গরম পড়লেই অনেকের হাতের তালু ও পায়ের তলা ভিজে যায় ঘামে। এই সমস্যা শুধু অস্বস্তি বাড়ায় না, বরং মোজায় দুর্গন্ধ ও সংক্রমণের ঝুঁকিও তৈরি করে। চিকিৎসাবিজ্ঞানে এই অবস্থাকে বলা হয় Hyperhidrosis। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কারণ বুঝে সঠিক যত্ন নিলে এই সমস্যাকে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।

অতিরিক্ত ঘামের নেপথ্যে কী কারণ
বিশেষজ্ঞদের মতে, হাত ও পায়ে অতিরিক্ত ঘামের প্রধান কারণ হল ঘামগ্রন্থির অতিরিক্ত সক্রিয়তা।এই বিষয়ে ব্যাখ্যা দিয়েছেন Dr. Sonia Rawat, যিনি Sir Ganga Ram Hospital-এর প্রিভেন্টিভ হেলথ অ্যান্ড ওয়েলনেস বিভাগের ডিরেক্টর। তাঁর মতে, শরীরে থাকা এক্রিন গ্রন্থি অতিরিক্ত সক্রিয় হলে এই সমস্যা দেখা দেয়।
জেনেটিক্স ও খাদ্যাভ্যাসের প্রভাব
শুধু গরমই নয়, আরও বেশ কিছু কারণ অতিরিক্ত ঘামের জন্য দায়ী হতে পারে।জেনেটিক সমস্যা, থাইরয়েডের অসামঞ্জস্য, হরমোনের পরিবর্তন বা রক্তে শর্করার মাত্রা কম থাকলেও হাত-পায়ে ঘাম বাড়তে পারে। পাশাপাশি অতিরিক্ত ক্যাফেইন, ঝাল বা মশলাদার খাবারও শরীরে ঘাম বাড়িয়ে দিতে পারে।

পোশাক ও জুতোর দিকেও নজর জরুরি
বিশেষজ্ঞদের মতে, অনেক সময় ভুল পোশাক বা জুতা ব্যবহারের কারণেও সমস্যা বাড়ে।কৃত্রিম কাপড়ের মোজা বা নিম্নমানের রাবারের জুতা পায়ে বাতাস চলাচল বাধাগ্রস্ত করে। এতে ঘাম জমে ব্যাকটেরিয়ার সঙ্গে মিশে দুর্গন্ধ তৈরি হয়।
কীভাবে নিয়ন্ত্রণে রাখবেন সমস্যা
চিকিৎসকদের মতে, হাত ও পায়ের অতিরিক্ত ঘাম কমাতে কিছু সহজ নিয়ম মেনে চলা জরুরি।অ্যালুমিনিয়াম ক্লোরাইডযুক্ত অ্যান্টিপারস্পাইরেন্ট ব্যবহার করলে ঘামগ্রন্থি সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে ঘাম কমে। এছাড়া সুতির মোজা পরা এবং নিয়মিত জুতা বদলানোর অভ্যাসও উপকারী।

ঘরোয়া উপায়েও মিলতে পারে স্বস্তি
প্রাকৃতিক উপায়েও এই সমস্যা অনেকটাই কমানো যায়।ঠান্ডা জলে আপেল সিডার ভিনিগার বা ফিটকিরি মিশিয়ে তাতে হাত ও পা কিছুক্ষণ ভিজিয়ে রাখলে ত্বকের ছিদ্র শক্ত হয় এবং ঘাম কমতে পারে। তবে সমস্যা বেশি হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

গ্রীষ্মকালে হাত ও পায়ে অতিরিক্ত ঘাম অনেকের কাছেই বড় অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। চিকিৎসাবিজ্ঞানে এই সমস্যাকে বলা হয় হাইপারহাইড্রোসিস। বিশেষজ্ঞদের মতে, সঠিক পরিচর্যা, জীবনযাত্রার পরিবর্তন এবং কিছু সহজ ঘরোয়া উপায়ে এই সমস্যাকে অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।











