈতিক ভিত্তি শক্তিশালী করার চেষ্টা করছে।

ওয়েইসি স্পষ্ট করেন যে সম্ভাব্য জোট নিয়ে AIMIM ২ অক্টোবর পর্যন্ত অপেক্ষা করবে। এরপর দলটি কোনও জোটের অংশ হবে কি না এবং জোট হলে কোন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সমঝোতা করা হবে, তা ঠিক করবে।

তিনি রাজনৈতিক দলগুলির উদ্দেশে বলেন, যারা উত্তরপ্রদেশে BJP-কে তৃতীয়বার সরকার গঠন থেকে আটকাতে চায়, তারা AIMIM-এর সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারে। এই বক্তব্যকে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিরোধী দলগুলির মধ্যে সম্ভাব্য আসন-বণ্টন ও রাজনৈতিক সহযোগিতা নিয়ে আলোচনার প্রেক্ষাপটে দেখা হচ্ছে।

তবে ওয়েইসি এখনও কোনও নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের নাম করে বলেননি যে AIMIM কোন দলের সঙ্গে জোট করবে। ফলে জোটের সম্ভাব্য চিত্র এখনও স্পষ্ট নয়।

কানপুরে ওয়েইসি বিহার বিধানসভা নির্বাচনের সময় জোট নিয়ে AIMIM-এর প্রচেষ্টার কথাও উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, তাঁর দল জোটের অধীনে ছয়টি আসনে নির্বাচনে লড়ার প্রস্তাব দিয়েছিল, কিন্তু তা গ্রহণ করা হয়নি।

ওয়েইসি অভিযোগ করেন, এর পরিবর্তে তাঁর দলকে নিয়ে ভুল অভিযোগ করা হয়েছিল। তিনি বলেন, AIMIM বিহারে জোটের বিষয়ে রাষ্ট্রীয় জনতা দল (RJD), কংগ্রেস এবং বাম দলগুলির সঙ্গে যোগাযোগ করেছিল।

এই প্রসঙ্গ তুলে ওয়েইসি উত্তরপ্রদেশে সম্ভাব্য সহযোগিতার জন্য রাজনৈতিক দলগুলির সঙ্গে আলোচনার আহ্বান জানান। তাঁর বক্তব্য ছিল, জোটের রাজনৈতিক আলোচনায় AIMIM-কে অন্তর্ভুক্ত করা উচিত।

কানপুরের সভায় ওয়েইসি সমাজবাদী পার্টির প্রধান এবং উত্তরপ্রদেশের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী অখিলেশ যাদবেরও সমালোচনা করেন। অখিলেশ যাদবের মুখ্যমন্ত্রী থাকাকালীন ২০১৩ সালের মুজফ্ফরনগর দাঙ্গার প্রসঙ্গ তুলে তিনি তৎকালীন সরকারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।

ওয়েইসি দাবি করেন, মুজফ্ফরনগরের হিংসার পর প্রায় ৫০,০০০ মানুষ তাঁদের বাড়ি ও গ্রাম থেকে বাস্তুচ্যুত হয়েছিলেন। তৎকালীন সমাজবাদী পার্টি সরকারের সময় মুসলিম সম্প্রদায়ের রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্ব নিয়েও তিনি প্রশ্ন তোলেন।

এই সংখ্যা এবং ঘটনাবলির রাজনৈতিক ব্যাখ্যা ওয়েইসির বক্তব্যের অংশ। মুজফ্ফরনগরের হিংসা এবং পরবর্তী বাস্তুচ্যুতি নিয়ে বিভিন্ন সরকারি ও সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে পরিসংখ্যান ও পরিস্থিতির পৃথক বিবরণ পাওয়া গেছে। তাই এটিকে ওয়েইসির দাবি হিসেবে দেখা উচিত।

AIMIM প্রধান উত্তরপ্রদেশে ধারাবাহিকভাবে ক্ষমতায় থাকা সরকারগুলির বিরুদ্ধে মুসলিম সম্প্রদায়ের সঙ্গে যুক্ত একাধিক সমস্যা যথেষ্টভাবে সমাধান না করার অভিযোগ তোলেন। তিনি বিশেষ করে শিক্ষা এবং সামাজিক-অর্থনৈতিক উন্নয়ন সংক্রান্ত বিষয়গুলি উত্থাপন করেন।

ওয়েইসি বলেন, নির্বাচনের সময় বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ভোটারদের কাছে যাবে এবং প্রতিষ্ঠিত রাজনৈতিক দলগুলিকে সমর্থনের আবেদন করবে। এই রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার মধ্যে AIMIM-এরও শক্তিশালী জনভিত্তি ও বিধানসভায় প্রতিনিধিত্ব প্রয়োজন বলে তিনি জানান।

তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, মুসলিম সম্প্রদায়ের সঙ্গে যুক্ত বিষয়গুলি বিধানসভায় রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্বের মাধ্যমে উত্থাপন করা উচিত। এটি তাঁর নির্বাচনী প্রচারের একটি প্রধান রাজনৈতিক বার্তা ছিল।

ওয়েইসি উত্তরপ্রদেশের BJP সরকারের মাদ্রাসা সংক্রান্ত নীতি ও পদক্ষেপেরও সমালোচনা করেন। তিনি ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনে মুসলিম ধর্মীয় পণ্ডিত ও উলামাদের ভূমিকার উল্লেখ করেন।

কানপুরে মাদ্রাসার ইতিহাস নিয়েও তিনি বক্তব্য রাখেন এবং দাবি করেন, স্বাধীনতা সংগ্রামের সময় মুসলিম উলামারা ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে ফতোয়া জারি করেছিলেন।

AIMIM প্রধান মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের স্বাধীনতা সংগ্রামী এবং প্রাক্তন কংগ্রেস সভাপতি মৌলানা মহম্মদ আলি জওহরকে নিয়ে করা মন্তব্যেরও আপত্তি জানান। ওয়েইসি স্বাধীনতা আন্দোলনে জওহরের ভূমিকার উল্লেখ করে BJP সরকারের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক ও আদর্শগত প্রশ্ন তোলেন।

উত্তরপ্রদেশে ২০২৭ সালের বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের কার্যক্রম বাড়ছে। AIMIM-ও একাধিক বিধানসভা এলাকায় সংগঠন শক্তিশালী করার ওপর জোর দিয়েছে। ওয়েইসি সাম্প্রতিক কর্মসূচিতে শ্রাবস্তী এবং আজমগড়-সহ অন্যান্য এলাকায় দলের আসন্ন কার্যক্রমের উল্লেখ করেন।

কানপুরের সভায় ওয়েইসির জোট সংক্রান্ত বক্তব্য এই বৃহত্তর নির্বাচনী প্রস্তুতির অংশ। তিনি একদিকে AIMIM-কে শক্তিশালী করার আহ্বান জানান, অন্যদিকে BJP-কে তৃতীয়বার সরকার গঠন থেকে আটকাতে যে দলগুলি একই রাজনৈতিক অবস্থান পোষণ করে, তাদের একসঙ্গে আসার বার্তা দেন।

এখনও AIMIM কোনও জোট বা আসন-বণ্টন নিয়ে চূড়ান্ত ঘোষণা করেনি। দলটি ২ অক্টোবরের মধ্যে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা জানিয়েছে। ফলে আগামী দিনে AIMIM কোন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলোচনা করে এবং কোনও আনুষ্ঠানিক জোট সামনে আসে কি না, তা স্পষ্ট হবে।

ওয়েইসির বক্তব্যের পর উত্তরপ্রদেশের নির্বাচনী রাজনীতিতে সম্ভাব্য জোট নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে কোনও জোটের চূড়ান্ত রূপরেখা, আসন-বণ্টন বা অংশীদার দলের নাম এখনও ঘোষণা করা হয়নি।

AIMIM উত্তরপ্রদেশে সাংগঠনিক সম্প্রসারণের ওপরও জোর দিয়েছে। জনসভা ও আঞ্চলিক কর্মসূচির মাধ্যমে রাজনৈতিক কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার কথা জানিয়েছে দলটি। অন্যদিকে, রাজ্যের প্রধান রাজনৈতিক দলগুলিও আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের জন্য নিজেদের কৌশল প্রস্তুত করছে।

এই পরিস্থিতিতে ২ অক্টোবর AIMIM-এর জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক তারিখ। ওই সময়ের মধ্যে দলটি জোট নিয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করতে পারে। আপাতত ওয়েইসি স্পষ্ট করেছেন যে AIMIM জোটের বিকল্প খোলা রাখছে এবং আগ্রহী রাজনৈতিক দলগুলির সঙ্গে আলোচনায় প্রস্তুত।

Leave a comment