পাটকাপাড়ায় চলন্ত স্কুল ভ্যানে আগুন! চালকের তৎপরতায় অল্পের জন্য রক্ষা ছোট পড়ুয়ারা

আলিপুরদুয়ারের পাটকাপাড়ায় চলন্ত স্কুল ভ্যানে আচমকা আগুন। চালকের তৎপরতায় অল্পের জন্য রক্ষা পায় একাধিক পড়ুয়া। দমকল এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।

স্কুল ছুটির পর বাড়ি ফেরার পথে আচমকা দাউ দাউ করে জ্বলে ওঠে স্কুল ভ্যান। কয়েক সেকেন্ডের ভুল সিদ্ধান্তেই হতে পারত বড় দুর্ঘটনা। কিন্তু চালকের উপস্থিত বুদ্ধিতেই প্রাণে বাঁচল একাধিক পড়ুয়া। আলিপুরদুয়ারের পাটকাপাড়া এলাকায় বৃহস্পতিবার এই ঘটনায় বাঁধভাঙা আতঙ্ক ছড়ায় অভিভাবক থেকে সাধারণ মানুষের মধ্যে।

পাটকাপাড়ায় চলন্ত স্কুল ভ্যানে আগুন! চালকের তৎপরতায় অল্পের জন্য রক্ষা ছোট পড়ুয়ারা

চলন্ত গাড়িতে আচমকা আগুন, আতঙ্কে ছোট্ট পড়ুয়ারা

আলিপুরদুয়ারের পাটকাপাড়া অঞ্চলে বৃহস্পতিবার বিকেলে রীতিমতো থমথমে পরিবেশ তৈরি হয়। স্কুল ছুটি হয়ে যাওয়ার পরে বাচ্চাদের নিয়ে ফিরছিল একটি বেসরকারি স্কুল ভ্যান। ঠিক সেই সময় জঙ্গলের মধ্যবর্তী একটি নির্জন রাস্তায় হঠাৎই গাড়ির সামনে থেকে ঘন কালো ধোঁয়া বের হতে দেখা যায়। প্রথমে ভেবেছিলেন হয়তো ইঞ্জিন গরম হয়ে ধোঁয়া উঠছে। কিন্তু মুহূর্তের মধ্যেই ধোঁয়ার মাত্রা বাড়তে শুরু করে।

পড়ুয়াদের বাঁচাতে চালকের দ্রুত সিদ্ধান্ত

পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে কোনও দেরি না করে গাড়ি থামিয়ে দেন চালক। তারপর দ্রুততার সঙ্গে একে একে সব পড়ুয়াকে গাড়ি থেকে নামিয়ে দূরে সরে যেতে বলেন। মাত্র কয়েক মুহূর্তের ব্যবধানে দেখা যায়, আগুন লেগে দাউ দাউ করে জ্বলছে স্কুল ভ্যানটি। নিজের চোখের সামনে আগুনের তীব্রতা দেখে কান্নায় ভেঙে পড়ে ছোটছোট পড়ুয়ারা।চালকের দৃঢ় সিদ্ধান্ত না থাকলে কী ভয়াবহ বিপদ ঘটতে পারত, তা ভাবতেই শিউরে উঠছেন স্থানীয়রা।

পাটকাপাড়ায় চলন্ত স্কুল ভ্যানে আগুন! চালকের তৎপরতায় অল্পের জন্য রক্ষা ছোট পড়ুয়ারা

পথ চলতি মানুষও এগিয়ে এলেন সাহায্যে

ঘটনার সময় রাস্তায় থাকা অন্য গাড়ির চালকরাও তৎক্ষণাৎ গাড়ি থামিয়ে এগিয়ে আসেন। চারদিক থেকে মানুষ ভিড় জমালেও কেউই বিপজ্জনকভাবে গাড়ির কাছে যাননি। দ্রুত খবর দেওয়া হয় দমকলকে।তাঁরা সকলেই শিশুপড়ুয়াদের নিরাপদ দূরত্বে সরিয়ে রাখেন এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করেন। আতঙ্কে কাঁদতে থাকা বাচ্চাদের সান্ত্বনা দেওয়ার দায়িত্বও নেয় স্থানীয় মানুষ।

দ্রুত পৌঁছে যায় দমকল, আধঘণ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে

খবর পেয়ে কিছুক্ষণের মধ্যেই পৌঁছে যায় দমকল কর্মীরা। আগুন নেভানোর কাজ শুরু হয় যুদ্ধকালীন তৎপরতায়। প্রায় ৩০ মিনিটের মধ্যেই আগুন সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আসে।

দমকল সূত্রের প্রাথমিক অনুমান—

গাড়ির কোনও যান্ত্রিক ত্রুটির কারণেই আগুন লাগে।

যদিও সঠিক কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

উপস্থিত পুলিশ ও ছুটে আসা অভিভাবকদের উৎকণ্ঠা

ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই পুলিশ ঘটনাস্থলে হাজির হয়। খবর পেয়ে একের পর এক অভিভাবক ছুটে আসেন। সন্তানদের কাঁদতে কাঁদতে জড়িয়ে ধরেন অনেকে। অল্পের জন্য বড় দুর্ঘটনা থেকে বেঁচে গিয়েছে তাঁদের সন্তানেরা— উপলব্ধি করে চোখে জল আসে বহু অভিভাবকের।

প্রশংসার পাহাড় চালকের সিদ্ধান্তগতি নিয়ে

দমকল, পুলিশ ও স্থানীয় মানুষ— সকলেই একবাক্যে জানিয়েছেন,

“চালকের বুদ্ধিমত্তা ও তৎপরতা না থাকলে আজ বড় বিপদ ঘটতেই পারত।”

সেই চালকের উপস্থিত বুদ্ধির জন্যই আজ হাসিমুখে বাড়ি ফিরতে পেরেছে সমস্ত পড়ুয়া।

পাটকাপাড়ায় চলন্ত স্কুল ভ্যানে আগুন! চালকের তৎপরতায় অল্পের জন্য রক্ষা ছোট পড়ুয়ারা

আলিপুরদুয়ারের পাটকাপাড়ায় একটি বেসরকারি স্কুল ভ্যানে আচমকা আগুন ছড়ালে চাঞ্চল্য তৈরি হয়। জঙ্গলের রাস্তার মধ্যে কালো ধোঁয়া দেখে চালকের দ্রুত বুদ্ধিমত্তায় নিরাপদে নামানো হয় শিশুদের। দমকল এসে আধঘণ্টার মধ্যে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।

 

Leave a comment