মানুষ আর পোষ্যের সম্পর্ক যে কতটা গভীর হতে পারে, তার এক অনন্য নজির গড়ল পূর্ব মেদিনীপুর। প্রিয় সারমেয় ‘ঘন্টু’-র মৃত্যুর পর তাকে পরিবারের সদস্যের মর্যাদা দিয়ে পূর্ণাঙ্গ শ্রাদ্ধানুষ্ঠানের আয়োজন করলেন কৃষ্ণেন্দু বেরা। উপনিষদ পাঠ থেকে শুরু করে সারমেয় ভোজন—সব মিলিয়ে গ্রাম জুড়ে তৈরি হল আবেগঘন পরিবেশ।
![]()
সিনেমার গল্প যেন বাস্তবে—চার্লির ছায়া ঘন্টুর জীবনে
কন্নড় ছবি ‘777 Charlie’-র মতোই কৃষ্ণেন্দু ও ঘন্টুর সম্পর্ক ছিল গভীর ও আবেগঘন। একাকী জীবনে পথকুকুর ঘন্টুই হয়ে উঠেছিল তাঁর সঙ্গী। ধীরে ধীরে সেই সম্পর্ক পরিবারকেও ছুঁয়ে যায়। স্ত্রী ও সন্তানের কাছেও ঘন্টু হয়ে ওঠে আপনজন।
হঠাৎ বিদায়, ভেঙে পড়ল পরিবার
কয়েক মাস আগে ঘন্টুর মৃত্যু গোটা পরিবারকে শোকস্তব্ধ করে দেয়। শুধু পোষ্য নয়, পরিবারের এক সদস্যকে হারানোর যন্ত্রণা অনুভব করেন সকলে। শোক পালনে অশৌচ মানা থেকে শুরু করে নানা রীতি পালন করেন বেরা পরিবার।
![]()
উপনিষদ পাঠে শ্রদ্ধাঞ্জলি, ধর্মীয় রীতিতে শেষ বিদায়
ঘন্টুর আত্মার শান্তি কামনায় আয়োজিত হয় দিনভর উপনিষদ পাঠ। উপস্থিত ছিলেন ভারত সেবাশ্রম সংঘের মহারাজ স্বামী মুক্তেশ্বরানন্দ। ধর্মীয় আচার মেনে আহুতি দেন পরিবারের সদস্যরা, যা এই ঘটনাকে আরও তাৎপর্যপূর্ণ করে তোলে।
স্মৃতিতে বৃক্ষরোপণ—প্রকৃতির মাঝে বাঁচবে ঘন্টু
শুধু শ্রাদ্ধ নয়, ঘন্টুর স্মৃতিকে চিরস্থায়ী করতে তার সমাধিস্থলে বৃক্ষরোপণ করা হয়। পাশাপাশি অতিথিদের মধ্যে চারা গাছ বিতরণ করা হয়। এই উদ্যোগ পরিবেশ সচেতনতার বার্তাও দেয়।
সারমেয় ভোজন—বন্ধুদের জন্য বিশেষ আয়োজন
এই অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ ছিল পথকুকুরদের ভোজনের আয়োজন। আশেপাশের বহু সারমেয়কে আমন্ত্রণ জানিয়ে তাদের আপ্যায়ন করা হয়, যা এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।
![]()
বাংলাদেশ থেকেও এলেন অতিথিরা
কৃষ্ণেন্দুর শ্বশুরবাড়ি বাংলাদেশে হওয়ায়, সেখান থেকেও অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন রেজিস্টার প্রবীর কুমার সরকার-সহ বহু বিশিষ্ট ব্যক্তি এই অনুষ্ঠানে যোগ দেন।
আমন্ত্রণপত্র, রবীন্দ্রসঙ্গীত—মানুষের মতোই সম্মান
ঘন্টুর শ্রাদ্ধ উপলক্ষে বিশেষ আমন্ত্রণপত্র ছাপানো হয়। অনুষ্ঠানে বাজানো হয় রবীন্দ্রসঙ্গীত, রাখা হয় ঘন্টুর ছবি—সব মিলিয়ে তাকে পরিবারের সদস্য হিসেবেই শেষ সম্মান জানানো হয়।
![]()
পোষ্য কুকুর ‘ঘন্টু’-র মৃত্যুর পর তাকে সন্তানের মতোই শ্রদ্ধা জানাল পূর্ব মেদিনীপুরের কৃষ্ণেন্দু বেরা। শ্রাদ্ধানুষ্ঠানে উপনিষদ পাঠ, বৃক্ষরোপণ ও পথকুকুরদের ভোজনের আয়োজন ঘিরে আবেগঘন পরিবেশ তৈরি হয় সুতাহাটার দ্বারিবেড়িয়া গ্রামে।











