বাংলার ঘরে ঘরে কালী আরাধনার বহু রূপের মধ্যে ফলহারিণী কালীপুজোর মাহাত্ম্য আলাদা। জ্যৈষ্ঠ মাসের অমাবস্যা তিথিতে পালিত এই পুজোকে ঘিরে থাকে গভীর আধ্যাত্মিক বিশ্বাস। এ বছর সেই তিথি পড়েছে শনিবারে, ফলে শনিজয়ন্তী ও শনিচরী অমাবস্যার বিশেষ যোগে এই পুজোর গুরুত্ব বেড়েছে কয়েক গুণ। শাস্ত্র মতে, এই দিনে মা কালীর পুজোয় নির্দিষ্ট কিছু ফল নিবেদন করলে দূর হতে পারে জীবনের দুঃসময়।
জ্যৈষ্ঠ অমাবস্যায় বিশেষ শুভযোগ
বিশুদ্ধ সিদ্ধান্ত পঞ্জিকা অনুযায়ী, ১৬ মে ভোর ৫টা ১৩ মিনিট থেকে শুরু হবে জ্যৈষ্ঠ অমাবস্যা তিথি। এই তিথি চলবে ১৭ মে রাত ১টা ৩১ মিনিট পর্যন্ত। আবার গুপ্তপ্রেস পঞ্জিকা মতে, অমাবস্যা শুরু হবে শনিবার ভোর ৪টে নাগাদ এবং মধ্যরাত পর্যন্ত এই পুণ্যক্ষণ বজায় থাকবে।শনিবারে অমাবস্যা পড়ায় শনি-সংক্রান্ত বিশেষ যোগ তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন জ্যোতিষীরা। তাই এ দিনের কালী আরাধনা জীবনের বাধা কাটিয়ে শুভ ফল এনে দিতে পারে বলেই বিশ্বাস।
কেন ‘ফলহারিণী’ নামে পূজিতা হন মা কালী?
‘ফলহারিণী’ শব্দের অর্থ— যিনি অশুভ কর্মফল হরণ করেন। শাস্ত্র মতে, জ্যৈষ্ঠ অমাবস্যায় মা কালীর এই বিশেষ রূপের পুজো করলে জীবনের নেতিবাচক শক্তি দূর হয় এবং শুভ শক্তির আগমন ঘটে।ভক্তদের বিশ্বাস, এই দিনে নিষ্ঠাভরে উপবাস ও পুজো করলে সংসারে ধন-সম্পদ, সুখ-শান্তি ও মানসিক স্থিতি ফিরে আসে। অনেকেই এই তিথিকে ‘মোক্ষদায়িনী’ হিসেবেও মনে করেন।
মা কালীর চরণে কোন ৩ ফল নিবেদন করবেন?
ফলহারিণী কালীপুজোয় মরশুমি ফলের বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। জ্যোতিষ বিশেষজ্ঞদের মতে, এ দিন মা কালীর পায়ে বিজোড় সংখ্যায় এই তিন ফল নিবেদন করা অত্যন্ত শুভ—
আম
জাম
লিচু
এই তিন ফল একসঙ্গে নিবেদন করতে পারলে তা অত্যন্ত ফলদায়ক বলে মনে করা হয়। তবে কোনও ফল না পেলে আপেল বা পেয়ারাও নিবেদন করা যেতে পারে।
প্রদীপ জ্বালালেই দূর হবে অশুভ শক্তি!
বিশ্বাস করা হয়, অমাবস্যার সন্ধ্যা থেকে বাড়ির মূল দরজায় একটি প্রদীপ জ্বালিয়ে রাখলে অশুভ শক্তির বিনাশ ঘটে। সারারাত প্রদীপ জ্বালিয়ে রাখলে পরিবারে ইতিবাচক শক্তির প্রবেশ ঘটে এবং গৃহে শান্তি বজায় থাকে।এছাড়াও, যে ফল দিয়ে পুজো করা হবে, সেই মনস্কামনা এক বছরের মধ্যে পূরণ হলে প্রসাদী ফল গঙ্গাজলে বিসর্জন দেওয়ারও রীতি রয়েছে বহু পরিবারে।
২০২৬ সালের ফলহারিণী কালীপুজো এবার পড়েছে শনিবারের জ্যৈষ্ঠ অমাবস্যায়। জ্যোতিষ ও শাস্ত্রমতে, এই বিশেষ তিথিতে মা কালীর আরাধনা করলে দূর হয় অশুভ শক্তি, সংসারে আসে সুখ-শান্তি ও অর্থসমৃদ্ধি। বিশেষ করে আম, জাম ও লিচু নিবেদন করলে মনস্কামনা পূরণের সম্ভাবনা বাড়ে বলেই বিশ্বাস ভক্তদের।













