টাইপ ২ ডায়াবেটিসের চিকিৎসায় ব্যবহৃত সেমাগ্লুটাইড-জাতীয় ওষুধ এখন ওজন কমাতেও জনপ্রিয়। কিন্তু দ্রুত ওজন কমার সঙ্গে সঙ্গে অনেকেই লক্ষ্য করছেন মুখের আকৃতিতে হঠাৎ পরিবর্তন—গাল বসে যাওয়া, চোখের নীচে ফাঁপা ভাব, ত্বক ঝুলে পড়া। এই অবস্থাকেই বলা হচ্ছে ‘Ozempic Face’। বিষয়টি নিয়ে মতামত দিয়েছেন প্লাস্টিক ও অ্যাস্থেটিক সার্জারি বিশেষজ্ঞ Dr. Anmol Chugh।
‘Ozempic Face’ আসলে কী?
চিকিৎসকদের মতে, এটি কোনও আলাদা রোগ নয়। দ্রুত ওজন কমলে শরীরের ফ্যাট কমে যায়, যার প্রভাব মুখেও পড়ে।
মুখের ত্বকের নীচে থাকা ফ্যাট স্তর হঠাৎ কমে গেলে—
গাল ঢুকে যায়
চোখের নীচে গভীরতা বাড়ে
ঠোঁটের পাশে ভাঁজ স্পষ্ট হয়
ত্বক আলগা ও ঝুলে পড়া দেখায়
অর্থাৎ, সমস্যার মূল কারণ ওষুধ নয়, বরং দ্রুত ভলিউম লস।
কেন দ্রুত ওজন কমলে সমস্যা বাড়ে?
বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শরীরে কোলাজেন, ইলাস্টিন ও হাড়ের ঘনত্ব কমতে থাকে। ৩৫ বছরের পর ত্বকের নমনীয়তাও হ্রাস পায়।
এই অবস্থায় হঠাৎ ওজন কমলে ত্বক আগের মতো টানটান হয়ে মানিয়ে নিতে পারে না। ফলে মুখে আগাম বার্ধক্যের ছাপ দেখা যায়।
তবে কি ওজেম্পিক ক্ষতিকর?
সব ক্ষেত্রে নয়।
টাইপ ২ ডায়াবেটিস ও স্থূলতায় ভোগা অনেকের জন্য এই ওষুধ হৃদরোগের ঝুঁকি কমায়, রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে রাখে এবং জয়েন্টের চাপ কমায়।
চিকিৎসকদের মতে, স্বাস্থ্যগত উন্নতি অনেক সময় চেহারার সাময়িক পরিবর্তনের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
কীভাবে ঝুঁকি কমাবেন?
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ—
ধীরে ও নিয়ন্ত্রিতভাবে ওজন কমান
পর্যাপ্ত প্রোটিন গ্রহণ করুন
নিয়মিত হালকা ওজন তোলার ব্যায়াম করুন
পর্যাপ্ত জল পান করুন
ত্বকের যত্নের রুটিন বজায় রাখুন
এতে কোলাজেন ক্ষয় কিছুটা কমানো সম্ভব।
প্রয়োজনে কী চিকিৎসা আছে?
যদি মুখে ভলিউম লস বেশি হয়, তাহলে—
ডার্মাল ফিলার
কোলাজেন-স্টিমুলেটিং ইনজেকশন
স্কিন টাইটেনিং ডিভাইস
প্রয়োজনে ফ্যাট ট্রান্সফার বা ফেসলিফট
এসব পদ্ধতিতে মুখের স্বাভাবিক ভারসাম্য ফিরিয়ে আনা যায়।
সবার ক্ষেত্রেই কি ‘Ozempic Face’ হয়?
জিনগত বৈশিষ্ট্য, বয়স, কত দ্রুত ও কতটা ওজন কমেছে—এসব বিষয়ের উপর ফলাফল নির্ভর করে। অনেকেই ওজন কমার পর আরও সতেজ দেখান, আবার কারও ক্ষেত্রে মুখে বার্ধক্যের ছাপ স্পষ্ট হয়।
Ozempic ও Wegovy-র মতো সেমাগ্লুটাইড-ভিত্তিক ওষুধ দ্রুত ওজন কমাতে সাহায্য করে। তবে অতিদ্রুত ওজন হ্রাসের ফলে অনেকের মুখে ‘Ozempic Face’ নামে পরিচিত ভলিউম লস ও ঝুলে যাওয়ার সমস্যা দেখা দিতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ওষুধ নয়—দ্রুত ফ্যাট লসই এর মূল কারণ।













