একটা সময় ছিল, যখন ভারতের বাজারে বিদেশি বিস্কুট ও ক্যান্ডিরই দাপট ছিল। সেই সময় দেশীয় ব্র্যান্ড হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছিল পার্লে। মুম্বইয়ের ছোট্ট একটি কারখানা থেকে শুরু হওয়া সেই যাত্রা আজ আন্তর্জাতিক বাজারেও পরিচিত নাম। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির হাত ধরে ‘মেলোডি’ ফের ভাইরাল হতেই নতুন করে সামনে এসেছে পার্লের ইতিহাস, মালিকানা এবং ব্যবসায়িক সাফল্যের গল্প।
ভিলে পার্লে থেকে ‘পার্লে’ নামের জন্ম
এলাকার নাম থেকেই সংস্থার নাম রাখা হয় ‘পার্লে’। প্রথমদিকে মাত্র ১২ জন কর্মী নিয়ে শুরু হয়েছিল উৎপাদন, যাঁদের অধিকাংশই ছিলেন পরিবারের সদস্য।
জার্মানি থেকে শেখা প্রযুক্তিতে তৈরি হয়েছিল প্রথম কারখানা
মোহনলাল চৌহান মিষ্টান্ন তৈরির আধুনিক কৌশল শিখতে জার্মানিতে যান। সেখান থেকে প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি আমদানি করে ভারতে ফেরেন। সেই সময় প্রায় ৬০ হাজার টাকা খরচ করে আনা সেই মেশিন দিয়েই শুরু হয় পার্লের উৎপাদন। স্বাধীনতার আগেই ভারতীয় বাজারে দেশীয় ব্র্যান্ড হিসেবে নিজেদের জায়গা তৈরি করতে শুরু করে সংস্থাটি।
পার্লে-জি বদলে দেয় ভারতীয় বিস্কুটের বাজার
১৯৩৮ সালে বাজারে আসে ‘পার্লে গ্লুকো’। পরে সেটির নাম বদলে হয় ‘পার্লে-জি’। দীর্ঘদিন ধরে এটি দেশের সর্বাধিক বিক্রিত বিস্কুট হিসেবে পরিচিত ছিল। পার্লে-জির ‘জি’ অক্ষরটি এসেছে ‘গ্লুকোজ’ শব্দ থেকে। কম দামে সহজলভ্য হওয়ায় গ্রাম থেকে শহর— সর্বত্র জনপ্রিয় হয়ে ওঠে এই বিস্কুট।
ক্র্যাকজ্যাক, মেলোডি, ম্যাঙ্গো বাইট— একের পর এক হিট পণ্য
১৯৭২ সালে বাজারে আসে ‘ক্র্যাকজ্যাক’। এরপর ১৯৮৩ সালে পার্লে নিয়ে আসে ‘মেলোডি’ চকোলেট, যা এখনও সমান জনপ্রিয়। ১৯৮৬ সালে ‘ম্যাঙ্গো বাইট’ ভারতের প্রথম আমের ক্যান্ডি হিসেবে বাজারে আলোড়ন ফেলে। পরে ‘হাইড অ্যান্ড সিক’, ‘২০-২০’, ‘ম্যাজিকস’ এবং ‘পার্লে প্লাটিনা’-র মতো পণ্য সংস্থার ব্যবসাকে আরও শক্তিশালী করে তোলে।
আজও চৌহান পরিবারের হাতেই সংস্থার নিয়ন্ত্রণ
সময়ের সঙ্গে ‘হাউস অফ পার্লে’ তিনটি আলাদা সংস্থায় ভাগ হয়ে যায়— পার্লে প্রোডাক্টস, পার্লে এগ্রো এবং পার্লে বিসলেরি। বর্তমানে পার্লে প্রোডাক্টস পরিচালনা করছেন বিজয় চৌহান, শারদ চৌহান ও রাজ চৌহান। ফোর্বসের তথ্য অনুযায়ী, বিজয় চৌহান ও তাঁর পরিবারের সম্পদের পরিমাণ কয়েক বিলিয়ন ডলার ছুঁয়েছে।
কোটি টাকার ব্যবসায় আজও আবেগের নাম পার্লে
২০২৫ অর্থবর্ষে পার্লে প্রোডাক্টসের রাজস্ব ১৫ হাজার কোটির গণ্ডি পেরিয়েছে। ভারতের বিস্কুট ও কনফেকশনারি বাজারে এখনও অন্যতম শক্তিশালী নাম এই সংস্থা। তবে শুধুই ব্যবসা নয়, বহু ভারতীয়র শৈশবের স্মৃতি, স্কুল টিফিন কিংবা ট্রেনযাত্রার সঙ্গী হিসেবেও পার্লে আজ আবেগের নাম।
ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনিকে ‘মেলোডি’ চকোলেট উপহার দেওয়ার পর ফের চর্চায় পার্লে। ১৯২৯ সালে মাত্র ১২ জন কর্মী নিয়ে শুরু হওয়া এই সংস্থা আজ ভারতের অন্যতম জনপ্রিয় বিস্কুট ও কনফেকশনারি ব্র্যান্ড। পার্লে-জি, ক্র্যাকজ্যাক, মেলোডি, ম্যাঙ্গো বাইট— একের পর এক জনপ্রিয় পণ্যের হাত ধরে কোটি কোটি ভারতীয়র ঘরে পৌঁছে গিয়েছে এই সংস্থা।










